আরববিশ্ব জুড়ে

মহানবীর রওজা সরানোর পরিকল্পনার খবর ভিত্তিহীন ও গুজব বললো সৌদি আরব

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: মুসলিম সম্প্রদায়ের পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর রওজা ভেঙে তার দেহাবশেষ সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনার খবর নাকচ করে দিয়েছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববী পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আহমাদ মোহাম্মদ আল-মানসুরির বরাত দিয়ে সৌদি গেজেট, আল-আরাবিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার এ কথা জানায়।

আল-মানসুরি বলেন, একজন শিক্ষাবিদের দেয়া ওই প্রস্তাব সৌদি আরব সরকারের নির্দেশনার প্রতিফলন নয়। প্রস্তাবটি ওই শিক্ষাবিদের একান্তই নিজস্ব বলেও মন্তব্য করেন আল মানসুরি।

গত মঙ্গলবার বৃটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও ডেইলি মেইল এক প্রতিবেদনে জানায়, মদিনায় মহানবীর (সা.) সমাধিক্ষেত্র ভেঙে তার দেহাবশেষ অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেয়ার একটি প্রস্তাব মসজিদে নববী পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। দেশটির এক শিক্ষাবিদের সঙ্গে আলোচনার পর প্রস্তাবটি সরকারের কাছে পাঠানো হয় বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। গুরুত্বের দিক থেকে মুসলমানদের কেবলা কাবা শরিফের পরই মসজিদে নববীর স্থান। এখানেই রয়েছে মহানবীর (সা.) রওজা বা সমাধি। প্রতিবছর হজের সময় লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলিম স্থানটি জিয়ারত করেন। নিয়ামানুযায়ী সৌদি আরবের বর্তমান বাদশা আবদুল্লাহ এর অভিভাবক।

আল-আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৫ অগাস্ট  সৌদি আরবের দৈনিক ‘মক্কা’য় প্রকাশিত আরবি ভাষার একটি প্রতিবেদন ‘চুরি’ করে প্রকাশ করতে গিয়ে ইনডিপেনডেন্ট ভুল অনুবাদ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন সৌদি পত্রিকাটির সম্পাদক মোওয়াফাক আল নোয়াসা।

ওই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় ইনডিপেনডেন্টের উপ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক উইল গোর বুধবার আল-আরাবিয়াকে জানান, এক সপ্তাহ আগেও তারা মক্কা’র প্রতিবেদনটি সম্পর্কে জানতেন না। বৃটিশ দৈনিকটির দাবি, প্রতিবেদনটি ছিল তাদের বিশেষ প্রতিবেদন এবং যুক্তরজ্যের অনেক গণমাধ্যম পরে তাদের বরাত দিয়ে সেটি প্রকাশ করেছে। ইনডিপেনডেন্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য ছিল না।

তবে আল-আরাবিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে সরকারি একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, মহানবীর (সা.) রওজা সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি এক শিক্ষাবিদের নিজস্ব মতামত ছাড়া আর কিছুই নয়। সরকার ওই ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা নেয়নি। মহানবীর রওজা সরিয়ে নেয়ার খবর পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সৌদি সরকারের এ পরিকল্পনার প্রতিবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়। এ পরিকল্পনার ব্যাখ্যা চেয়ে সময় বেঁধে দিয়ে সুন্নী আদর্শভিত্তিক সংগঠন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ঢাকায় সৌদি দূতাবাস ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেয়।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close