অন্য পত্রিকা থেকে

বন্যার ব্যাপক প্রভাব কাঁচাবাজারে, দামও চড়া

বন্যার ব্যাপক প্রভাব কাঁচাবাজারে, দাম চড়া

আবু খালিদ: সিরাজগঞ্জ জেলার সবজি চাষী রিয়াজুলের পাঁচ বিঘার সবজিক্ষেত এখন পানির নীচে। বন্যার কবলে না পড়লে এই সময়ে প্রতিদিন ক্ষেত থেকে সবজি সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করতেন। হতাশ রিয়াজুল জানান, চলতি বছরে এই সবজিক্ষেতের আয় দিয়ে রবি মৌসুমের ফসল আবাদ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সব ভেস্তে গেছে বন্যায়।

দেশের প্রায় ১৭টি জেলার বন্যাকবলিত এলাকার কৃষকদেরও অবস্থা রিয়াজুলের মতেই। এতে বাজারে চাহিদা মতো সরবরাহ হচ্ছে না কাঁচাপণ্য। ফলে দাম বাড়ছে ঊর্দ্ধগতিতে। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত তিন সপ্তাহ ধরে লাল, পুঁই শাকসহ বিভিন্ন সবজির দাম হাতের নাগালের বাইরে চলে গেছে। আর এক মাস ধরে কাঁচামরিচের দামের ঝাঁঝে রীতিমত অতিষ্ট হয়ে গেছেন ক্রেতারা।

বিক্রেতাদের দাবি বন্যায় কাঁচাসবজির ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় প্রতিনিয়ত দাম বাড়ছে। ফলে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দাম। প্রায় প্রতিটি পণ্যেই ১০ থেকে ১৫ টাকা বাড়তি দরে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

মহাখালী কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা লিটন জানান, প্রতি আটি লাল ও পুঁই শাকের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে ২০ ও ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে কেজিপ্রতি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন পণ্যের এই ঊর্ধ্বগতি।

গুলাশান মিরপুর কাঁচাবাজার থেকে বাজার করে বাড়ি ফিরছিলেন শ্যাওরাপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, যেদিন বাজারে যাই সেদিনই বিক্রেতারা একটা না একটা অজুহাতে কাঁচাপণ্যের দাম বেশি নিচ্ছে। আর কাঁচামরিচের দাম তো বলে লাভ নেই। তাদের মতো মধ্যবিত্তদের এখন বাজার করা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।

কাঁচাসবজি: বাজার ঘুরে দেখা যায়, কেজিপ্রতি টমেটো ১১০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বরবটি ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা, ঝিঙ্গা ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা, গাজর ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা, আলু (সাদা) ২৪ থেকে ২৫ টাকা, লাল ৩৫ টাকা, কুরিকচু ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ঢেড়স ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা, কাকরল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, কচুর লতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ধনেপাতা একশ গ্রাম বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। প্রতিটি লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা, পাতা কপি ৪০ ও ফুল কপি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়।

চাল: বৃহস্পতিবার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিপণন বিভাগ সূত্র জানায়, বাজারে কেজিপ্রতি সরু চাল (মিনিকেট, নাজিরশাইল) ৪৬ থেকে ৫৪ টাকা, মাঝারী চাল (পারিজা, হাসকি, বিআর ২৮) ৩৮ থেকে ৪২ টাকা, মোটা চাল (গুটি, স্বর্ণা) ৩৫ থেকে ৩৭ টাকা, সুগন্ধি চাল (কালিজিরা, চিনিগুড়া) ৮০ থেকে ৯০ টাকা টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া খোলা আটা কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৩৩ টাকা, ময়দা ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা, মশুরের ডাল (দেশি ও বিদেশি) ১০৫ থেকে ১১০ টাকা, দেশি (সাধারণ) ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ: মাছের বাজারও চড়া। বিপণন অধিদপ্তরের মতে, রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কেজিপ্রতি রুই (দেশি) এক থেকে দুই কেজি ওজনের ২২০ থেকে ৩৪০ টাকা, রুই (আমদানি) দেড় কেজি থেকে তিন কেজি ওজনের ২০০ থেকে ৩২০ টাকা, কাতল (দেশি) এক থেকে দুই কেজি ওজনের ২২০ থেকে ৩৪০ টাকা, ইলিশ ৪০০ গ্রাম থেকে ৮০০ গ্রাম ৫০০ থেকে ৮৫০ টাকা, পাংগাস (চাষকরা) এক থেকে দুই কেজি ওজনের ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, সিলভার কার্প ও ব্রিগেড ১৪০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, কৈ (চাষ) ২০০ থেকে ২৬০ টাকা, চিংড়ি (ছোট) ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে কেজিপ্রতি ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, দেশি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, গরুর মাংস ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, খাসির মাংস ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৩ থেকে ৪৫ টাকায়।

আর লিটারপ্রতি খোলা সয়াবিন তেল ৮৮ থেকে ৯০ টাকা, পাম তেল ৭৩ থেকে ৭৪ টাকা, সরিষার তেল ১৩০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close