এশিয়া জুড়ে

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তি সঙ্কটে

নিউজ ডেস্ক: হাজার কোটি রূপির সারদা কেলেংকারি নিয়ে আদালতে নিজের দলের নেতা ও এক সময়ের ঘনিষ্টজন কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক বক্তব্যে সঙ্কটে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তি।
তৃণমূলের বরখাস্ত হওয়া সাংসদ কুণাল শনিবার কলকাতার সিবিআই আদালতে হাজিরা শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, সারদা মিডিয়ার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুবিধা যদি সবচেয়ে বেশি কেউ পেয়ে থাকেন, তার নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরিই দাবি তোলেন, তার আর সারদা প্রধান সুদীপ্ত সেনের মুখোমুখি করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।

২০১৩ সালের এপ্রিলে সারদা কেলেংকারির খবর প্রকাশ হওয়ার পর এই প্রথম সরাসরি মমতার দিকে আঙুল উঠল, যাকে সততার প্রতীক হিসাবে দেখিয়ে আসছিল পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। মাত্র একদিন আগেই মমতা অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যমগুলো তার এবং তার দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার শুরু করেছে। দলের ভেতর পচা আম থাকলে তাদের বাদ দেয়া হবে বলেও অনুসারীদের শাসিয়ে দেন দিদি। গত বছর বাংলা নববর্ষের দিন পশ্চিমবঙ্গের তারা নিউজ, তারা মিউজিক ও সাউথ এশিয়া টেলিভিশন বন্ধ হয়ে গেলে এর মালিক প্রতিষ্ঠান সারদা গ্রুপের কেলেংকারির খবর একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে।

জানা যায়, এই গ্রুপের এমএলএম  কোম্পানি ‘সারদা সম্পদ’ অল্প সময়ে বেশি লাভের লোভ দেখিয়ে বেআইনিভাবে আমানত সংগ্রহের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি রুপি হাতিয়ে নিয়েছে। এ নিয়ে শোরগোলের মধ্যে সারদা গ্রুপের চেয়ারম্যান সুদীপ্ত সেন ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে একটি চিঠি লিখে লাপাত্তা হয়ে যান, যে চিঠিতে তৃণমূলের সংসদ সদস্য কুণাল ঘোষ এবং সংবাদ প্রতিদিনের সম্পাদক সঞ্জয় বসুর নাম আসে।

Trinamool-MP-Kunal-Ghosh-ed.jpgপরে তদন্তে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সারদার আরেক সংস্থা সারদা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস বাজার থেকে ১ হাজার ২৫৯ কোটিরও বেশি রুপি আমান হিসাবে তোলে এবং পরে তা স্থানান্তর করা হয় গণমাধ্যম ব্যবসায়। আর ওই কাজে সাবেক সাংবাদিক কুণাল ছিলেন সুদীপ্তর অন্যতম সঙ্গী।

পরে ব্যাপক লোকসানের কথা বলে সারদা মিডিয়ার সবগুলো টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্র বন্ধের ঘোষণা দেন সুদীপ্ত সেন। শনিবার কলকাতার জনাকীর্ণ আদালতে দাঁড়িয়ে বিচারক অরবিন্দ মিশ্রর কাছে আত্মপক্ষ সমর্থণের সুযোগ চান কুণাল ঘোষ। সেই সুযোগ পেয়ে এক দমে প্রায় ১৫ মিনিট বলে যান তিনি।

এক সময় মমতার ডানহাত হিসাবে পরিচিত কুণাল বলেন, তিনি জামিন চান না। বরং মনে করেন, তার এবং সারদার সিইও সুদীপ্ত সেনের সামনে এনে মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিৎ। আর সুদীপ্ত নিজেকে সারদার বেতনভুক্ত কর্মচারী উল্লেখ করে আদালতে বলেন, তহবিল স্থানান্তরের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এদিকে আদালতে কুণালের ওই বক্তব্য মমতাবিরোধীদের হাতে মোক্ষম অস্ত্র তুলে দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলীয় নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সৎ সাহস থাকলে তিনি কুণালের প্রস্তাবে রাজি হবেন। কিন্তু উনি সেই সাহস দেখাবেন কি? পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি রাহুল সিংও কথা বলেছেন একই সুরে। তার ভাষায়, মুখ্যমন্ত্রীর এখন কুণালের ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করা উচিৎ।

রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, কুণাল ঘোষের প্রস্তাবকে আমরা স্বাগত জানাই। মুখ্যমন্ত্রীকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি আসলেই পরিষ্কার। সিবিআইযের উচিৎ মুখ্যমন্ত্রীকে কুণাল আর সুদীপ্তর মুখোমুখি করা। সারদা কেলেংকারি নিয়ে যা যা জানেন তা সিবিআইকে বলতে মমতার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিপিএম নেতা মো. সালিম। বিরোধীদের এই আক্রমণের মুখে নেত্রীর পক্ষে মুখ খুলেছেন তৃণমূল নেতারাও।

দলের মহাসচিব ও পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, কুণাল বুঝতে পেরেছেন যে শাস্তি হবেই। তাই খড়কুটোর মতো মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে রেখে বাঁচার চেষ্টা করছেন। রাতে আবার এর পাল্টা জবাব দিয়েছেন কুণাল আমার এত দুরবস্থা হয়নি! মমতার হয়ে ব্যাট ধরে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, কুণাল ঘোষ একটা অপরাধী।

একটা লোক জেল থেকে কী বলল, সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করাটা অন্যায়। এর পরে তিনি এ দিনও জোর গলায় বলেন, তিনি (মমতা) সততার প্রতীক। তিনি কোনও অন্যায় করেননি। করতে পারেন না। আর নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, যে ওই কথা বলছে, সে নিজেই সারদা কেলেংকারির প্রধান আসামি। তার কথায় আমি গুরুত্ব দিচ্ছি না।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close