Featuredআরববিশ্ব জুড়ে

নিজেদের ভাগ্যে নিজেরাই সিল মেরেছে আইএস

হত্যাযজ্ঞকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের যুদ্ধ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চেয়েছে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিরা। কিন্তু তাদের পরিকল্পনা নিজেদের জন্য বুমেরাং হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

হত্যাযজ্ঞকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের যুদ্ধ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চেয়েছে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিরা। কিন্তু তাদের পরিকল্পনা নিজেদের জন্য বুমেরাং হয়েছে। ছবি: রয়টার্সযুক্তরাষ্ট্রের দুই সাংবাদিককে শিরশ্ছেদ ও ভিডিও প্রকাশ করে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিরা নিজেরাই নিজেদের বিপদ ডেকে এনেছে।

কলাম লেখক ও আমেরিকান টাস্ক ফোর্স অন প্যালেস্টাইনের জ্যেষ্ঠ ফেলো হুসেন ইবিস এক নিবন্ধে এ মত ব্যক্ত করেছেন। সম্প্রতি নিবন্ধটি নাও লেবানন-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গত বুধবার টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ‘নির্মম’ যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। গোষ্ঠীটিকে নির্মূল করতে ইরাকের মতো সিরিয়ায়ও বিমান হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

হুসেন ইবিস তাঁর নিবন্ধে উল্লেখ করেন, যুদ্ধের প্রতি বীতশ্রদ্ধ মার্কিন জনগণের মতামতে সম্প্রতি নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। এ জন্য আইএসের যোদ্ধারাই দায়ী। তারা মার্কিন সাংবাদিক জেমস ফলি ও স্টিভেন সটলফের শিরশ্ছেদ করেই ক্ষান্ত নয়, ওই বর্বর কাণ্ডের ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে প্রকাশ করেছে। এতে যুদ্ধের ব্যাপারে ত্যক্তবিরক্ত মার্কিন জনগণের মন ঘুরে গেছে।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও এবিসি নিউজ পরিচালিত জরিপের ফলে দেখা গেছে, ৭১ শতাংশ মার্কিন জনগণ ইরাকে আইএসের অবস্থানে বিমান হামলার পক্ষে মত দিয়েছেন। তিন সপ্তাহ আগে এই সংখ্যা ছিল ৫৪ শতাংশ। গত জুনে ছিল ৪৫ শতাংশ।

৬৫ শতাংশ মার্কিনি আইএসের বিরুদ্ধে বিমান হামলা ছাড়াও আরও কঠোর ব্যবস্থার পক্ষে মত দিয়েছেন।  আইএসের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে অন্যান্য জনমত জরিপের ফলাফলেও এই নাটকীয় পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে।  ইরাকে নাস্তানাবুদ হয়ে সেখান থেকে সেনা গুটিয়ে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলছে। সিরিয়ার যুদ্ধ থেকে দূরে থেকেছে ওয়াশিংটন।

এসব বিবেচনায় নিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠীটি চেয়েছে, নির্মম হত্যাযজ্ঞকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আইএসবিরোধী যুদ্ধে জড়ানো থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে। কিন্তু গোষ্ঠীটির এই পরিকল্পনা নিজেদের জন্য বুমেরাং হয়েছে। তারা মার্কিন জনগণের মনস্তত্ত্ব বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। ভুল পরিকল্পনায় চালিত হয়ে তারা নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই রচনা করেছে। জঙ্গিগোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে অধিকাংশ মার্কিন জনগণ মত দিয়েছেন।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ওবামা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা কোনো গোষ্ঠীই নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাবে না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের দেশের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা যেকোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের খুঁজে বের করব।…এর মানে হলো, আইএস দমনে ইরাকের মতো সিরিয়ায়ও হামলা চালাতে পিছপা হবে না যুক্তরাষ্ট্র। আইএসের জঙ্গিদের নির্মূল করতে ‘বিস্তৃত পরিসরের জোটের’ নেতৃত্বে থেকে যুক্তরাষ্ট্র মূল ভূমিকা পালন করবে বলে জানান ওবামা।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close