অন্য পত্রিকা থেকে

রুবেলের মৃত্যু ও আমাদের মানবাধিকার

rubel pic

জুয়েল রাজ: এক মুঠো সুখের আশায় এক আকাশ স্বপ্ন নিয়ে যাবতীয় আবেগ অনুভূতিকে মাটিচাপা দিয়ে পরবাসী হয় মানুষ। আমি ও সে দলের একজন। হিসাবের খাতায় যোগ বিয়োগের ফলাফল সব সময় ঋণাত্মক। ঋণ পরিশোধে রুবেল নিজের জীবন টাই দিয়ে দিলো লোহার গারদে।মাত্র ২৬ বছরের তরুন ….

ব্রিটেনে ও বাংগালীর আন্দোলন সংগ্রামের রক্তাক্ত ইতিহাস আছে, আছে অর্জন। কিন্তু রুবেলের মৃত্যু কাউকে নাড়া দিয়েছে কি না আমি জানিনা। রুবেল মরে গিয়ে হয়তো বেচে গেছে। শত শত রুবেল এখনো ধুকে ধুকে মরছে প্রতিনিয়ত। কেউ কি খবর নিচ্ছে তার।লেখাপড়া কে মধ্যখানে রেখে যারা ২০০৯ সালে আকাশ ভরা স্বপ্ন নিয়ে এখানে এসেছিলো এদের খবর কি রেখেছেন কেউ।
মানবাধিকারের স্বর্গরাজ্য কতো অমানবিক জীবন যাপন করছে এদের খবর কেউ রাখেনি। না কোন মানবাধিকার সংগঠন না সরকার, না বাংলাদেশি কেউ। বরং বাংলাদেশিদের কাছেই সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লংঘিত হয়েছে হচ্ছে।
ব্যাংগের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা কলেজ গুলো একই মালিক কয়েক টি কলেজের মালিক সেজে মাথায় কাঠাল ভেংগে খেয়েছে প্রথম দিকে।হোয়াইটচ্যাপেলে কোর্ট টাই পরা অনেক কে দেখি যাদের কোন কাজ নেই শুধু মাত্র দালালী করে বাড়ি গাড়ির মালিক বনে গেছেন তারা। ছাত্র দের কষ্টার্জিত পয়সাকে লুটেপুটে। লন্ডনের প্রতেক সলিসিটর বছর শেষে কেউ ১০০ হাজার পাউন্ডের ও বেশী রুজি করছেন ছাত্রদের বিভিন্ন সমস্যা সম্বলিত মামলা থেকে।
প্রথম দিকের ইতিহাস তো আরো করূন শুধুমাত্র রেষ্টুরেন্ট থাকা খাওয়ার সুযোগ দিয়ে সুপ্তাহে ৬ দিন রেষ্টুরেন্টে কাজ করিয়েছেন অনেক মালিক।সেই সব ছাত্রদের অনেকেই ফিরে গেছেন দেশে অনেকে পাড়ি জমিয়েছে ইউরোপের নানা দেশে।
এরপর ও যারা যুদ্ধ করে ঠিকেছিলো তাদের পথে বসিয়েছে টোয়েক নামক ইংলিশ টেষ্ট। এখানেও প্রতারণা করেছে দালাল চক্র। স্টুডেন্টদের বুঝিয়েছে তোমাকে কিছু করতে হবে না তুমি শুধু টাকা দাও। বাকীটা আমরা দেখবো। আমি এমনো শুনেছি ইংরেজীতে মাষ্টার্স করা ছাত্রকে ও দালাল রা টোয়েকের কাগজ সংগ্রহ করে দিয়েছে। যে ছেলে চাইলে নিজে পরীক্ষা দিয়ে সেটা অর্জন করতে পারতো।
কয়েকশো বাংলাদেশি সলিসিটর, ব্যারিষ্টার শুধু মাত্র ইষ্ট লন্ডনেই ব্যবসা বানিজ্য করছেন কেউ একজন আজ পর্যন্ত উদ্যোগ নিয়ে ছাত্রদের পক্ষে একটা দাবী ও তুললেন না। কলজের বন্ধ হবার পেছনে দায়ীদের কিংবা টোয়েককে যারা এমন ভাবে ব্যবহার করেছে সেই সব সেন্টার জড়িত দালাল বা স্টুডেন্ট কলসান্টেসী নামের ফাঁফর দালাল দের কে শাস্তির আওতায় না এনে বারবার কেনো রুবেলদের মতো স্টুডেন্টদের কে শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে।এদের কে চুষে খেয়ে মোটা হচ্চে যারা তাদের কে অপরাধি না করে ছাত্রদেরকে গিনিপিগ বানানো হচ্ছে কেনো?
খুনী, ধর্ষক, চুর, ডাকাত, সব কিছুর জন্য এখানে মানবাধিকার উতলে উঠে সরকার কিংবা বিভিন্ন সংগঠনের। স্বপ্ন, প্রেম, মা বাবা ভাই বোনের ভালোবাসা বুক পকেটে জমিয়ে রেখে যে রুবেল মারা যায় জেলের প্রকোষ্ঠে শত রুবেল জীবন বাজি রেখে পাড়ি জমায় রাতের আধারে ইউরোপের পথে, প্রতিদিন তিলে তিলে মৃত্যুর স্বাদ নিয়ে তাদের জন্য এবার কেউ আওয়াজ দিন। এই দেশের আইন সবার জন্য সমান এই সত্য টা তো প্রতিষ্ঠিত। যাদের মাথায় কাঁঠাল খাচ্ছেন এদের বাচিয়ে রাখুন। সোনার ডিম পারা হাস গলা কেটে ফেলা হচ্ছে? নাকি কোর্টে গিয়ে ইংলিশ বলতে না পারার ভয়ে আমাদের সলিসিটর ব্যারিষ্টারগণ আদালতে যেতে চাননা কে জানে!
Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close