অর্থনীতি

ডিএসইর লেনদেনে শীর্ষ দশ কোম্পানি: এক বছরে দরবৃদ্ধি সর্বোচ্চ ৪ গুণ

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানির আটটির দামই গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। কোম্পানিগুলো হলো: গ্রামীণফোন, মবিল যমুনা লুব্রিকেন্টস, বেক্সিমকো, বেক্সিমকো ফার্মা, লাফার্জ সুরমা, বিএসআরএম, এসিআই ও এসিআই ফরমুলেশন। গত এক বছরের ব্যবধানে এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

এমনকি ২০১০ সালে শেয়ারবাজার ধসের পর এসব কোম্পানির কোনো কোনোটি বর্তমানে সর্বোচ্চ দামে লেনদেন হচ্ছে। আবার কোনো কোনোটির দাম তালিকাভুক্তির পর বর্তমানে প্রায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। বেশ কিছুদিন ধরে টানা দর বৃদ্ধির ফলে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ আলাদাভাবে কয়েকটি কোম্পানির কাছে মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের বিষয়ে জানতেও চেয়েছে।

জবাবে কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, দর বৃদ্ধি পাওয়ার মতো অপ্রকাশিত কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য তাদের কাছে নেই। এসব কোম্পানির বাইরে এমন দর বৃদ্ধি ঘটেছে আরও বেশ কিছু কোম্পানির। তবে গতকাল সোমবার লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানির তালিকাটিকে এখানে বিবেচনায় ধরা হয়েছে। এই তালিকায় গতকাল শীর্ষে ছিল রতনপুর স্টিল মিলস বা আরএসআরএম। গতকাল থেকেই এটির লেনদেন শুরু হয়েছে। তালিকায় অষ্টম স্থানে থাকা একটিভ ফাইনের দাম এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠেছিল গত ফেব্রুয়ারিতে।

হঠাৎ করে এসব কোম্পানির এমন দর বৃদ্ধির কারণ কী? জানতে চাইলে বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বলতে পারেননি। এ বিষয়ে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, মৌলিক কোনো কারণ ছাড়া যখন কোনো কোম্পানির দর বৃদ্ধি ঘটে, বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকির মাত্রা ততই বাড়ে।

নাম উল্লেখ না করে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কোম্পানির টানা দর বৃদ্ধির বিষয়ে শাকিল রিজভী বলেন, বর্তমানে ব্যাংক খাতে সুদহার কিছুটা কম। সেই তুলনায় শেয়ারবাজারের বেশ কিছু কোম্পানির বার্ষিক লভ্যাংশের হার বেশি। তাই কিছু বিনিয়োগকারীর মধ্যে লভ্যাংশ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ওই সব কোম্পানির শেয়ার কেনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এর বাইরে কিছু কোম্পানির দর বৃদ্ধিতে অনুমান নির্ভরতা বড় ভূমিকা রেখেছে।

ডিএসইর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে তালিকাভুক্তির পর গ্রামীণফোনের শেয়ারের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ৩৯৫ টাকা। সেটি ধসের আগে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে। আর গতকাল দিন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩৮৬ টাকা। এক বছর আগে এই দাম ছিল ১৭৮ টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এই শেয়ারের দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।

উল্লিখিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে এক বছরের ব্যবধানে সর্বোচ্চ চার গুণ দাম বেড়েছে লাফার্জ সুরমার শেয়ারের। ২০১৩ সালের অক্টোবরে এটির প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩১ টাকায়। সেখানে গতকাল দিন শেষে এটির দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২৭ টাকায়।
কোম্পানিটির এমন দর বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দীর্ঘদিন লোকসান ও উৎপাদনে না থাকা এই কোম্পানিটি এরই মধ্যে লোকসান কাটিয়ে উঠে লভ্যাংশও বিতরণ করেছে। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে লাফার্জ ও হোলসিমের একীভূতকরণের ঘোষণাও দিয়েছে কোম্পানিটি। এ ছাড়া লভ্যাংশ বিতরণের কারণে শেয়ারবাজারে এটির শ্রেণি পরিবর্তনের বিষয়টিও সামনে রয়েছে। এসব ঘটনা সামনে রেখে কোম্পানিটির শেয়ারের দামের এমন ঊর্ধ্বগতি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মবিল যমুনা লুব্রিকেন্টস ধসের পর ২০১১ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। গতকাল দিন শেষে এটির প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৪৭ টাকা। ২০১৩ সালের অক্টোবরেও এই দাম ছিল প্রায় ৬৯ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।

বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ১৯৮৬ সালে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত হয়। ২০১৩ সালের অক্টোবরে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল প্রায় ৩৭ টাকা। আর গতকাল দিন শেষে সেই দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় ৭০ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এই কোম্পানিটির শেয়ারের দামও প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। একই গ্রুপের অপর কোম্পানি বেক্সিমকোর দামও এক বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণ বেড়েছে। এ ছাড়া বিএসআরএম, এসিআই ও এসিআই ফরমুলেশনের শেয়ারের দাম এক বছরের ব্যবধানে যথাক্রমে দ্বিগুণ, তিন গুণ ও আড়াই গুণ বেড়েছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close