অন্য পত্রিকা থেকে

অনলাইনে কোরবানির পশুর হাট

সিরাজুস সালেকিন: ঈদুল আজহার আর মাত্র ৯ বাকি। ধর্মপ্রাণ মুসলামানরা নিচ্ছেন কোরবানির প্রস্তুতি। মুসলমানদের উৎসবকে কেন্দ্র করে অনলাইনেও চলছে পশু বেচাকেনার আয়োজন। পশুর হাটে গিয়ে ঝামেলা পোহাবার চেয়ে বাসায় বসেই ছবি দেখে পশু কেনার কাজ সারছেন কেউ কেউ। এমনই ভার্চুয়াল হাটের আয়োজন করেছে দেশের কয়েকটি ই-কমার্স সাইট।

বর্তমানে ক্রেতারা ধীরে ধীরে অনলাইনে নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্রের বেচাকেনায় অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গত দু’বছর থেকে অনলাইনে কোরবানির পশুর হাটের আয়োজন করে আসছে আমাদেরশপডটকম। ওয়েবসাইটি ‘আমারদেশ আমারগ্রাম’ নামক একটি প্রকল্প হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এই সাইটে ক্রেতারা ঘরে বসেই কোরবানির পশু কিনতে পারবেন। গতকাল ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায় ৬২টি গরু বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে। এ সাইটের মাধ্যমে দেশের যে কোন স্থানে বসে যে কোন এলাকার গরু কিংবা ছাগল কেনার সুযোগ রয়েছে। কিউকার্ড গেটওয়ের অধীনে ভিসা কার্ড বা মাস্টার কার্ডের সাহায্যে মূল্য পরিশোধ করা যাবে।

তবে সার্ভিস চার্জ হিসবে প্রতিষ্ঠানকে  বাড়তি টাকা দিতে হবে। টাকার পরিমাণ পশুর দামের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ঈদের ৩ দিন আগেই ক্রয়কৃত পশু ক্রেতার ঠিকানায় পৌঁছে যাবে। আমাদেরশপডটকমের সেলস ও মার্কেটিং বিভাগের প্রধান হ্যাপী আকতার জানান, দেশের প্রায় ১৪টি ই-সেন্টারের মাধ্যমে তার প্রতিষ্ঠান কোরবানির পশু সংগ্রহ করছে। ই-সেন্টার স্থাপনের জন্য আগ্রহী স্থানীয় ছাত্র কিংবা তরুণ উদ্যেক্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এ কাজটি করে আমারদেশ আমার গ্রাম। পরে ই-সেন্টারের মাধ্যমে মালিকদের পশুর তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করা হয়।

এজন্য তাদের কাছে কোন প্রকার টাকা-পয়সা নেয়া হয় না। পশু বিক্রি হলে ক্রেতাদের কাছে সার্ভিস চার্জ রাখা হয়। বিক্রেতারা ওয়েবসাইটে তার পশুর সঠিক দামটিই চেয়ে থাকেন। হ্যাপী আক্তার আরও জানান, গত বছর আমাদেরশপডটকমের মাধ্যমে হাটে প্রায় ৫ শতাধিক কোরবানির পশু বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৭০টি পশু বিক্রি হয়েছে। তিনি দাবি করেন এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিক্রেতারা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। গ্রামে গরু বিক্রি করতে গিয়ে অনেক সময় কৃষক পাইকারি ক্রেতাদের কাছে হয়রানির শিকার হন। এ সাইটের মাধ্যমে বিক্রি করলে তাদের ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব হয়।

আমারদেশ আমারগ্রাম-এর সিইও আতাউর রহমান বলেন, আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ক্রেতারা সরাসরি গোয়ালঘর থেকে গরু কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। এখানে ফার্মের গরু রাখা হয় না। আর কৃষককে ন্যায্য মূল্যেই বিক্রির সুযোগ দেয়া হচ্ছে। আমরা কিছু সার্ভিস চার্জ রাখছি। যেহেতু এটা কোরবানির বিষয় তাই ক্রেতারাও ন্যায্য দামে কিনে সন্তুষ্ট থাকছেন। এখানে দামাদামির কোন সুযোগ নেই। অনলাইনে কোরবানির পশুর হাটের আয়োজন করেছে দেশের সর্ববৃহৎ ই-কমার্স সাইট বিক্রয়ডটচকম (নরশৎড়ু.পড়স)।

তবে এখানে বিক্রেতারাই নিজেদের পশুর বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকেন। ক্রেতারা সরাসরি বিক্রেতার সঙ্গে যোগযোগ করেন। এ সাইটে কোরবানির পশু বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে রয়েছে পুরস্কার জেতার সুযোগ। প্রতিযোগিতা শেষে লটারির মাধ্যমে দু’জন ভাগ্যবান নির্বাচন করা হবে। পুরস্কার হিসেবে থাকছে একটি গরু ও একটি খাসি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close