জাতীয়

হজ নিয়ে বক্তব্যে তোপের মুখে লতিফ সিদ্দিকী: মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত

শীর্ষবিন্দু নিউজ: হজ নিয়ে কথা বলে জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামের তোপের মুখে পড়েছেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। হজ এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে কটূক্তি করে বিতর্কের জন্ম দেয়ার পর তাকে অপসারণের এ সিদ্ধান্ত এলো।

বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে অপসারণের সিদ্ধান্তের সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে। তবে মন্ত্রি পরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি। রোববার নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে হজ নিয়ে কটূক্তির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়েও তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য রাখেন তিনি।

সোমবার এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামী মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অপর এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামও প্রশাসনিক ব্যবস্থা চেয়েছে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। সংগঠনটি বলেছে, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মন্ত্রীর জন্য সালমান রুশদি ও তসলিমা নাসরিনের পরিণতি অপেক্ষা করছে।

মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমি হজ এবং তাবলীগের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীর যত বিরোধী তার থেকেও হজ ও তাবলীগের বিরোধী। এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গেছে। এদের কোনও কাম নেই। এরা কোন প্রডাকশন দিচ্ছে না। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে। ওই অনুষ্ঠানে টক শো আলোচকদেরও গালিগালাজ করেন তিনি।

অনলাইনে এ বক্তব্য প্রচারিত হওয়ার পর তোলপাড় তৈরি হয়। হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন সংগঠন মন্ত্রিসভা থেকে তার অপসারণ এবং তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভানেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী তাকে অভিহিত করেছেন মুখফোঁড় নেতা হিসেবে।

রোববার নিউ ইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী জানান, তিনি হজ ও তাবলিগ জামায়াতের বিরোধী। এই বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, মন্ত্রী যে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি আপত্তিকর ও অন্যায় মন্তব্য করে বিশ্বের সকল মুসলমানদের ঈমানে আঘাত দিয়েছেন।

তিনি ওই বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ক্ষমা প্রার্থনার জন্য লতিফ সিদ্দিকীর প্রতি আহ্বান জানান। হেফাজতে ইসলাম তাদের বিবৃতিতে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছে, তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা আন্দোলনের পথ বেছে নেবেন। 

এতে বলা হয়, আমরা অবিলম্বে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারপূর্বক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। লতিফ সিদ্দিকীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার না করা হলে ২০১৩ সালের মতো সারাদেশে নাস্তিক-বিরোধী আন্দোলনে নামার হুমকিও দিয়েছে সংগঠনটি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close