অন্য পত্রিকা থেকে

ডিটেক্টিভ টিভি জিহাদির বোনকে জেরা করেছেন

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ: ব্ল্যাক হিথের তামান্না শাহরিন, বয়স ২৯ তার ভাই ইফতেখার জামান, যিনি গত ডিসেম্বরে সিরিয়ায় মৃত্যু বরন করেছিলেন আইএস এর হয়ে জিহাদি কার্যক্রমে অংশ নিয়ে- সেই সন্দেহে তামান্না শাহরিনকে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা তার বাড়ীতে জেরা করেছেন।

বিবিসির নিউজ নাইটে ইফতেখার তাই আইএসের জিহাদি কার্যক্রমকে হলি ওয়ার আখ্যা দিয়ে অন্য ব্রিটিশ মুসলিমদের অংশ নেয়ার আহ্বান করেছিলেন।তামান্নাকে পুলিশ এই টেরর প্লটের বিষয়ে সন্দেহের তালিকায় নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এন্টি টেরর পুলিশের তাদের স্পোর্টস মাউথের বাসায়ও তল্লাশি করেছেন। এমনকি সে জন্য তার ভাই তুহিন, বয়স ২৬, মোস্তাকিন বয়স ২৩, তাদের বৃদ্ধ বাবা মা ইনু মিয়া(৫৭) এবং হেনা চৌধুরী (৪৮) কেও পুলিশ জিজ্ঞেস করেছে সন্দেহ জনক টেরোরিষ্ট এক্টিভিটির জন্য। ইনু মিয়া পেশায় রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী এবং রেস্টুরেন্ট ছাড়াও প্রোপার্টি ব্যবসায়ও তিনি জড়িত।
পুলিশ ইফতেখারের এই আইএসের সাথে জড়িয়ে পড়ায় সন্দেহ জনকভাবে তাদের পুরো পরিবারকে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জড়িত বা সহযোগিতার দায়ে সন্দেহের তালিকায় নিয়ে ইনভেস্টিগেশন করছে। আজকের ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড এ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে এবং সেখানে স্পষ্টভাবে পুলিশের এই সন্দেহের তালিকায় জেরার কথাই বলা হয়েছে।
প্রিয় পাঠক গত রিপোর্টে এ নিয়ে যা তুলে ধরেছিলাম, সেখান থেকে কিছু অংশ এখানে আবার তুলে ধরলাম- আইএস জঙ্গি কার্যক্রম ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম এবং আল্লাহ রসূলের পথ নয়- এ কথা সুস্পষ্টভাবে ব্রিটেনের ১০০ স্কলার এবং ইমাম সাহেবগণ লিখিত ফতোয়ার মাধ্যমে ইন্ডিপেন্ডেন্ট সহ বিবিসিকে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে জানিয়েছেন ( ইন্ডিপেন্ডেন্ট দ্রষ্টব্য রোববার ৩১ শে আগস্ট ২০১৪- Isis terror threat: Leading British Muslims issue fatwa condemning terror group) , স্কাই টেলিভিশন নিউজ সহ সর্বত্র সেই ইমামদের বার্তা প্রকাশিত হয়েছে।তা সত্যেও সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধা এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা পজিটিভ হওয়া সত্যেও আমাদের কিছু কিছু তরুণ এই জঙ্গি নেটওয়ার্কের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন যা আমরা বিশ্ব মিডিয়ার মাধ্যমে অবগত হয়ে মর্মাহত হয়ে পড়ি। সমাজ বিজ্ঞানী এবং দর্শন শাস্র নিয়ে যারা অধ্যয়ন করেছেন সকলেই জানেন একজন সন্তানের সুশিক্ষার প্রথম কারিগর বাবা মা ও পরিবার। আমাদের ব্রিটেনের বাংলাদেশী মুসলিম পরিবার এখনো অন্য যে কোন কমিউনিটির এমনকি ব্রিটিশ মূলধারার পরিবার প্রথা থেকেও দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
যা হর হামেশা অফিস আদালত ও টেলিভিশনের নানা অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ বাংলাদেশী পরিবার প্রথার সুনাম করা হয়ে থাকে। অথচ আইএস এর জঙ্গি কার্যক্রমের সন্দেহের তালিকায় প্রথম বাংলাদেশী সিরিয়ায় জিহাদি যুদ্ধে নিহত হওয়া আর তার পর থেকে ব্রিটিশ বাংলাদেশী একের পর এক সন্দেহের তালিকা বৃদ্ধি পেতে থাকলে বেশ কয়েকজন এরেস্ট হন। এ নিয়ে বিবিসি সহ মেইন ষ্ট্রীম মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। ব্রিটেনে সেই কবে বাংলাদেশীদের গোঁড়া পত্তন হয়েছিলো- তা অবশ্যই গবেষণার দাবী রাখে। তবে প্রায় সকলেই একমত, তখনকার সময়ে জাহাজে করে রাণীর দেয়া ভাউচারের মাধ্যমে প্রথমে ব্রিটেন পাড়ি দেয়া পূর্ব প্রজন্মের হাত ধরে ধীরে ধীরে আজকের এই অবস্থান, যা অত্যন্ত শক্ত এক ভিতের উপর দাঁড়িয়ে।
অথচ সেই শক্ত ভিতের মধ্যে এক অজানা আশঙ্কা প্রতিনিয়ত উকি ঝুঁকি মারছে- আমাদের সোনার টুকরো ছেলে মেয়েরা কোথায় চলেছে ? কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব, রাজনীতি সচেতন, সমাজ কর্মী, আর মা বাবারা একটু কী ভেবে দেখবেন ? সব কিছু তছ নছ করে লন্ড ভন্ড হওয়ার আগে এখনি ব্যবস্থা নিন- যাতে আমাদের ছেলে মেয়েরা বিভ্রান্তির পথে পা না বাড়ায়, অন্ধকারের সুড়ঙ্গের দিকে ধাবিত না হয় ।
Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close