অন্য পত্রিকা থেকে

শ্রম আইনের কার্যকর প্রয়োগ চায় ইইউ

শ্রম আইনের কার্যকর প্রয়োগ চায় ইইউ

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের শ্রম পরিবেশ উন্নত করতে সংশোধিত শ্রম আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এছাড়া, কারখানা পরিদর্শনে আরও পরিদর্শক নিয়োগ করে নিয়মিত কারখানা পরিদর্শন চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে। একইসঙ্গে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর প্রসংশা করেছে সংস্থাটি।

সোমবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এসব কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে ইউরোপিয়ান কমিশন। স্টেয়িং এনগেজড: সাসটেইনেবিলিটি কম্প্যাক্ট ফর কন্টিনিউয়াস ইম্প্রুভমেন্টস ইন লেবার রাইটস অ্যান্ড ফ্যাক্টরি সেফটি ইন রেডিমেড গার্মেন্ট অ্যান্ড নিটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি ইন বাংলাদেশ শীর্ষক একটি চুক্তি ২০১৩ সালের জুলাইয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি বাস্তবায়নে তিনটি ভাগে ১৭টি ধারা পরিপালনের কথা সরকার ও খাত সংশ্লিষ্টদের।

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে পোশাক খাতের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিবেশসহ শ্রম অধিকার পরিস্থিতি উন্নয়ন পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। দুর্ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের অগ্রগতিকে উৎসাহব্যাঞ্জক মনে করছে তারা। তবে আরও অনেক অগ্রগতির প্রত্যাশা জানিয়েছে কমিশন। এ জন্য তারা জরুরি ভিত্তিতে শ্রম আইনের কার্যকর প্রয়োগ চাইছে।

চলতি বছর জুলাইয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুক্তির এক বছর পূর্তি উপলক্ষে অগ্রগতি যাচাই-বাছাই করেছে। অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে সোমবার তারা আবারও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠক শেষে জরুরি ভিত্তিতে শ্রম আইনের কার্যকর প্রয়োগের তাগিদ জানিয়ে বিবৃতি দেয় ইউরোপিয়ান কমিশন।

বিবৃতি অনুযায়ী, জরুরি ভিত্তিতে শ্রম আইনের কার্যকর প্রয়োগসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে সরকারের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চায় কমিশন। এর মধ্যে আছে শ্রম সংঘ গঠনের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা, শ্রম সংঘে আগ্রহীদের হয়রানি বন্ধ করা, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলসহ সব শ্রমিকের জন্য অভিন্ন শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা। এছাড়া, অতিরিক্ত পরিদর্শক নিয়োগসহ পরিদর্শন অব্যাহত রাখা। পরিশেষে রানা প্লাজায় হতাহতদের পুনর্বাসনে সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দেয় ইউরোপিয়ান কমিশন।

কমিশন জানিয়েছে, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর এখন পর্যন্ত অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এর মধ্যে আছে স্বাধীন শ্রম অধিকার চর্চা, পেশাগত ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা এবং দরকষাকষি ক্ষমতা বৃদ্ধিতে শ্রম আইন সংশোধন। এছাড়া, নতুন ট্রেড ইউনিয়ন গঠনসহ শ্রম-অগ্নি-ভবন পরিদর্শন হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, কম্প্যাক্ট যথাযথ বাস্তবায়নে ইউরোপিয়ান কমিশন তদারকি অব্যাহত রাখবে। আগামী বছর আবারও কম্প্যাক্ট অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। চুক্তির সহযোগীদের সঙ্গে একযোগে কার্যক্রম অব্যাহত রেখে আরও অনেক অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে বলে মনে করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে কমিশন বিবৃতিতে আরও জানায়, শ্রম ও কর্মপরিবেশের নিরাপত্তার বিষয়টি এখন শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নেই। উন্নয়নশীল ও ক্রমবর্ধমান অনেক দেশেই এ ধরণের উদ্বেগ রয়েছে। তাই কমিশন বিশ্বের সব দেশের শ্রম ও কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এজন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানায় কমিশন।

সাসটেইনেবিলিটি কম্প্যাক্ট চুক্তি বাস্তবায়নে তিনটি ভাগে ১৭টি ধারার পরিপালন করতে হবে সরকার ও খাত সংশ্লিষ্টদের। অগ্রগতি থাকলেও এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ধারা পরিপালনে ধীরগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। যার নেতিবাচক প্রভাব বাণিজ্যিক সুবিধায় প]তে পারে বলে আশংকা করছেন শিল্প বিশ্লেষকরা।

জানা গেছে, অগ্রগতি থাকলেও অধিদফতরের সামর্থ্য বৃদ্ধিতে চুক্তি অনুযায়ী পরিদর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। এদিকে শ্রম আইন বাস্তবায়নে বিধিমালাও চূড়ান্ত হয়নি। আবার একটি আন্তর্জাতিক মানসম্মত শ্রম পরিদর্শন ব্যবস্থাও নেই বাংলাদেশে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close