সিলেট থেকে

সিসিক নিয়ে লোদী ও শামীমের পাল্টাপাল্টি দোষারোপ

শীর্ষবিন্দু নিউজ: প্রথম প্যনেল মেয়রকে দায়িত্ব না দিয়ে দ্বিতীয় প্যানেল মেয়রকে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব দিয়ে চীন সফরে যান সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তখন থেকে ঘটনার সূত্রপাত।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়রের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পান প্রথম প্যানেল রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। বুধবার (২২ অক্টোবর) কয়েস লোদীর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত এক নির্দেশে কয়েস লোদীকে সিসিকের ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রদান করা হয়।

এদিকে এ নির্দেশের পরও ১০ নং ওর্য়াডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র (দ্বিতীয়) সালেহ আহমদ ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করায় নানা মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে।অনেকে এটিকে আদালত অবমাননা বলেও মন্তব্য করেছেন।সালেহ আহমদ অবশ্য ইতোপূর্বে দৈনিকসিলেটডটকমকে জানিয়েছিলেন, মেয়রের নির্দেশেই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।

সিসিকের বর্তমান বিদ্যমান সমস্যার বিষয়ে সিসিক কাউন্সিলার ফরহাদ চৌধুরী শামীম গণমাধ্যমকে বলেন, সিসিক নির্বাচনের পর রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর প্যানেল মেয়র-১ হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, আমি নিজেও প্যানেল মেয়র প্রার্থী ছিলাম। নির্বাচনের পর সিসিকের প্রথম সভায় প্যানেল মেয়র নির্বাচন করা হয়। ওই সভার আগের রাতে আমার বাসায় সমমনা কয়েকজন কাউন্সিলর মিলিত হয়ে বৈঠক করি। বৈঠকে উপস্থিত কাউন্সিলররা কিছু শর্ত সাপেক্ষে লোদীকে সমর্থন দেন। এ প্রেক্ষিতে আমি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করি। 

শামীম বলেন, ওই সময় মেয়র আরিফ তার পছন্দের একজন কাউন্সিলরকে প্যানেল মেয়র করতে তদবির করছিলেন। সিসিকের প্রথম সভায় মেয়র অজুহাত দেখিয়ে প্যানেল মেয়র নির্বাচনের তারিখ পেছানোর চেষ্টা করেন। তখন আমি এর প্রতিবাদ করে ওইদিনই প্যানেল মেয়র নির্বাচনের দাবি জানাই। আমার দাবির মুখে প্যানেল মেয়র নিয়ে কাউন্সিলরদের মধ্যে ভোটাভোটি হয়। এতে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও এডভোকেট সালেহ আহমদ সমান সংখ্যক ভোট পান।  পরে লটারির মাধ্যমে লোদী প্যানেল মেয়র-১ নির্বাচিত হন।
কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম আরো বলেন, প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বদলে যেতে থাকেন লোদী। পরিবর্তন আসে তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজেও। মেয়র আরিফ অসুস্থ হওয়ার পর শাহজালাল (রহ.) দরগাহে মিলাদ মাহফিলে প্যানেল মেয়র পদ জাহির করে কয়েস লোদী বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অন্য কাউন্সিলররা তার পরিবর্তে স্থানীয় কাউন্সিলর তৌফিক হাদীকে বক্তব্য দিতে অনুরোধ করেন। শামীম বলেন, নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম হত্যাকান্ডের পর সিসিকের উদ্যোগে একটি সভার আয়োজন করা হয়। ওই সভায় বয়োজেষ্ঠ কাউন্সিলর হিসেবে এডভোকেট সালেহ আহমদকে সভাপতিত্ব করতে বলা হয়। এতে ক্ষুব্দ হন লোদী। প্যানেল মেয়র হিসেবে তিনি সভাপতিত্ব করতে চান। কিন্তু সুযোগ না পেয়ে সভা থেকে চলে যান।
সহকর্মী কাউন্সিলরদের সাথে এরকম অসৌজন্যমূলক আচরণ ছাড়াও তিনি প্যানেল মেয়রের কার্যালয়ও খুলে বসেন। মানুষকে ধোকা দিতে অফিসের সাইনবোর্ড থেকে কাউন্সিলর শব্দটাও মুছে দেন তিনি। এভাবে মানুষকে ধোকা দেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। অনেক সাধারণ লোক মেয়রের কার্যালয় নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। কয়েস লোদীর এসব কর্মকান্ডে ক্ষুব্দ হয়ে সিসিকের ৩৪ জন কাউন্সিলরই প্যানেল মেয়র হিসেবে রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে দেখতে চাইছেন না বলে মন্তব্য করেন কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম।
তবে কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরীর শামীমের এসকল অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করে প্যানেল মেয়র-১ রেজাউল হাসান কয়েস লোদী গণমাধ্যমকে জানান, নিজেকে জাহির করতে ফরহাদ চৌধুরী শামীম মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন- শাহজালাল (রহ.) দরগাহের মিলাদ মাহফিলে তিনি বক্তব্য রাখার চেষ্টা করেননি। মিলাদে বক্তব্য রাখার সুযোগও নেই। নজরুল ইসলাম স্মরণে আয়োজিত সভার আয়োজক তিনি নিজেই ছিলেন মন্তব্য করে কয়েস লোদী বলেন, সভায় উপস্থিত থাকতে সবাইকে ফোন করে অনুরোধ করি আমি। সভায় উপস্থিত হয়ে তিনি নিজেও উপস্থিতি র খাতায় স্বাক্ষর করে আদালতের কাজ থাকায় চলে যান বলেও মন্তব্য করেন কয়েস লোদী।
লোদী বলেন, জেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে সিসিকের সভায় সভাপতিত্ব করার সুযোগ নেই। সবকিছুতে জেষ্ঠ্যতা খুঁজতে হলে প্যানেল মেয়র নির্বাচনেরই তো কোনে প্রয়োজন নেই। কয়েস লোদী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, এই সভা নিয়ে ফরহাদ চৌধুরী শামীম অনেক ষড়যন্ত করেছেন। ফরহাদ সভার আগে অনেক কাউন্সিলরকে ফোন করে বলেছেন- সভায় আমাকে হেনস্থা করবেন। তার উদ্দেশ্য ভালো ছিল না। আমি কখনো প্যানেল মেয়রের কার্যালয় খুলিনি মন্তব্য করে লোদী বলেন, সাইনবোর্ড এখনো আমার কার্যালয়ে লাগানো আছে। চাইলে যে কেউ গিয়ে দেখতে পারেন।
ভারপ্রাপ্ত মেয়রের পদ নিয়ে রিট আবেদন করা প্রসঙ্গে কয়েস লোদী বলেন- সিটি করপোরেশনের মেয়র বা কোন কাউন্সিলরের সাথে  আমার কোন দ্বন্দ্ব নেই। মেয়র অনিয়ম করেছেন, আমি সেই অনিয়মের নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদ করেছি। লোদী দাবী করে বলেন এ ধরনের নির্দেশের কোনো গ্রহনযোগ্যতা এবং আইনগত ভিত্তি নেই। কারণ দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের যে বিধি রয়েছে তা মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ফলো করেননি।
Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close