অন্য পত্রিকা থেকে

লন্ডন এখন বিশ্বের বিবাহ বিচ্ছেদের রাজধানী

লন্ডন এখন বিশ্বের বিবাহ বিচ্ছেদের রাজধানী<br /><br />

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: বিয়ের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ভালো স্থান লাস ভেগাস। কিন্তু ডিভোর্সের রাজধানী হিসাবে উঠে এসেছে লন্ডনের নাম। হাজার হাজার সম্পদশালী চাইনিজ, রাশিয়ান,  আমেরিকানসহ ইউরোপিয়ানরা ফাইনানসিয়াল ডিস্ট্রিক্ট লন্ডনে থাকেন। এ জন্য সেখানেই তাদেরসহ বহু মানুষের বিচ্ছেদের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ান বিউটি কুইন এবং তার বিজনেস টাইকুন স্বামীর বিচ্ছেদের পর বিষয়টি মিডিয়ায় উঠে এসেছে।
ধনীদের মাঝে বিচ্ছেদের ঘটনা এতটাই বেশি যে এসব কাজে নিয়োজিত আইনজীবীরা পর্যন্ত ধনী ব্যবসায়ীদের মতো সম্পদের মালিক বনে গেছেন। সম্প্রতি ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ড সম্পদের মালিক কো কে পেং এবং তার অপরূপা স্ত্রী পলিন চাই এর বিচ্ছেদ ঘটে গেলো। চাইয়ের এক হাজার জোড়া দামি জুতো এবং রোলস রয়েসসহ মাসে ২২ হাজার পাউন্ডের খরচের বাজেট রীতিমতো ব্রিটেনের পত্রপত্রিকার খবর হয়েছে।
কিন্তু এখানে অন্যান্য দেশের চাইতে ডিভোর্স কেনো এত বেশি? ব্রিটেনের ফ্যামিলি ল ডিপার্টমেন্টের প্রধান সান্ড্রা ডেভিস জানান, স্ত্রীদের জন্য ইংল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান। কারণ বিচ্ছেদ ঘটছে এমন নারীদের সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা এখানকার আইন দেয়। বিচ্ছেদের কারণে স্বামীদের যে পরিমাণ অর্থ দিতে হয় তা অন্যান্য দেশে দেওয়া হয় না। আর এ কারণেই ধনীরা এ ধরনের ঘটনা এড়িয়ে চলতে চান। সান্ড্রা এর আগে প্রিন্স চার্লস এবং ডায়ানার বিচ্ছেদ, ইউএস মডেল জেরি হলের সঙ্গে রোলিং স্টোনের গায়ক মিক জ্যাগারের বিচ্ছেদের ঘটনার আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
গত শুক্রবার ইংল্যান্ডের এক আদালতে পেং ও পলিনের বিচ্ছেদের শুনানিতে বিচারক বলেন, এ শুনানি মালয়েশিয়ার আদালতে হওয়া উচিত। কিন্তু তার আইনজীবী ওই আদালতেই বিচ্ছেদের ব্যবস্থা করায় সাবেক মিস মালয়েশিয়া আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন।
পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, আমি অত্যন্ত খুশি যে আমার আইনজীবী এই মহান দেশে আমার বিচ্ছেদের ব্যবস্থা করতে পেরেছেন। আমি, আমার সন্তান এবং দামি জুতোগুলো এখানে থাকার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় আমি যারপরনাই আনন্দিত।
ব্রিটেনের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে দামি বিচ্ছেদের ঘটনা হতে পারে। পলিনের আইনজীবী দলে নেতৃত্বে ছিলেন ‘ডিভা অব ডিভোর্স’ বলে খ্যাত আয়শা ভারডাগ। বিচ্ছেদের পর পেং এর কাছ থেকে তিনি ইংল্যান্ডের বাইরে প্রায় ১ হাজার একর জমির নিয়ে স্থাপিত একটি ম্যানশন পাবেন।
এর আগে ২০১১ সালে রাশিয়ার ব্যবসায়ী বোরিস বেরেজোভস্কিকে বিচ্ছেদের পর সাবেক স্ত্রী গ্যালিনা বেশারোভাকে ২২০ মিলিয়ন পাউন্ড পরিশোধ করতে হয়েছিল।
অনেকে প্রশ্ন লন্ডনে এসব ডিভোর্সের ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের মানুষের ঘটনা কতটা জড়িত? সান্ড্রার জবাব ছিলো, তার ৭৫ শতাংশ ক্লায়েন্ট অন্যান্য দেশের মানুষ। অহরহ ডিভোর্সের জন্য স্ত্রীদের আগ্রহ যথেষ্ট থাকে। এর একটিই কারণ, অর্থ। বিপুল পরিমাণ অর্থ পান ডিভোর্স প্রাপ্ত নারীরা।
২০০০ সালের এক কেসে ইংল্যান্ডের আদলত কম ধনীদের ডিভোর্সের ক্ষেত্রে সম্পত্তি অর্ধেক ভাগাভাগি হবে। এই নিয়ম অন্য দেশে দেখা যায় না।
তবে এখানে থাকেন এমন মানুষরাই শুধু ডিভোর্স নেন তা নয়, ১৭৯ জোড়া ইতালিয়ান জুটিকে খুঁজে পাওয়া গেছে যারা সে দেশের দীর্ঘ নিয়মের কারণে লন্ডনে এসে ডিভোর্স নিয়েছিলেন। এ কাজে তারা ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করেন। এ কাজ করে ইতালির এক এজেন্সি।
তাই সব মিলিয়ে লন্ডনের সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা দারুণ খুশি। তারাও এসব কাজে ধনী ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে যে পরিমাণ ফিস পান, তা দিয়ে নিজেরাও বেশ ধনী হয়ে উঠেছেন।
সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার
Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close