অন্য পত্রিকা থেকে

ক্ষমতা এখন নির্বাচন কমিশনের

ক্ষমতা এখন নির্বাচন কমিশনের

 ইলিয়াস সরকার: হজ নিয়ে কটূক্তির জেরে মন্ত্রিত্ব ও দলের সব ধরনের পদ খোয়ানোর পর আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সংসদ সদস্য পদ হারাচ্ছেন কিনা সে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার এখন নির্বাচন কমিশনের।যদিও এ নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের মধ্যেই রয়েছে বিতর্ক। আর সংবিধানেও এ নিয়ে স্পষ্ট কিছু নেই। তবে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ে দিক নির্দেশনার দেখা মেলে।আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের মতে, দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরও লতিফ সিদ্দিকী স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে থাকবেন।তবে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মতে, দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর লতিফ সিদ্দিকীর সদস্য পদ আর থাকবে না। এ বিষয়ে তারা নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করবেন।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গেও সৈয়দ আশরাফের মতের মিল পাওয়া যায়।

১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে (৭ম জাতীয় সংসদ) বিএনপি থেকে জয়ী হয়েছিলেন হাসিবুর রহমান স্বপন এবং ড. আলাউদ্দিন। বিরোধী দলের সংসদ সদস্য হওয়ার পরও তাদেরকে মন্ত্রিসভার সদস্য করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিএনপির এ দুই সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করে পদ খারিজের জন্য তৎকালীন বিরোধী দলের উপনেতা অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ খন্দকার দেলোয়ার হোসেন স্পিকারকে চিঠি লেখেন। কিন্তু স্পিকার ওই চিঠিতে সাড়া না দিয়ে তাদের সংসদ সদস্য পদ বহাল রাখেন।

এরপর খন্দকার দেলোয়ার হোসেন হাইকোর্টে মামলা করেন। হাইকোর্ট তাদের সদস্য পদ খারিজ করার আদেশ দেন। এর বিরুদ্ধে আপিলের পর ১৯৯৯ সালের ২৯ জুলাই তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামাল ওই দুই এমপির পদ খারিজের রায় বহাল রাখেন।

আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়, ৭০ অনুচ্ছেদের(আসন শূন্য হওয়া) বিষয়টি একান্তভাবেই নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত এবং স্পিকারের কোন সাংবিধানিক কর্তৃত্ব নেই তা ফয়সালা করার। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের।

এ মামলায় আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম।

হাসিবুর রহমান স্বপন ও আলাউদ্দিনকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো। কিন্তু তাদের পদ খারিজ না করায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। আর আদালত সাত দিনের মধ্যে তাদের পদ খারিজ করতে ইসির প্রতি নির্দেশ দেন এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য  নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দেন।

এ ক্ষেত্রেও আওয়ামী লীগও লতিফের প্রাথমিক সদস্যপদ  থেকে  বহিষ্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করলে কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close