অন্য পত্রিকা থেকে

বাহরাইনে ৬ মাস ধরে বেতন পাচ্ছে না ১০৬ প্রবাসী

বাহরাইনে ৬ মাস ধরে বেতন পাচ্ছে না ১০৬ প্রবাসী
মোসাদ্দেক হোসেন সাইফুল: বাহরাইনে একটি বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানিতে ১০৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিক ৬ মাস ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বেতন চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতি দেন, কখনো কখনো হুমকি-ধামকি ও মারধর করেন বলেও জানিয়েছেন শ্রমিকরা।ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স কোম্পানি (আইএসএমসিও) নামে প্রতিষ্ঠানটির প্রবাসী বাংলাদেশি শমিকরা বেতন আদায়ের জন্য সব রকম চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বারস্থ হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে আইএসএমসিও-এর ২৬ জন শ্রমিক বাংলাদেশ দূতাবাসে এসে রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল কে এম মমিনুর রহমানকে অতিযোগ করেন।

বাংলাদেশ দূতাবাসের (শ্রম) কাউন্সিলর মহিদুল ইসলাম শ্রমিকদের নিয়ে ঈসা টাউন পুলিশ স্টেশনে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেন। অসহায় শ্রমিকদের দূতাবাসে রাত্রি যাপনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত বাংলানিউজকে জানান, আমরা বাহরাইনের লেবার মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটি (এলএমআরএ) ও কোর্টে মামলা করব। আর কোনো কোম্পানি বাংলাদেশি শ্রমিকদের হয়রানি করলে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

সরজমিনে মঙ্গলবার রাতে দূতাবাসে গেলে অসহায়  শ্রমিকেরা জানান, ওই কোম্পানিতে ১০৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করে। এরা সবাই গত ৫-৬ মাস ধরে তাদের বেতন পাচ্ছেন না। ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ থেকে আসা প্রবাসী জলিল হোসেন জানান, তিনি ২ বছর ৫ মাস আগে গরু ছাগল ও একমাত্র ফসলি জমি বিক্রি করে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে এ কোম্পানিতে চাকরি নেন। ওভারটাইম সহ ১৬৫ দিনার (৩৩৮৯৩ টাকা) বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও ১২৫ দিনার (২৫৬৭৬ টাকা) বেতন দেওয়া হতো। গত ৬ মাস ধরে সেই বেতনও বন্ধ হয়ে গেছে।

চাঁদপুরের কচুয়ার আবুল খায়ের ৬ মাস আগে ব্রাক ব্যাংক থেকে মাসিক ১৬ হাজার টাকা কিস্তিতে ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ও জায়গা জমি বিক্রি করে  ৪ লাখ টাকা দিয়ে এ কোম্পানীতে এসে এ পর্যন্ত ১ টাকাও বেতন পাননি। রংপুরের গঙ্গারচরের আশিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আমাদের প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশিকে একটি বিল্ডিং-এ প্রতি রুমে ২০/২৫ জন করে খুব কষ্ট করে থাকতে হয়। এখানে আমাদের জন্য খাবার পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। রান্নার জন্য গ্যাস শেষ হয়ে গেলে ৩/৪ দিন পরে গ্যাস সরবরাহ করা হয়।

আশিকুল ইসলাম আরও বলেন, আমি জমি বন্ধক রেখে ও ব্রাক ব্যাংক থেকে মাসিক ১২ হাজার ৭ শ‘ টাকা কিস্তিতে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে, ১৫ মাস আগে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকায় এ কোম্পানিতে আসি। গত ৬ মাস বেতন পাইনি, বাড়িতে পরিবার না খেয়ে আছে, ব্রাক ব্যাংক থেকে প্রতিদিন চাপ দিচ্ছে কিস্তির টাকার জন্য। ‘কোথা থেকে টাকা দিয়াম ভাই’ বলে কেঁদে ওঠেন আশিকুল ইসলাম।

ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের শরিফুল ইসলাম জানান, আমাদের কোন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয় না। ছুটিও দেওয়া হয় না, আবার অনুপস্থিতির জন্য বেতন কাটা হয়। চাঁদপুরের কচুয়ার খালিদ হোসেন বলেন, আবুল খায়ের নামে এক দালাল  দৈনিক ৮ ঘণ্টা ডিউটি, সপ্তাহে ১ দিন ছুটি ও বেসিক ১৩৫ দিনার (২৭৭৩০ টাকা) বেতন দেবে বলে এখানে পাঠিয়েছে। এখানে এসে ১২ থেকে ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্তও একটানা ডিউটি করেছি। গত ৬ মাস বেতন নাই, ছোট খাট কোনো ভুল-ত্রুটি হলে ৫০ দিনার (১০২৭০ টাকা) বেতন কাটা হয় এবং ১৪ সিটের একটি মাইক্রোবাসে আমাদের ২০/২৫ জনকে গাদাগাদি করে ডিউটিতে নেওয়া হয়। আমি আত্বীয়স্বজনের কাছ থেকে ও ব্যাংক ঋণ নিয়ে  ৪ মাস আগে ৪ লোখ ২৬ হাজার টাকায় এ কোম্পানিতে এসে নিঃস্ব হয়ে গেছি।

শ্রমিকদের সাথে কথা বলে আরও জানা যায়, এরা সবাই মানামার টপ টেন টেইলার্স এর কাটিং মাস্টার খাজা নামে এক দালালের মাধ্যমে এ কোম্পানিতে চাকরি নিয়েছেন। খাজার বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি থানার মদিনা পাড়ায়। ম‍ূলত তিনি কোম্পানিটির শ্রমিক সরবাহকারী। ছোট খাট বিভিন্ন দালালদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তিনি টেইলার্স ব্যবসার আড়ালে আদম ব্যবসা করে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন বলে প্রতারিত শ্রমিকর জানান।

এ ব্যাপারে খাজার দোকানে গিয়ে দেখা করতে চাইলে দোকান কর্মচারীরা জানান, তিনি দেশে গিয়েছেন এবং দেশে মোবাইলে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। অভিযুক্ত কোম্পানির অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার সুনীলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ৩/৪ মাস বেতন দেওয়া হয়নি এটা সত্য। তবে এ ব্যাপারে আরবাব (ম‍ালিকের) সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close