অর্থনীতি

৫% এর বেশি শেয়ার রাখতে অনুমতি লাগবে

অর্থনীতি ডেস্ক: এখন থেকে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনও বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট শেয়ারের ৫ শতাংশের বেশি রাখতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে ওই পরিমাণ শেয়ার আছে, তাদেরকে আগামী এক মাসের মধ্যে তা বাংলাদেশ ব্য্যাংককে জানাতে হবে। সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ বিষয়ক নির্দেশনা সব বাণিজ্যক ব্যাংকে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের জন্য শেয়ার মালিকদের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। নতুন এই ফরমও সার্কুলারের সঙ্গে ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়েছে। একক বা যৌথভাবে কোনও ব্যাংকের ৫ শতাংশ শেয়ার কেনা বা ধারণের ক্ষেত্রেও এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি বা একক পরিবার বা প্রতিষ্ঠান একটি ব্যাংকের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেয়ার রাখতে পারে। এক পরিবার থেকে দুই জনের বেশি পরিচালনা পর্ষদে থাকতে পারে না। কী কারণে এখন এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েকটি ব্যাংকে এক পরিবারের একাধিক সদস্য বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়ে পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন। সেজন্য তথ্য সংগ্রহের এই উদ্যোগ।

এছাড়া কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে যেন ব্যাংকের শেয়ার কেন্দ্রিভূত না হয়, তাও নিশ্চিত করতে চাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, বলেন, কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকে একই পরিবারের দুজনের বেশি সদস্য পরিচালনা পর্ষদে রয়েছে। তাদের কাছে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আইন মেনে কেন তারা পরিচালনা পর্ষদ ছেড়ে যাচ্ছেন না। তার জবাবে ওই সব পরিচালকরা বলেছেন, তারা একই পরিবারের সদস্য হিসেবে নয় বরং শেয়ারধারী হিসেবে পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন। কিন্তু যারা এসব কথা বলছেন, তাদের নিজস্ব আয়ে শেয়ার কেনার মতো আয়ের উৎস নেই। পারিবারিকভাবেই তারা এসব শেয়ার পেয়েছেন বলে মনে হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ন্যাশনাল ব্যাংকে এক পরিবার থেকে পাঁচজন ও সিটি ব্যাংকে দুই পরিবার থেকে ৯ জন পরিচালক রয়েছেন। প্রিমিয়ার ব্যাংকে এক পরিবার থেকে চারজন ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে রয়েছেন এক পরিবার থেকে তিনজন পরিচালক।

Bnagladesh Bank.jpgনতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকে যাদের ৫ শতাংশের বেশি শেয়ার আছে, তারা কী প্রক্রিয়ায় শেয়ার কিনেছে বা পেয়েছে (শেয়ারবাজারের মাধ্যমে/প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে/ উপহার হিসেবে) তা অনুমোদন নেওয়ার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে। শেয়ার কিনে থাকলে টাকার অঙ্কও উল্লেখ করতে হবে। শেয়ার ধারণে আগ্রহী ব্যক্তি হলে তার পরিবারের সদস্য বা তার ওপর নির্ভরশীল কারও ওই ব্যাংক কোম্পানিতে শেয়ার আছে কি না, তাও উল্লেখ করতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বর্তমানে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনও বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট পরিশোধিত মূলধনের শতকরা ৫ ভাগের সমপরিমাণ শেয়ার ধারণ করে আছেন, তাদের নতুন করে অনুমোদন নিতে হবে না। তবে এ ধরনের শেয়ারধারীদের আগামী ১ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত নতুন ছক অনুযায়ী শেয়ার ধারণ সম্পর্কিত তথ্য প্রদান করতে হবে।

তবে আবেদন বা তথ্য দেওয়ার কাজটি নিজে বা ব্যক্তিগতভাবে করলে হবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের আবেদন বা তথ্য পাঠাতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে এ-সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ ও সংরক্ষণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সার্কুলারে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close