জাতীয়

নিজ বক্তব্যের ব্যাখ্যায় সংবাদ সম্মেলনে এইচ টি ইমাম

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের প্রতিষ্ঠিত করা নিয়ে দেওয়া বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। কোনো কোনো গণমাধ্যমে বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পরস্পর থেকে আলাদা করে ও খণ্ডিতভাবে প্রচারের জন্য বক্তব্যের সারমর্মই বদলে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পুরো বক্তব্য প্রচার করলে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে বলে মনে করেন এইচ টি ইমাম।

এইচ টি ইমাম বলেন, তাঁর বক্তব্য ছিল ৪৭ মিনিট। পুরো বক্তব্য শুনলে পাঠক ও শ্রোতা বুঝতে পারবে যে খণ্ডিত বক্তব্য প্রচার করে তাঁকে হেয় করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। পুরো বক্তব্য শুনলে বোঝা যাবে কোন পরিস্থিতিতে তিনি কোন কথা বলেছেন। তিনি সামগ্রিকভাবে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান।

আজ সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এইচ টি ইমাম এসব কথা বলেন। একটি মহল তাঁকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নীরবতা ভাঙলেও অনুশোচনা নেই

ছাত্রলীগকে বাড়তি সুযোগ দেওয়া নয় ভালোভাবে পড়াশোনা করার পরামর্শ দিয়েছেন দাবি করে এইচ টি ইমাম বলেন, সরকারি চাকরিতে মেধাবীরা আসবেন এটাই নিয়ম। তিনি বলেছেন যে ছাত্রলীগ কর্মীদের পড়াশোনা করতে হবে। যোগ্য হলেই তারা উত্তীর্ণ হবে। অসৎ অভিপ্রায় থাকলে তাদের লেখাপড়া করার কথা বলতেন না বলে জানান তিনি। তরুণদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যের উদ্দেশ্য শিক্ষামূলক ছিল বলেও মন্তব্য করেন এইচ টি ইমাম।

এইচ টি ইমাম আরও বলেন, সরকার প্রজাতন্ত্রের সব স্তরে সব মেধাবীর নিয়োগ দিতে চায়। এর প্রমাণ বিগত পরীক্ষাগুলোর ফলাফলের ক্ষেত্রে পাওয়া যাবে। এসব পরীক্ষায় যাঁরা উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁরা কতজন সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন বা পরীক্ষায় কোনোরকম প্রভাব ফেলা হয়েছে কি না—খতিয়ে দেখা যেতে পারে।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্বপালন করার কথা বলেছেন বলে দাবি করেন এইচ টি ইমাম। তিনি বলেন, প্রশাসনের কাজে হস্তক্ষেপ না করে আইন ও নির্বাচনী বিধি মেনে তাঁরা কাজ করেছেন। বক্তব্যে ‘সব জায়গায় আমাদের যাঁরা রিক্রুটেড’ বলতে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কথা বলা হয়েছে। তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের প্রতি ইঙ্গিত করে এইচ টি ইমাম বলেন, তারা নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছিল। তারা ভোটকেন্দ্র পুড়িয়ে দিয়েছিল, মানুষ হত্যা করেছিল। নির্বাচন বানচালের জন্য তাদের অপচেষ্টা ও নাশকতা ঠেকাতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কাজ করেছেন। নির্বাচনী কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সবাই দায়িত্ব নিয়ে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সফল করেছেন। তাই তিনি তাঁর বক্তব্যে তাঁদের প্রশংসা করেছেন। কিন্তু সেই বক্তব্য নিয়ে একটি মহল রং চড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন এইচ টি ইমাম।

এইচ টি ইমাম আরও বলেন, নির্বাচন নিয়ে যারা নাশকতা করেছে, ঠেকাতে না পেরে জনরোষের ভয়ে গর্তে ঢুকেছে, তারাই তার বক্তব্যের বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে মিথ্যার ডুগডুগি বাজাচ্ছে। কিন্তু তা ব্যর্থ হতে বাধ্য।’

ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। ছবি: জাহিদুল করিমধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। ছবি: জাহিদুল করিমপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে এইচ টি ইমাম বলেন, তিনি অসুস্থ। অতিরিক্ত পরিশ্রম করছেন। তাঁর বিশ্রাম দরকার। গতকাল রোববার সারা দিনই প্রধানমন্ত্রী বিশ্রামে ছিলেন। অল্প সময়ের জন্য সংসদে গিয়েছিলেন। তাই তাঁর সঙ্গে দেখা হয়নি। সংবাদ সম্মেলনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানেন বলে জানান এইচ টি ইমাম।

নীরবতার কথা অস্বীকার করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের প্রচার উপপরিষদের চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরদিনই তিনি বেসরকারি টিভি চ্যানেল এটিএন নিউজের সঙ্গে এক আলোচনায় টেলিফোনের মাধ্যমে যোগ দিয়েছিলেন।

বক্তব্যের কারণে পদত্যাগ করার প্রশ্নই ওঠে না বলে মন্তব্য করেন এইচ টি ইমাম।

গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের প্রতিষ্ঠিত করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে দল ও সরকারের ভেতরে-বাইরে প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হন বলে দলীয় সূত্রগুলো জানায়। গত শুক্রবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে দলের সব জ্যেষ্ঠ নেতা এইচ টি ইমামের ওই বক্তব্যের সমালোচনা করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতি বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

গত বুধবার ছাত্রলীগের এক সভায় এইচ টি ইমাম ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে বলেন, ‘নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ পুলিশ ও প্রশাসনের যে ভূমিকা, নির্বাচনের সময় আমি তো প্রত্যেকটি উপজেলায় কথা বলেছি, সব জায়গায় আমাদের যাঁরা রিক্রুটেড, তাঁদের সঙ্গে কথা বলে, তাঁদের দিয়ে মোবাইল কোর্ট করিয়ে আমরা নির্বাচন করেছি। তাঁরা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, বুক পেতে দিয়েছেন।’

গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর এই মনোভাব প্রকাশের পরদিন গত শনিবার হঠাৎ করেই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রচার উপপরিষদের বৈঠক ডাকেন এইচ টি ইমাম। তিনি প্রচার উপপরিষদের চেয়ারম্যান। বৈঠকটি গতকাল বেলা ১১টায় হওয়ার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত হননি। আজ বেলা ১১টায় আবার তিনি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close