অন্যকিছু

মোটরসাইকেলহীন এক শহর

ইয়াঙ্গুন শহরের একটি সড়কের দৃশ্যমোহছেনা মিনা: ইয়াঙ্গুন শহরের একটি সড়কের দৃশ্যমিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার তুলনায় এ শহর কিছুটা আলাদা বটে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অর্থনৈতিক অবস্থা মোটামুটি সমান বলা যায়। তা সত্ত্বেও পার্থক্যগুলো চোখে পড়ার মতো।

বাংলাদেশে গাড়ি চলে রাস্তার বাঁ পাশ ধরে। আর এখানে তার সম্পূর্ণ বিপরীত, অর্থাৎ ডান পাশে চলে। রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ সচরাচর চোখে পড়ে না, কিন্তু গাড়িগুলো ঠিকই শৃঙ্খলা মেনে চলে। এখানে রাস্তায় সব ব্যক্তিগত গাড়ি আর ট্যাক্সির ভিড়। দু-একটা লোকাল বাস দেখা যায়। সাইকেলের মতো এক ধরনের রিকশা আছে, যাতে দুজন বসতে পারে। এগুলো চলে ছোট রাস্তায়। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, এখানে কোনো মোটরসাইকেল নেই। আমি এখনো অস্তিত্ব খুঁজে পাইনি। মোটরসাইকেলহীন এ শহরটা বড়ই অদ্ভুত মনে হয়।

পিই পুয়ো অং নামের স্থানীয় এক যুবকের কাছে জানতে পারলাম, মোটরসাইকেলের মাধ্যমে দুর্ঘটনা বেশি ঘটে বলে এখানকার মানুষ এটি ব্যবহার করে না। এ ছাড়া সরকারও নাকি আইন করে এটি নিষিদ্ধ করেছে। শুধু ইয়াঙ্গুন শহরের জন্য এ আইন প্রযোজ্য। অন্যান্য শহরে অবশ্য মোটরসাইকেলের ব্যবহার লক্ষ করা যায়।

ইয়াঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অং মিউ মিয়াট বলেন, মোটরসাইকেল খুব দ্রুত চলে। অন্যান্য যানবাহন সেই তুলনায় চলতে পারে না। মোটরসাইকেল থাকলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ খুব দ্রুত সম্পাদন করা যেত। কিন্তু নিষিদ্ধ বলে সেটা আমরা ব্যবহার করতে পারি না। থাকলে ভালো হতো। অন্যদিকে ট্যাক্সির জন্য আমাদের অতিরিক্ত ভাড়া প্রদান করতে হয়।

স্মার্ট রুলস অ্যান্ড রেগুলেশনসহ ইয়াঙ্গুন শহরে মোটরসাইকেলের স্বপ্ন দেখে এখানকার জনসাধারণ। একদিন এ স্বপ্ন পূরণ হবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

মোহসেনা মিনা
ইয়াঙ্গুন, মিয়ানমার

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close