জাতীয়

হল ছাড়ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ক্যাম্পাসে বাস চাপায় ছাত্র নিহতের জেরে বিক্ষোভ, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের পর বন্ধ করে দেওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরিবহন ধর্মঘটের মধ্যেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় হল ছেড়েছেন। সোমবার সকাল থেকে পাঁচটি পরিবহন সংগঠনের ডাকা ধর্মঘটের কারণে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় সরাসরি দূরপাল্লার বাস না পেয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে  বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় হলের ঘরমুখো ছাত্র-ছাত্রীদের।

এদিকে নির্বিচারে বাস পোড়ানোর প্রতিবাদে রোববার বিকালে কুষ্টিয়া থেকে সব রুটে বাস চালানো বন্ধ করে দেন পরিবহন মালিকরা। রাতে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা এলেও সোমবার সকাল ৬টা থেকে আবারো ধর্মঘট শুরু করে পাঁচ সংগঠন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। ছাত্রদের সন্ধ্যা ৬টা এবং ছাত্রীদের সকাল ৯টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও পরিবহন বন্ধ থাকায় এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে পরে ছাত্র-ছাত্রীদের সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের জেসমিন আক্তার বলেন, বগুড়ায় যেতে হবে, কিন্তু সরাসরি দূর পাল্লার গাড়ি পাচ্ছি না। অনেক ঝামেলা সামলে শহর থেকে বের হতে হচ্ছে। রোববার দুপুরে ক্যাম্পাসের ডায়না চত্বরে দুটি বাসের মধ্যে চাপা পড়ে নিহত হন বায়ো টেকনোলজি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র তৌহিদুর রহমান টিটু। এরপর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ভাংচুর শুরু করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ও ভাড়া করা ৩০টি বাস পুড়িয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় পুলিশের রবার বুলেট এবং টিয়ার শেলে অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত হন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু বক্কর সিদ্দীক জানান, ক্যাম্পাস থেকে ফিরে যাওয়া শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ধর্মঘটকারী শ্রমিক ও বাস মালিকদের লোকজন যেসব স্থানে অবস্থান নিয়ে আছে সেসব জায়গায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close