অন্য পত্রিকা থেকে

ইটের দাম আকাশচুম্বী: নির্মাতাদের মাথায় হাত

এম. মছব্বির আলী: শীতকাল এলেই চারদিকে ধুম পড়ে যায় পাকা দালানকোঠা নির্মাণের। ব্যস্ত হয়ে পড়েন রাজমিস্ত্রি থেকে শুরু করে ইট ব্যবসায়ী, রড সিমেন্ট ব্যবসায়ী, গাড়ির মালিক ও ডিজেল ব্যবসায়ীসহ নতুন নির্মাণাধীন বাড়ির মালিকরা। কিন্তু এ চিত্র এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন। সবকিছুতেই যেন নীরবতা।

তার একটাই কারণ, এবার ইটের দাম আকাশচুম্বী। যেখানে অন্যান্য বছর ইটের হাজার ছিল মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজার থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকা, এবার প্রতি হাজার ইট বিক্রি হচ্ছে নয় থেকে এগারো হাজার টাকায়, যা অনেকেরই ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। ইটের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় নতুন ঘরবাড়ি ও দালানকোঠা নির্মাণকারীরা ইট ক্রয় করা একেবারে কমিয়ে দেওয়ায় দারুন বিপাকে পড়েছেন এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে কুলাউড়াসহ বিভিন্ন বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা যায়, ইট বিক্রি কমে যাওয়ায় বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী, বালু ব্যবসায়ী, পেট্রোল-ডিজেল ব্যবসায়ী, ট্রাক ও মিনি ট্রাক ব্যবসায়ী এবং ইটভাটার মালিকরা। কাজ না থাকায় দিন দিন বেকার হয়ে যাচ্ছেন রাজমিস্ত্রিসহ এ জাতীয় কাজে জড়িত অনেক যুবক। শহরের কয়েকজন হার্ডওয়্যারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর শীতের শুরুতেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রড-সিমেন্টসহ অন্যান্য সামগ্রী ক্রয় করতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকত।

কিন্তু এবার ইটের দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকজন রড-সিমেন্ট ক্রয় করাও বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে এই শীত মৌসুমে ব্যবসায়ীরা দারুন মন্দা সময় কাটাচ্ছেন। শহরের পেট্রোল-ডিজেল ব্যবসায়ী সুরমান আহমদ জানান, অন্য বছর ট্রাক, মিনি ট্রাক তেল নেওয়ার জন্য তাদের পাম্পে ভিড় জমাত কিন্তু এবার সে অবস্থা নেই। এমনকি তেলের বিক্রিও কমে গেছে।

ব্রাহ্মণবাজার ট্রাক-মিনি ট্রাক সমিতির নেতা মনির আহমদ জানান, ট্রাক মালিক ও শ্রমিকদের টাকা রোজগারের সঠিক সময় ছিল এটা। চালক ও শ্রমিকদের দিন-রাত গাড়ি নিয়ে ইট, বালু, সিমেন্ট এমনকি মাঠে গিয়ে ইটভাটার মাটি টানার কথা ছিল, কিন্তু ইটের দাম বেড়ে যাওয়ায় গাড়িগুলো স্ট্যান্ডেই বেকার সময় পার করছে।

মইষাজুড়ী ঢুলিপাড়ায় অবস্থিত মেঘনা ব্রিকসের মালিক আব্দুল হাই জানান, হঠাৎ করে ভারত থেকে বাংলাদেশের জাফলং হয়ে কয়লা আমদানি বন্ধ হওয়ার কারণে ইটভাটার মালিকদের দ্বিগুণ দামে অন্য স্থান থেকে কয়লা আমদানি করতে হচ্ছে। ফলে ইটের দাম বাড়ানো ছাড়া তাদের কোনো উপায় নেই।

ইটের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি কমে গেছে, যে কারণে ইটভাটাগুলোয় আগের মতো ব্যবসা নেই। ব্রাহ্মণবাজার রাজমিস্ত্রি সমিতির নেতা বাবুল খান জানান, সারা বছর রাজমিস্ত্রিরা বেকার থাকলেও শীত মৌসুমে তাদের কাজের অভাব হয় না, এমনকি কাজ শেষ করতে তাদের হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু এবার ইটের দাম বেড়ে যাওয়া এবং নতুন ঘর-বাড়ি নির্মাণ না হওয়ায় ক্রমেই বেকার হচ্ছেন রাজমিস্ত্রিরা।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close