সিলেট থেকে

জ্বালানি তেলের সংকটে সিলেট

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: তেলের অভাবে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন পাম্প মালিকরা। সিলেট বিভাগের চার জেলায় দৈনিক প্রায় ১০ লাখ লিটার ডিজেল, ৩ লাখ লিটার পেট্রোল ও ১ লাখ লিটার অকটেনের চাহিদা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। বিপুল পরিমাণ এই জ্বালানি তেলের সিংহভাগই আনা হয় চট্টগ্রাম থেকে ওয়াগন ট্রেনে। চাহিদা অনুযায়ী সপ্তাহে দুই-একবার করে তেল সরবরাহ করা হয় ডিপোগুলোয়।

সবশেষ সিলেটে তেল এসেছে গত ৪ জানুয়ারির আগে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৫ জানুয়ারি সারা দেশে লাগাতার অবরোধের ডাক দেওয়ার পর থেকে জ্বালানি তেলের কোনো চালান আর সিলেটে আসেনি। সঙ্কট সামাল দিতে গত মঙ্গলবার থেকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পাহারায় কৈলাশটিলা থেকে অল্প পরিমানে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হলেও তা দিয়ে বিভাগের মোট চাহিদার ২০ ভাগ পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা মো. আখতার ফারুক লিটন।

তিনি আরো জানান, চট্টগ্রাম থেকে আনা অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল সিলেটে পদ্মা, মেঘনা, যমুনার তিনটি ডিপোতে সংরক্ষণ করে বিভাগের ১৬৭টি পাম্পে বিক্রি করা হয়। কিন্তু অবরোধের কারণে ৪ জানুয়ারি থেকে সিলেটে তেলবাহী কোনো ওয়াগন ট্রেন আসেনি।

সিলেটের প্রায় ৮০ ভাগ পেট্রোলপাম্পেই জ্বালানি সঙ্কট রয়েছে জানিয়ে সিলেট সিএনজি পাম্প মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন, জ্বালানি না পাওয়ায় যানবাহনও রাস্তায় নামতে পারছে না। আর অবরোধের কারণে সিলেটের পেট্রোল ও সিএনজি পাম্প মালিকদের প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরাও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে জ্বালানি তেল সরবরাহের কোনো ঝুঁকিমুক্ত উপায় বের করতে পারেননি। তবে চট্টগ্রাম থেকে জ্বালানি তেলবাহী ওয়াগন ট্রেন সিলেটে আনার ব্যবস্থা করতে ইতিমধ্যে প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, অবরোধে সহিংসতার আশঙ্কায় ওয়াগন ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখায় জ্বালানি তেলের এই সঙ্কট দেখা দিয়েছে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে নিরাপদে জ্বালানি তেল পরিবহনের কোনো উদোগ নেওয়া হবে কি না, তাও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close