Americaযুক্তরাষ্ট্র জুড়ে

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিনকার্ড পেতে প্রতারকদের কাছ থেকে সাবধান

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাহী আদেশে অবৈধ অভিবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট দেওয়ার কথা বলা হলেও একটি চক্র গ্রিনকার্ড পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটদলীয় সদস্য গ্রেস মেং শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তাদের মাধ্যমে আবেদন করলে খুব দ্রুত গ্রিনকার্ড (স্থায়ীভাবে বসবাসের সনদ) পাওয়া যাবে বলে প্রতারক চক্রটি প্রচার করলেও ওবামার নির্বাহী আদেশে এ ধরনের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। প্রেসিডেন্টের আদেশের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিতে সংঘবদ্ধ একটি চক্র মাঠে নেমেছে এবং তারা অবৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

প্রতারক চক্রে কিছু অসাধু অ্যাটর্নি, অভিবাসন কসালট্যান্টও রয়েছেন। এরা অবৈধ অভিবাসীদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মোটা অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ফাঁদ পেতেছে। গ্রিনকার্ড হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সনদ, যাকে পারমানেন্ট রেসিডেন্সি কার্ড বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত সোয়া কোটি অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখকে বৈধতা দিতে গত ২০ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট ওবামা একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন।

এই আদেশের মাধ্যমে ২০১০ সালের জানুয়ারির আগে যুক্তরাষ্ট্রে আগত অভিবাসীদের মধ্যে যাদের স্বামী বা স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা  গ্রিনকার্ডধারী তারাই কেবল তিন বছরের জন্যে ওয়ার্ক পারমিট পাবেন। এজন্য আগামী মে মাসের পর আবেদন গ্রহণ করা হবে। ওয়ার্ক পারমিটধারীরা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নিজ দেশে যাতায়াতও করতে পারবেন।

তবে ওবামার ওই আদেশ অনুযায়ী ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন কিংবা এর আওতায় অবৈধ অভিবাসীদের গ্রিনকার্ড দেওয়ার কোনো  কথা বলা হয়নি। প্রেসিডেন্টের আরেকটি নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী ২০১০ সালের ১ জানুয়ারির আগে অভিভাবকের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর অবৈধ হওয়ারাও এই ওয়ার্ক পারমিটের জন্যে আবেদন করতে পারবেন।

তবে এ ক্যাটাগরির আবেদনের প্রক্রিয়া এখনও প্রকাশ করা হয়নি। নিউ ইয়র্কের কুইন্সে নিজের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতারক চক্র সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে গ্রেস মেং বলেন, ওবামার আদেশের প্রেক্ষিতে প্রকৃত অর্থে কারা উপকৃত হবেন এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে ফেব্রুয়ারিতে কয়েকটি টাউন হল মিটিং ও কর্মশালার আয়োজন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আমেরিকান ইমিগ্রেশন ল’ ইয়্যার অ্যাসোসিয়েশনের নিউ ইয়র্ক চ্যাপ্টারের চেয়ারপার্সন অ্যাটর্নি নীতা দত্ত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্র্রশ্নের জবাব দেন। গ্রেস মেংয়ের নির্বাচনী এলাকায় সবচেয়ে বেশি প্রায় ৮০ হাজার অবৈধ অভিবাসী রয়েছে। নিউ ইয়র্ক শহরে বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে ওবামার নির্বাহী আদেশের সুবিধা পেতে পারেন দুই লাখ ৩৮ হাজার জন, যাদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশিও  রয়েছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close