জাতীয়

শান্তি সমৃদ্ধি কামনার মধ্যে দিয়ে শেষ হলো দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমার আখেরী মোনাজাত

শীর্ষবিন্দু নিউজ: আখেরি মোনাজাতে ঐক্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সম্মিলন বিশ্ব ইজতেমা। ভারতের মাওলানা মো. সাদের পরিচালনায় রোববার বেলা ১১টা ২২ মিনিটে টঙ্গীর তুরাগতীরে শুরু হয় ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত। আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা মোনাজাতে শরিক হন দেশ-বিদেশের কয়েক লাখ মুসল্লি।

এই মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এবার শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার ৫০তম আসর। গত শুক্রবার শুরু হয় ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি শুরু হয় প্রথম পর্বের ইজতেমা। আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তা শেষ হয় ১১ জানুয়ারি। রোববার ইজতেমা ময়দান ছাড়াও মাঠের আশপাশের রাস্তা ও অলিগলি, বাসা-বাড়ি-কলকারখানা-অফিস ও দোকানের ছাদ, যানবাহনের ছাদ ও তুরাগ নদীতে নৌকায় বসে দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতে শরিক হন মুসল্লিরা।

আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে প্রচণ্ড শীত এবং আগের দিনের বৃষ্টির ভোগান্তি উপেক্ষা করেই টঙ্গীর তুরাগ তীরের ইজতেমা ময়দানে সমবেত হন লাখ লাখ মুসল্লি। ফজরের নামাজের পর থেকেই বিশেষ ট্রেন, বাসসহ বিভিন্নভাবে এসে ইজতেমা মাঠ ও তার আশপাশে অবস্থান নেন তারা। টঙ্গীর পথে শনিবার মধ্যরাত থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে মোনাজাতে অংশ নিতে চার দিক থেকে মুসল্লিরা পায়ে হেটেই ইজতেমাস্থলে পৌঁছান।

মাঘের শুরুতে শীতের মধ্যে শনিবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও বিকাল থেকেই হাজারো মুসল্লি হেটেই ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করেন। বৃষ্টিতে মুসল্লিদের বিছানা ও মালামাল ভিজে গেলেও আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে তারা বৃষ্টিতে ভেজা বিছানা ও মাথার ওপরে পলিথিন বিছিয়ে কেউ শুয়ে, কেউ বসে রাত পার করেন। মাঠে পৌঁছাতে না পেরে লাখো মানুষ কামাড়পাড়া সড়ক ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ফজরের নামাজ পড়েন এবং আখেরি মোনাজাতের জন্য খবরের কাগজ, পাটি, সিমেন্টের বস্তা ও পলিথিন বিছিয়ে বসে পড়েন।

আখেরি মোনাজাতের জন্য টঙ্গী ও আশপাশের এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রয়েছে অঘোষিত ছুটি। আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তা। মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১১ সাল থেকে টঙ্গীতে দুই দফায় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আয়োজকরা জানান, ১৯৪৬ সালে প্রথম কাকরাইল মসজিদে ইজতেমার আয়োজন শুরু হয়। তারপর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামের হাজী ক্যাম্পে ও ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৬৬ সাল থেকে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বর্তমানস্থলে ইজতেমা হয়। পরে তুরাগ তীরের ১৬০ একর জমি স্থায়ীভাবে ইজতেমার জন্য বরাদ্দ দেয় সরকার।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close