Featuredঅন্য পত্রিকা থেকে

কৌশলী এবং সতর্ক পন্থা অনুসরণ করছে জামায়াত

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলনে বিএনপি রাজপথে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারলেই মাঠে নামবে তাদের জোট ও ভোটমিত্র জামায়াত। অন্যথায় হামলা-মামলা এড়িয়ে চলবে দলটির নেতাকর্মীরা। গত বছরের মতো নতুন বছরে একা একা মাঠে নেমে সাংগঠনিক শক্তি ক্ষয় করতেও নারাজ তারা।

জানা যায়, বিএনপি গত বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করার আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকলেও প্রায় সারাদেশে এই আন্দোলনের চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে জামায়াত-শিবির। কিন্তু এক বছর পর নতুন করে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হলে তাতে কৌশলী এবং সতর্ক পন্থা অনুসরণ করছে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির। তবে যেসব জেলায় জামায়াত সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী সেখানে তারা তাদের অবস্থানের কিছুটা জানান দিচ্ছে।

জানা গেছে, চলমান আন্দোলনে রাজধানীর রাজপথে তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের। সম্প্রতি পুরান ঢাকার বকশীবাজারে বিএনপির ওপর ছাত্রলীগের হামলায় জামায়াত নীরব ভূমিকা পালন করে। এর আগে গাজীপুরে ২০ দলের সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি হলেও জামায়াত নড়াচড়া করেনি। এছাড়া সরকারের এক বছর উপলক্ষে ৫ জানুয়ারি জোটের কর্মসূচিতেও মাঠে দেখা যায়নি তাদের। তবে ৫ জানুয়ারির পর টানা অবরোধ কর্মসূচিতে যেসব জেলায় জামায়াত-শিবির সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী সেখানে সহিংসরূপে আবির্ভূত হচ্ছে দলটির নেতাকর্মীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, বিএনপি ৫ জানুয়ারি মাঠে নামতে পারেনি। খালেদা জিয়া এখনো তার অফিসে অবরুদ্ধ। তাই জামায়াতও নিজেদের মতো কৌশল এবং সতর্কতার মধ্যদিয়ে আন্দোলন করছে। এছাড়া জামায়াত সহিংস আন্দোলন করবে না বলেও তিনি দাবি করেন।

জানা যায়, চলমান অবরোধে রাজশাহীতে জামায়াত-শিবিরের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন, দুই পুলিশ সদস্য। সাতক্ষীরায় জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা তিনটি ট্রাক, এক গ্রাম পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি ভাংচুরের পর অগি্নসংযোগ করেছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বাড়িতে হামলা, অগি্নসংযোগ ও একজন ব্যবসায়ীর দোকান ভাংচুরের পর লুটপাট করেছে তারা।

সূত্র আরো জানায়, আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই নিস্তেজভাবে সময় পার করছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। সরকারবিরোধী কর্মকান্ডে আগের মতো তেজীভাব নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের মাঠে উপস্থিতি নেই বললেই চলে। শুধু তাই নয়, ট্রাইব্যুনাল জামায়াতের আমির মওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল ও ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মীর কাসেম আলীর ফাঁসির দন্ড দেয়ার পরও নীরব রয়েছে দলটি। হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করলেও আগের মতো মাঠে নামতে তাদের দেখা যায়নি।

এসবের জবাব যাদের দেয়ার কথা, তারা এখন অনেকেই সাংগঠনিক কর্মকান্ড ছেড়ে নিজেদের কাজে মনোনিবেশ করছেন। কারণ জামায়াত এখন যেভাবে কৌশলী ভূমিকা পালন করছে, এক বছর আগেও এমন ছিল না। সারাদেশে সহিংস আন্দোলন ছিল তাদের নিত্যদিনের কর্মসূচি। এ সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামের পরিবর্তে একটু নীরব থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করাকেই এ মুহূর্তে অনেক বেশি শ্রেয় বলে মনে করেন তাদের অনেকে। কারণ বিগত প্রায় আট বছর বিএনপির চেয়ে জামায়াত নেতারা অনেক বেশি হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন বলে তারা মনে করেন।

এদিকে কারাগারে আটক দলের শীর্ষ নেতাদের মুক্তির আন্দোলন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গেও বিএনপির এক ধরনের দূরত্ব রয়েছে। তাই বিএনপির ডাকে কোনো কর্মসূচিতেই জামায়াতের উপস্থিতি আগের মতো নয়। এ ব্যাপারে জামায়াত নেতাদের বক্তব্য হচ্ছে, তারা বিএনপির হাতিয়ার হতে চায় না। যেকোনো কর্মসূচিতে আগে বিএনপি নেতাদের উপস্থিতি দেখবে, তারপর দলের কর্মীদের মাঠে নামাবে, তার আগে নয়। সব মিলিয়ে বিএনপির দুর্বল আন্দোলনের কারণেই জামায়াতকে নয়া কৌশল নিতে হচ্ছে।

জামায়াত নেতাদের ধারণা, যদি তারা নীরব থাকেন, তবে তাদের লাভের পাল্লাই ভারী হবে। কেননা, বিএনপি যতই সরকার পতন আন্দোলনের ডাক দিক না কেন, জামায়াত বুঝতে পেরেছে, বিএনপি খুব সহসা আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটাতে পারবে না। তাই অহেতুক আন্দোলন-কর্মসূচিতে শোডাউন করে নতুন করে মামলা-হামলার মুখোমুখি হতে চায় না তারা। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাই কেন্দ্রীয়ভাবে আপাতত নীরবতা পালন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে নেতাকর্মীদের।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close