অন্য পত্রিকা থেকে

কাকলীর হাজতবাস সিলেটে তোলপাড়

ওয়েছ খছরু: কণ্ঠশিল্পী কাকলী সহপাঠীদের নিয়ে রাত কাটালেন থানাহাজতে। রাতব্যাপী নানা নাটকীয়তার পর সকালে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান থানা থেকে। আর এ ঘটনাটি চাউর হলে সিলেটে তোলপাড় শুরু হয় । পুলিশ বলেছে, কাকলী মদ্যপ ছিল। পুলিশের সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণেই সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে খোঁজখবর নেওয়ার পর সঙ্গী সহ কাকলীকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কাকলী এনি সিলেটে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পরিচিত।

তবে বিভিন্ন সময় উচ্ছৃঙ্খল আচরণের জন্য আলোচিত হয়ে ওঠেন। কাকলীর ‘ফেসবুক’ আইডি খুললেই উচ্ছৃঙ্খল জীবনের নানা কাহিনী ভেসে ওঠে। বিভিন্ন ভঙ্গিমায় ছবি প্রদর্শন, কখনও কখনও পানীয় বোতল হাতে নানা ঢংয়ে পোজ দিতে দেখা যায় কাকলীকে। সিলেটের উঠতি যুবকদের কাছেও কাকলীর পরিচিতি কম নয়। গত বুধবার রাতে কাকলীর উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে থানা হাজতে রাত কাটান তার সহপাঠী আরও ৯ জন। আর বিষয়টি নিয়ে রাতভর হয়েছে নানা নাটকীয়তা। বুধবার রাতে সিলেটের বিমানবন্দর সড়কের গাজী এম্পেরিয়ামে একটি পার্টির আয়োজন করা হয়।

দক্ষিণ সুরমার এক ব্যবসায়ী ঢাকা থেকে আগত তার দুই ব্যবসায়ীর সৌজন্যে ওই হোটেলের পার্টি সেন্টারে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে আয়োজকদের দাওয়াতে সদলবলে উপস্থিত হন কাকলী। সঙ্গে ছিলেন সিলেটের আরও দুই কণ্ঠশিল্পী তন্বী ও মুন্নী। রাত ১০টা থেকে হোটেলে আয়োজন শুরু হয়ে চলে রাত একটা পর্যন্ত। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন মানবজমিনকে জানিয়েছেন, হোটেলে মূলত ঢাকা থেকে আগত দুই অতিথির জন্য গানের আয়োজন করা হয়েছিল। তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আরও ৩০-৩৫ জন। তবে গানের অনুষ্ঠানকে বেশ মাতিয়ে রাখেন কাকলী।

বেশ খোলামেলা বসনে কাকলী গানের সঙ্গে সঙ্গে ডান্সও পরিবেশন করেন। এ সময় তাকে বেশ উন্মাতাল মনে হয়েছিল। স্বাভাবিক অবস্থা থেকে একটু ভিন্ন ভঙ্গিমায় উপস্থাপন করে কাকলী মাতিয়ে রাখেন পুরো অনুষ্ঠান। রাত একটার দিকে হোটেলে অনুষ্ঠান শেষ হয়। গাজী এম্পেরিয়ামের ম্যানেজার শিমুল দাস জানিয়েছেন, রাতে হোটেলে পার্টি ছিল। পার্টি শেষ করে তারা দেড়টার মধ্যে হোটেল ত্যাগ করে চলে যায়। এরপর কি ঘটেছে সেটি তারা জানেন না। এদিকে, হোটেল ছেড়ে কাকলী তার সহপাঠীদের নিয়ে নোহা মাইক্রোবাসে করে বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে আম্বরখানা আসছিলেন। নগরীর চৌকিদেখি এলাকায় আসামাত্র পুলিশের এসআই আরিফ সহ ফোর্স গাড়িটিকে সিগন্যাল দেয়।

এ সময় ড্রাইভার গাড়ি থামালে পুলিশ তাদের পরিচয় জানতে চায়। এ নিয়ে এএসআই আরিফের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন কাকলী। পুলিশের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এতে করে পুলিশের সন্দেহে হলে কাকলী সহ গাড়ির অন্য ৯ জনকে বিমানবন্দর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে এসি, ওসি সহ সিনিয়র কর্মকর্তাদের নজরে এলে তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামেন। এ সময় কাকলীর সহপাঠীরাও পুলিশকে জানায় তারা হোটেলে গানের অনুষ্ঠানে গিয়েছিল। ফেরার পথে পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, কাকলীর আচরণ ও কথাবার্তায় মনে হয়েছে সে মদ্যপ।

তবে, অন্যরা বেশ শান্তভাবে পুলিশের সঙ্গে আচরণ করেছে। রাতে থানায় যাওয়ার পর কাকলী পুলিশের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। তবে, তাদের হাজত থেকে ছাড়িয়ে আনতে পুলিশের কাছে তদবিরের অন্ত ছিল না। সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন নেতা কাকলী ও সঙ্গীদের ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। বিমানবন্দর থানার এএসআই রফিক জানিয়েছেন, তাদের থানায় নেয়ার পর পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। সকালের দিকে মুচলেকার মাধ্যমে সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয়। তিনি জানান, রাতে পুলিশ যানবাহন আটকায়। তল্লাশি করে। এটাই পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক। আর সন্দেহভাজন হলে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তেমিন কাকলী সহ অন্যদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

এদিকে, কাকলী এনি সিলেটে যুবকদের কাছে পরিচিত মুখ। কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পরিচিত কাকলী সিলেট শহরে পরিবার পরিজন নিয়ে বাস করেন। এর আগে শ্রীমঙ্গলে ছিল তাদের বাস। সিলেটের মিডিয়া জগতে কাকলী উচ্ছৃঙ্খল হিসেবে বেশ পরিচিত। সিলেটের প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার বেশ দহরম-মহরম। এ কারণে পার্টি সেন্টারে ডাক পড়ে কাকলীর।

এ ব্যাপারে কাকলীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার মোবাইল ফোনে একাধিক বার ফোন করা হলেও পাওয়া যায়নি। তবে, কাকলীর সঙ্গে আটক হওয়া একজন বলেন, কাকলীর উচ্ছৃঙ্খলতার কারণেই এক রাত তাদের হাজতবাস করতে হয়েছে। নতুবা সিলেটের পুলিশ কখনও শিল্পীদের সঙ্গে এরকম আচরণ করে না।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close