যুক্তরাজ্য জুড়ে

ব্রিটেনের সাউথ শীল্ডসে ব্যবসা প্রতিষ্টানে এক বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ব্রিটেনের একেবারে নর্থ ইষ্টের ছোট্র ছিম ছাম শহর সাউথ শীল্ডস- যা নিউক্যাসল আপন টাইন ও সান্ডারল্যান্ডের মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থিত। সাগর পাড়ের শহরে আজকাল বাঙালি পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতেছেন বেশ স্বচ্ছন্দে। করছেন নানা ব্যবসা বাণিজ্য। সাউথ শীল্ডসের ওসেন রোডকে বলা হয়, কারী রাজ্য- লন্ডনের ব্রিকলেনের পরেই দ্বিতীয় বাঙালি কারি সাম্রাজ্য হিসেবে সকলের কাছে ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।

এই সাউথশীল্ডসে যাওয়ার পথে শহরের একটু দূরে নিরিবিলি এক উপ-শহর গ্রাম্য পরিবেশে রয়েছে, তার নাম মারসডেন।এই মারসডেনের মধ্যে একটি জায়গা রয়েছে যা লেক সাইড হিসেবে খ্যাত। জনসংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। তবে এখানকার মানুষের মধ্যে শিক্ষার হার অত্যন্ত নিচের দিকে, মানুষের আয় নিম্ন পর্যায়ের। অধিকাংশ পরিবারই গরীব।

এই মারসডেনের লেইক সাইড এলাকায় বাঙালি পিতা আমিন আলীর সাথে ছেলে টিপু সুলতান খুলেন টেক ওয়ে ব্যবসা। এই টেকওয়েতে এক সাথে বাবা, ছেলে, ছোট ভাই, বোনের জামাই, চাচা, ও আন্যন্য আত্মীয় মিলে কাজ করতেন দীর্ঘ দিন ধরে। আমীন আলী পরিবার পরিজন সহ থাকেন সান্ডারল্যান্ডে। সাউথশীল্ডস থেকে সান্ডারল্যান্ডের দূরত্ব গাড়িতে প্রায় ২২ থেকে ৩২ মিনিটের মতো লাগে, বাসে লাগে ৪৫ থেকে ৫৭ মিনিট। আর সেন্ট্রাল লন্ডন থেকে গাড়ীতে যেতে লাগে প্রায় ৫ ঘন্টা, ট্রেনে ৩ ঘন্টা ৩০ মিনিট, আর বাসে ৭ ঘন্টা সময় লাগে। সেখানে ( সাউথ শীল্ডসে) বিখ্যাত মেরিন একাডেমি রয়েছে, যা ফরেন ছাত্র ছাত্রীদের আকৃষ্ট করে প্রচুর পরিমাণে ।

প্রতিদিন আমীন আলী ও টিপু সুলতান সহ পরিবারের সকলে মিলে লেক সাইডে হার্বস এন্ড স্পাইস নামক নিজেদের টেকওয়েতে গিয়ে কাজ করেন রাত ১২টা অবধি। দীর্ঘদিন ধরে তারা এভাবেই কাজ করছিলেন। কোন অসুবিধা হয়নি। ছোট খাটো এলাকার বখাটে ছাড়া তেমন কোন উৎপাত কখনো হয়নি। মাঝে মধ্যে ঐ এলাকার স্থানীয় ইয়ং কিছু সন্ত্রাসী ফ্রি খাওয়ার চেস্টা ছাড়া আর কোন ঝামেলা ছিলোনা বললেই চলে।

গত মঙ্গলবার টিপু সুলতান এবং তার বাবা আমীন আলী সহ অন্যরা যথারীতি কাজের জন্য লেক সাইডে হার্বস এন্ড স্পাইসে গিয়েছিলেন। প্রতিদিনের মতো টেকওয়েতে কাজও করছিলেন। বাবা কিচেনে অন্যদের সাথে শেফের কাজ করছিলেন, সাথে টিপুও। ৩২ বছর বয়সী সদা হাস্যোজ্জ্বল টিপু দুই সন্তানের জনক। বাবার সাথে কিচেন এবং ফ্রন্ট ডেস্ক দুটোই সামাল দিতেন প্রয়োজনে। রাত আনুমানিক ৯টার কিছু বেশী হবে, এমন সময় টেকওয়ে উইক ডে তে খুব একটা ব্যস্ত থাকেনা। হঠাত করে মোটর সাইকেলে দুই আরোহী এসে থামেন টেকওয়ের সামনে। পেছনের দরজা দিয়ে তারা ভিতরে ঢোকেন। ভেতর থেকে দরজা আটকানো না থাকায় আগন্তক দুইজন ঢুকেই গুলি করে। তারা পিস্তল বের করে খুব কাছে থেকে টিপুকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে খুব দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে ৯.৫৮ মিনিটের দিকে তারা এই হার্বস এন্ড স্পাইস থেকে টেলিফোন কল পেয়ে সেখানে গিয়ে এই টিপুকে গুলিবিদ্ধ পান। তাকে হাসপাতালে নেয়া হলেও সে মৃত্যু বরণ করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কাউকে বা কোন আগ্নেয়াস্র কিংবা ধারালো কোন কিছু পায়নি যাতে টিপু জখম বা আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হতে পারে। পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে টিপুকে খুব কাছে থেকে গুলি করে দুর্বৃতরা পালিয়ে গিয়েছে। বাবা আমীন আলী মোটর সাইকেল আরোহীদের কথা পুলিশকে জানিয়েছেন।

সান্ডারল্যান্ডে টিপুর স্কুল সহপাঠী এবং আত্মীয়-স্বজন সকলেই টিপুর কোন শত্রু আছে বলে মনে করতে পারছেননা। ২৭ বছর বয়সী টিপুর বোন জুবিলী বেগম যিনি সান্ডারল্যান্ডে থাকেন তিনি বলেছেন, তার পিতা আমীন আলী মঙ্গলবার রাতে ফোন করে বলেন টিপু গুলিবিদ্ধ, কিচেনের দরজা খোলা থাকায় দুর্বৃত্তরা এসে গুলি করে পালিয়েছে। তিনি বলেন, আমার পিতা ঐ সময় তাদের দুজনের একজনকে ধরে ফেলেছিলেন কিন্তু তাদের হাতে পিস্তল, ঐ সময় তারা টিপুকে দেখিয়ে তার ঘাড়ে ও মাথায় গুলি করে চলে যায়।

পুলিশ সুপার সাল পালসলোস বলেছেন, এটা একটা প্ল্যানড মার্ডার। প্রেস কনফারেন্সে পুলিশ সুপার বলেছেন তারা মোটর বাইক ও দুই আরোহীকে খুজছেন। এব্যাপারে এখনো কিছু বলা যাবেনা বলে জানিয়েছেন, কারণ তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। পুলিশ সুপার আরো বলেছেন, তারা মার্ডারের যাবতীয় তথ্য উদঘাটন এবং কেন এই হত্যাকান্ড তা জানার চেস্টা করছেন। তবে পুলিশ নিশ্চিত টিপু সুলতানকে টেকওয়ের খুব কাছে থেকে গুলি করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হয়াকান্ডের পর থেকে পুলিশ লেক সাইড এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশী টহল বাড়িয়েছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close