যুক্তরাজ্য জুড়ে

ফেয়ার ইমিগ্রেশন সিস্টেম ব্রিটেনের অগ্রাধিকার বললেন ডেভিড ক্যামেরুন

নিউজ ডেস্ক: ডেইলি এক্সপ্রেসে ডেভিড ক্যামেরুন তার পরিকল্পনার নাম দিয়েছেন ফেয়ার ইমিগ্রেশন সিস্টেম, অগ্রাধিকার ব্রিটেনের। আর্টিকেলে ডেভিড ক্যামেরুন ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলা ছাড়াও অতীতের লেবার দলের নীতিকেও ভ্রান্তনীতি বলে সমালোচনা করেন।

সেই সাথে নিজের প্রথম ডাউনিং স্ট্রিটে ঢোকার পর ইমিগ্রেশন নিয়ে যে পরিকল্পনা করেছিলেন, তার প্রসঙ্গ টেনে একনাগারে সুনির্দিষ্ট ছয়টি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

ব্রিটেনের ইমিগ্রেশন নিয়ে ডেভিড ক্যামেরুনের ছয়টি পরিকল্পনা হলো :

০১. ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো থেকে ইমিগ্র্যান্ট আসা ক্রমান্বয়ে হ্রাস করা। যারা ব্রিটেনে শুধুমাত্র চাইল্ড বেনিফিট, ট্যাক্স ক্রেডিট, হাউজিং বেনিফিট ক্লেইমের জন্য ব্রিটেনে আসার ইচ্ছা বা পরিকল্পনা করছেন, তাদেরকে ব্রিটেনে আসার পর কমপক্ষে চার বছর থাকার পরেই উপরোক্ত বেনিফিট ক্লেইম করার যোগ্য হবেন। এর অর্থই হলো ইইউ থেকে ইমিগ্র্যান্ট আসা কমিয়ে আনা। এতে তাদের কাছে ব্রিটেন আর খুব আকর্ষণীয় বাসস্থান হবে না বলে জানান ডেভিড ক্যামেরুন ।

০২. ডেভিড ক্যামেরুন সোশ্যাল হাউজিং এর ব্যাপারেও নতুন পরিকল্পনার কথা লিখেছেন। তিনি বলেন, সোশ্যাল হাউজিং ক্লেইম করতে হলে ইমিগ্রেন্ট ঐ ক্লেইমকৃত এলাকায় কমপক্ষে চার বছর বাস করার প্রমাণ দিতে হবে।

০৩. ক্যামেরুন বলেন, ইইউ নাগরিক ব্রিটেনে ইমিগ্র্যান্ট হয়ে নিজে ব্রিটেনে থাকলে, অথচ নিজ সন্তান ব্রিটেনের বাইরে (ইইউতে) থাকার পরে চাইল্ড বেনিফিট, চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট ক্লেইম করতে পারবেন না। এতে তিনি যত দীর্ঘ সময়ই ব্রিটেনে কাজ করেন না কেন- তাতেও তিনি বিবেচিত হবেন না।

০৪. ইউকে ট্যাক্স পেয়ার ইইউর ইমিগ্র্যান্টদের জব সিকার এলাউন্স সাপোর্ট করবেন না। ডেভিড ক্যামেরুন লিখেছেন, ইউনিভার্সাল ক্রেডিট সিস্টেম উচ্চাকাক্সক্ষী হওয়ার পরে আমরা নতুন আইন করেছি ইইউ’র জব সিকারদের (চাকুরী প্রার্থী) জন্য, যাতে তারা এটা ক্লেইম করতে পারবেন না। তাই আমরা পুরোনো সিস্টেমের বিপরীতে নতুন সিস্টেম ইইউর ইমিগ্র্যান্ট ৬০০ পাউন্ড পর্যন্ত জব সিকার্স ক্লেইম করতে পারবেন।

০৫. ডেভিড ক্যামেরুন লিখেছেন, কাজ খোঁজার জন্য ইইউর নাগরিকদের জন্য আমরা আরো কড়াকড়ি আরোপ করতে চাই। আর তা হলো ব্রিটেনের আসার পরে ছয় মাসের মধ্যে যদি তিনি কাজ যোগাড় করতে না পারেন, তবে ব্রিটেন ত্যাগ করতে হবে।

০৬. ডেভিড ক্যামেরুন এবিউস এর বিষয়ে আরো শক্তিশালী ক্ষমতা এপ্লাইয়ের পক্ষে। তিনি লিখেছেন, ফ্রি মুভমেন্টের সুযোগ নিয়ে ক্রিমিনাল, ফ্রড, ভিক্ষুক ও রাস্তায় ঘুমানোর লোক, ফ্রড ভ্রমণকারী, ক্রিমিনাল রেকর্ডধারীদের ব্রিটেন ডিপোর্টেড এবং পুনরায় ব্রিটেনে ফিরে আসার পথ বন্ধ করে দিতে চাই। ডেভিড ক্যামেরুন তার এই ছয়টি পরিকল্পনার ব্যাপারে বলেন, ব্রিটেনের ইমিগ্রেশন এবং ওয়েলফেয়ার সিস্টেম সিকিউর করার জন্য এগুলো আমরা করতে চাই। এসব পরিকল্পনা আমরা আলোচনা করার পর ইইউর ভেতরে থাকা না থাকা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবো এবং সেজন্যে ২০১৭ সালে আমরা রেফারেন্ডামের ব্যবস্থা করবো।

ডেভিড ক্যামেরুন তার এই ছয় পরিকল্পনা তুলে ধরার আগে লিখেছেন, ব্রিটেনের জন্য ইমিগ্রেন্ট অবশ্যই ভালো এবং তারা আমাদের অর্থনীতি ও সমাজ জীবনে অবশ্যই ভুমিকা রাখছেন। ইমিগ্র্যান্টদের জন্য দরজা বন্ধ করার মানেই হলো স্কিল ও ভালো ইমিগ্র্যান্ট আসার পথ বন্ধ করে দেয়া।

তবে ডেভিড ক্যামেরুন এও লিখেছেন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ইমিগ্র্যান্টরা এখানে আসেন একেবারে শূন্য হাতে এবং আসার পর নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করেন এবং ব্রিটিশ সোসাইটিতেও ভূমিকা রাখেন। তাই আমরা ইমিগ্র্যান্টদের আসা বন্ধ নয়, ফেয়ার সিস্টেমের মাধ্যমে কন্ট্রোল করতে চাই।

তিনি বিগত লেবার সরকারের ক্ষমতার সময়ে দুই তৃতীয়াংশ ইমিগ্র্যান্ট ব্রিটেনের আসার পর অবৈধভাবে থাকার রেকর্ড এবং ব্রিটিশ সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য লেবার দলের কঠোর সমালোচনা করেন। এ বিষয়ে তিনি লিখেছেন, লেবার দলনেতা এড মিলিব্যান্ডের ইমিগ্রেশন নিয়ে পরিষ্কার কোন পরিকল্পনা নেই। এড মিলিব্যান্ডের যা আছে তা কেবলমাত্র হৈ চৈ বা শোরগোল আর ইমিগ্রেশন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা, যা তিনি তার ক্ষমতার শুরুতে এসে পেয়েছিলেন।

ডেভিড আরো বলেন, এই সমস্যা কেবলমাত্র ইমিগ্র্যান্টদের সংখ্যা দিয়ে নয় বরং আগের ইমিগ্রেশন সিস্টেমই ভুলে ভরা ছিলো। এমনও অনেক ইমিগ্র্যান্ট আছেন যারা জীবনে কখনো ট্যাক্স পে করেননি অথচ দিনের পর দিন বেনিফিট নিয়ে দিনযাপন করেছেন।

তিনি লিখেছেন, আমি আমার অফিসে প্রথমে ঢুকেই এই সমস্যা অনুধাবন ও চিহ্নিত করার পর সমাধানের পথে এগিয়েছি। ক্যামেরুন লিখেছেন ১৯৯০ সালের পর ইউরোপের ইমিগ্র্যান্টদের গণহারে আসার পথ সিগনিফিক্যান্টলি আমরা কমিয়ে আনার সূচনা করেছি এবং এতে আমরা সফলও হচ্ছি।

তিনি আরো লিখেছেন, ক্ষমতায় এসে ভুয়া কলেজ এর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছি এবং ভুয়া কলেজ ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছি। আমরা অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের ধরতে তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স কেড়ে নিয়েছি, ব্যাংক একাউন্ট খোলার পথ বন্ধ করেছি, ভূমি মালিকদের ইমিগ্র্যান্টদের স্ট্যাটাস চেকের ব্যবস্থা করেছি।

ক্যামেরুন আরো লিখেছেন, আমরা এতসবের মধ্য দিয়ে অবৈধদের চিহ্নিত করার পরে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। আমরা নতুন নিয়ম করেছি। আইনের পরিবর্তন এনেছি। আগে ডিপোর্ট এবং পরে আপিল করার ব্যবস্থা চালু করেছি। বিদেশি অপরাধীদের যাদের আমরা ধরেছি, তাদের আগে দেশে ফেরত পাঠিয়েছি। নিজ দেশ থেকে আপিলের সুযোগ দিয়েছি। যারা ধরা পড়ার পর আপিলের সুযোগ নিয়েছেন, তাদের আমরা একেবারেই ফেরৎ পাঠিয়েছি এবং ব্রিটেনে ফিরে আসার পথ বন্ধ করে দিয়েছি।

ক্যামেরুন লিখেছেন, আগামী এপ্রিল থেকে সকল এয়ারপোর্ট এবং চেকপয়েন্ট ও পোর্টসমূহে কম্প্রিহেনসিভ চেকিং সিস্টেম চালু হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে যারা আসবেন তাদের প্রত্যেককেই এই কম্প্রিহেনসিভ চেকিং এর মুখোমুখি হতে হবে বলে জানান তিনি।

ক্যামেরুন লিখেছেন, বিগত কয়েক দশকে অধিকসংখ্যক ইমিগ্র্যন্ট ইউরোপ থেকে ব্রিটেনে এসেছেন, যা আমাদের জনগণের উপর বোঝা হয়ে আছেন। ব্রিটিশ জনগণ হতাশ। সেজন্যেই আমরা ক্লিয়ারলি পরিবর্তন আনতে চাচ্ছি, আমরা একটা স্বচ্ছ পরিকল্পনা সাজিয়েছি। কারণ আমরা স্বচ্ছ ইউরোপ চাই। আমাদের পরিকল্পনা তাই একেবারেই পরিষ্কার এবং স্বচ্ছ। ডেভিড ক্যামেরুন লেবার দলের ইমিগ্রেশন নীতির সমালোচনার সঙ্গে সঙ্গে ইউকিপেরও সমালোচনা করেন।

তিনি লিখেছেন, ইউকিপ এড মিলিব্যান্ড ও এড বলসকে ডাউনিং স্ট্রিটে পাঠাতে চায়, যাদের ইমিগ্রেশন নিয়ে কোন স্বচ্ছ পরিকল্পনা নেই। সবশেষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, আমরা স্বচ্ছভাবে ইমিগ্রেশন কন্ট্রোল করতে চাই। আর লেবার ইউকিপ চায় ইমিগ্রেশন ও অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খলা। আমরা ইইউ রেফারেন্ডাম চাই-তারা রেফারেন্ডাম চায়না। সুতরাং ফেয়ার ইমিগ্রেশন সিস্টেম- যেখানে ব্রিটেন ফার্স্ট- এই নীতি জনগণ চান নাকি ইমিগ্রেশন বিশৃঙ্খলা চান- সেটা এখন জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close