অন্য পত্রিকা থেকে

আচরণবিধির ফাঁদে আটকা নির্বাচনী আমেজ

ইকরাম উদ দৌলা: নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণত নির্বাচনী এলাকায় দেখা যায়, উৎসবের আমেজ। কিন্তু এবারের তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে না, প্রার্থীরাও রয়েছেন বেকায়দায়।

মূলত, কড়া আচরণবিধির কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ নগরবাসী।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রার্থীরা নানা জায়গায় গণসংযোগ করছেন। কিন্তু ভোটার বা নগরবাসীর মনে সাড়া ফেলতে পারছেন না। চায়ের স্টল বা মহল্লার মোড়ে মোড়ে নেই নির্বাচনী তর্ক।

অনেকেই মনে করছেন, প্রচারণার অংশ হিসেবে সীমিত আকারে হলেও মিছিল করতে দেওয়া উচিত। এতে প্রচুর মানুষ সম্পৃক্ত হতে পারে। ফলে ভোটার-প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার মাঝেই একটা উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।

কিন্তু এবারই প্রথম মিছিলের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, শোভাযাত্রাকেও মিছিল হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ফলে প্রার্থীদের পক্ষে কোনো ধরনের মিছিল করতে পারছেন না ভোটার ও সমর্থকরা।

অন্যদিকে আচরণবিধিতে প্রচারণার কাজে কমিউনিটি ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আছে। ফলে প্রার্থীরা ঘরোয়া পরিবেশে প্রচারণা চালাতে গিয়েও আচরণবিধি লংঘনের ফেরে পড়ছেন।

এছাড়া যেসব প্রচারণায় বিপুল সংখ্যক ভোটারকে সম্পৃক্ত করা যায়, নির্বাচন কমিশন তার প্রায় সবকিছুই সীমিত করে রেখেছে। শুধু পোস্টার টানিয়ে প্রচারণা চালানোর ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তবে সেটাও হতে হবে সাদা-কালো এবং নির্দিষ্ট মাপের।

এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ভোটার হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ শিক্ষার্থী বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।

বাংলানিউজকে তিনি বলেন, আচরণবিধির কড়া নিয়ম কানুনের কারণে ভোটে যে উৎসবের আমেজ তৈরি হওয়ার কথা, তা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উন্নয়ন কর্মী বলেন, কতো মাস্তান-সন্ত্রাসীর মুক্তির জন্য মিছিল হয়, আর যারা জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য নির্বাচন করবেন, তাদের বেলায় হবে না- এটা ঠিক না। কাজেই সীমিত আকারে হলেও প্রার্থীদের মিছিল করতে দেওয়া উচিত। কিংবা বেশি বেশি গণসংযোগ হয়, এমন প্রচারণামূলক ব্যবস্থা রাখা উচিত।

মিছিল নিষিদ্ধের বিষয়ে ইসির উপ-সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, আগে মিছিলে নিষেধ ছিলো না। কিন্তু, এবারই প্রথম মিছিল না করার জন্য কঠরভাবে বলা হচ্ছে। আচরণবিধি সংশোধন করে মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে শোভাযাত্রা করলেও মিছিল হিসেবেই গণ্য হবে।

এ বিষয়টির সঙ্গে অনেকে সহমতও পোষণ করছেন। তাদের মতে, মিটিং মিছিল নিষেধ করায় নির্বাচনী ব্যয় কমেছে। এছাড়া মিছিল থেকেই অনেক সময় সহিংস কর্মকাণ্ড ঘটে। তাই এটা না হওয়াই ভালো। তবে উৎসবের ভেতর দিয়ে প্রার্থীদের প্রচারণার ব্যবস্থা করা উচিত।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এ বিষয়ে বাংলানিউজকে বলেন, মিছিল না থাকায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হচ্ছে না-এটা ঠিক। কিন্তু মিছিল করলে প্রার্থীর ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। এছাড়া হাঙ্গামার সম্ভাবনাও থাকে। তাই মিছিল না থাকাতে ভালো-ই হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবার নির্বাচনে উৎসবের আমেজ না পাওযার পেছনে অন্য কারণও রয়েছে। সম্প্রতি সহিংস পরিবেশের মধ্য দিয়ে নগরবাসী দিন অতিবাহিত করেছে। কাজেই সবাই ব্যস্ত নিজেদের নিয়ে। আর এর প্রভাব নির্বাচনেও পড়েছে।

আগামী ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close