অন্য পত্রিকা থেকে

মাহফুজের তৈরি বিমান ক’দিন পরই আকাশে উড়বে

মো. এখলাছুর রহমান: সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের যুবক মাহফুজ একদিন স্বপ্ন দেখেছিলেন বিমান তৈরী করার মত দুঃসাহসিক কাজের। এখন তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। তার তৈরী বিমান ক’দিন পরই আকাশে উড়বে।

জকিগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা কসকনকপুর ইউনিয়নের উত্তর কসকনকপুরের বাসিন্দা মাহফুজ ছোটবেলা থেকেই অনুসন্ধীৎস্যু মনের অধিকারী। মাহফুজ ইন্টারনেটের মাধ্যমেই জানতে পারেন ভিয়েতনামের ১৩ বছরের একটি শিশু বিমান তৈরী করেছে। সে বিমান আকাশেও উড়ছে। এ থেকেই মাহফুজের মনে বিমান তৈরীর আকাংখা দেখা দেয়।

বিমান তৈরীর কলা কৌশল জানতে তিনি ইন্টারনেটে দিনরাত পড়াশোনা শুরু করেন। বিমান তৈরী তথ্য উপাত্ত ও কলা কৌশল রপ্ত করেন। একদিন তার বাড়িতেই বিমান তৈরীর কাজ শুরু করেন। ৪ মাস ধরে বিমান তৈরীর কাজ চলছে মাহফুজের বাড়ির উঠানে। ওয়ার্কসপের দু’জন কারিগর কামরুল ও বাপ্পা চন্দ্র দাসের সাহায্য নিয়ে বিমান তৈরীর কাজ এখন সম্পন্নের পথে।

বিমান তৈরীর সংবাদ পেয়ে এ প্রতিবেদক মাহফুজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আগামী ১৫ মে বিমানটি আকাশে উড়বে বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এ বিমান তৈরিতে খরচ হবে প্রায় ৮ লাখ টাকা। তবে আরো ভালো যন্ত্রপাতি দিয়ে বিমানটি তৈরী করতে বিশ লাখ টাকার মত লাগবে।

এ বিমানে থাকবে অল্টিমিটার (যা দিয়ে উচ্চতা বোঝা যাবে), এয়ারস্পিড মিটার (গতি মাপক যন্ত্র), ভার্টিকেল স্পিড মিটার (উড্ডয়ন অবতরণ গতিমাপক যন্ত্র), কম্পাস (দিক নির্ণায়ক), ইনক্লাইনোমিটার (ডানে-বায়ে কাত হওয়ার মাত্রা নির্ণায়ক), গাড়ির ইঞ্জিনকে এয়ারক্রাইফট ইঞ্জিনে রুপান্তর করা হবে। বিমানটি চলবে গ্যাস দিয়ে। গ্যাস শেষ হলে অকটেন ব্যবহার করা যাবে। বিমানটি ৮/৯ হাজার ফুট উচ্চতা দিয়ে একটানা ৩ ঘন্টা পর্যন্ত উড়তে পারবে। ৩ ঘন্টায় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার যেতে পারবে। বিমানটির ওজন হবে ৩০০ কেজি। তিনি জানান, বিমানটি তৈরীতে লোহার পাত ও প্লেনসিট ব্যবহার করেছেন। ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার খালি জায়গা থাকলেই যে কোন স্থানে বিমানটি অবতরণ করতে পারবে।

পাইলটসহ ১ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে। মাহফুজ জানান, বিভিন্ন দেশে এ ধরনের বিমান রয়েছে। ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকায় এ ধরনের বিমান কেনা যায়। বিমান তৈরীর পিছনে তার কোন বানিজ্যিক উদ্দেশ্য নেই। একান্ত শখ হিসাবেই্ বিমানটি তৈরী করেছেন। বিমান তৈরীর ব্যাপারে তিনি কারো কাছে প্রশিক্ষন নেননি। ইন্টারনেটে পড়াশোনা করে অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি তিনি চীন ও সিলেট থেকে সংগ্রহ করেছেন। বিমান তৈরীর কাজে তিনি সরকার বা কোন বিত্তশালীর আর্থিক সহযোগিতা নেননি। কেউ কোনদিন বিমান তৈরী করতে চাইলে তিনি তাকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছেন বলে জানান। বিমান তৈরীর পর মাহফুজ একটি মেলার আয়োজন করতে চান।

মাহফুজ জকিগঞ্জের কালিগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল মন্নানের ছেলে। মাহফুজ হাফিজ মজুমদার বিদ্যানিকেতন ও স্কলার্সহোমে পড়াশুনা করেছেন। তিনি এ বছর সিলেটের নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিএস পাশ করেছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close