জাতীয়

আজ মহান মে দিবস

শীর্ষবিন্দু নিউজ: আজ মহান মে দিবস। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন। এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় শ্রমিক-মালিক ঐক্য গড়ি, সোনার বাংলা গড়ে তুলি।বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে যথাযথ মর্যাদায়।

বিশ্বের কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও দাবি আদায়ের মহান মে দিবস। ঐতিহাসিক এ দিনটিকে শ্রমিকরা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করবেন। আয়োজন হবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার। সরকারি-বেসরকারি উদ্যেগ ছাড়াও, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠনসমূহ বিভিন্ন কর্মসূচিপালন করছে। শুক্রবার সকালে রাজধানীতে বেশ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন দিবসটিকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল বের করে। মিছিলগুলো রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে। মিছিল ও সমাবেশে শ্রমিকদের অধিকারের পক্ষে শ্লোগান দিতে শোনা যায়।

১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা উপযুক্ত মজুরি এবং দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। কল-কারখানা তখন গিলে খাচ্ছিল শ্রমিকের গোটা জীবন। অসহনীয় পরিবেশে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা প্রতিদিন কাজ করতে হতো। সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করে শ্রমিকের স্বাস্থ্য একেবারে ভেঙে যাচ্ছিল। শ্রমজীবী শিশুরা হয়ে পড়েছিল কঙ্কালসার। তখন দাবি উঠেছিল- কল-কারখানায় শ্রমিকের গোটা জীবন কিনে নেয়া যাবে না। এই দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের সময়

ওই বছরের ১লা মে শ্রমিকদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে বহু শ্রমিক হতাহত হন। পরের বছর প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে দিনটিকে মে দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয় যথাযোগ্য মর্যাদায়। এ উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট এডভোকেট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।

আজ থেকে ১২৯ বছর আগে ১৮৮৬ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের ‘হে মার্কেট’র শ্রমিকরা আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ওইদিন তাদের আত্মদানের মধ্যদিয়েই শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আত্মত্যাগের এ দিনটিকে তখন থেকেই সারা বিশ্বে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী সরকারী ছুটি থাকে এ দিন।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট তার বাণীতে বলেন, একটি দেশের উৎপাদন, উন্নয়ন ও সামগ্রিক অগ্রগতিতে শ্রমজীবী মানুষের অবদান অপরিসীম। মেহনতি মানুষের কল্যাণ ও ভাগ্যের পরিবর্তনের সঙ্গে দেশের ভাগ্যোন্নয়ন জড়িত। শ্রমিকের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ করে তাদের ন্যায্য মজুরি, পেশার বিকাশ, কাজের সুষ্ঠু ও নিরাপদ কর্ম-পরিবেশ সৃষ্টি এবং মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অতীব জরুরি। আমি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিপুল জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে পরিণত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানাই।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, মালিক-শ্রমিকের মধ্যে ঐক্য ও সুসম্পর্ক বজায় রাখা ও নিরাপদ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা বিভিন্নমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। জাতীয় শিশু শ্রমনীতি ২০১০ এবং জাতীয় শ্রমনীতি ২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে। শ্রমবান্ধব এ সরকার শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে লাগসই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও ব্যবহার এবং উন্নত ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে রূপকল্প-২০২১ বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এক বাণীতে বলেন, মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রা ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি অর্জনে শ্রমজীবী মানুষের অবদান স্মরণে রেখেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সম্মান ও শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। শ্রমিকের অধিকার আদায় ও তা সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি পালনে আমরা কখনও পিছপা হইনি। এদিকে মহান মে দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রমিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close