অন্য পত্রিকা থেকে

অভিযোগের স্তূপ ইসিতে

* ভোট লুট ও ইচ্ছামতো ফল তৈরির অভিযোগকারীদের মধ্যে আ. লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীই বেশি
* এসব আমলে না নিয়ে দ্রুত ফলের গেজেট প্রকাশ করতে যাচ্ছে ইসি
* নির্বাচন কমিশনারের মতে, ইসির এখন কিছু করার নেই, অভিযোগকারীদের ট্রাইব্যুনালে যেতে হবে

কাজী হাফিজ: নির্বাচন কমিশনের কাছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে দলীয় সমর্থনবঞ্চিত প্রার্থী আওয়ামী লীগের ইলিয়াছুর রহমানের অভিযোগ, নির্বাচনের দিন দুপুর ১২টার দিকে ওই ওয়ার্ডের ৩৮ কেন্দ্রে তাঁর প্রতিপক্ষ ঠেলাগাড়ি প্রতীকের মো. সেলিমের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায় এবং প্রতিটি কেন্দ্রের প্রতিটি বুথ থেকে তাঁর পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে ইচ্ছামতো সিল মারে। কেন্দ্রের বাইরে থাকা তাঁর এজেন্টদেরও মারধর করা হয় এবং ওই সব এজেন্টের কাছে থাকা ১০টি ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়া ইলিয়াছুর রহমান অভিযোগে বলেন, ‘আমি তাৎক্ষণিকভাবে খবর পেয়ে জরিনা সিকদার স্কুল ও রায়েরবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যাই। আমাকে দেখার সাথে সাথে ওরা কয়েকটি বোমা ও কয়েক রাউন্ড গুলি নিক্ষেপ করে। পুলিশের সাথে গোলাগুলি হয় এবং আমাকে হত্যার চেষ্টা করে।

ওই সময় হাজারীবাগ থানার সেকেন্ড অফিসারের সহযোগিতায় পুলিশ প্রটেকশনের মাধ্যমে আমাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। আমার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট সৈয়দ আমিুনল হোসেনের মাধ্যমে আমি রিটার্নিং অফিসারের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জানাই।’

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে লেখা এই অভিযোগপত্রে ইলিয়াছুর রহমান আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘এই ভোট লুটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুনর্নির্বাচনের ব্যবস্থা এবং জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করুন।’

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) গত মঙ্গলবার থেকে এ ধরনের অনেক অভিযোগ জমা হয়েছে। অভিযোগকারীদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ আমলে না নিয়ে দ্রুত নির্বাচনের ফলের সরকারি গেজেট প্রকাশ করতে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসার ফলাফল ঘোষণা করে দিলে নির্বাচন কমিশনের আইনত আর কিছুই করার নেই। কমিশনে এ বিষয়ে অভিযোগ-আবেদন করেও কোনো লাভ নেই। অভিযোগকারীদের এখন নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যেতে হবে।’

এ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম ঘটলে তার ভিডিওচিত্র ধারণ করার জন্য তিনি সিটিতে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫৩ জন কর্মী নিয়োগ করেছিল নির্বাচন কমিশন। ওই কর্মীদের ওয়েবক্যামসংবলিত একটি করে ল্যাপটপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ডিএসসিসির তিনটি কেন্দ্রে তাঁদের তিনটি ল্যাপটপ ছিনিয়ে নিয়ে ধারণ করা ভিডিওচিত্র নষ্ট করে পরে ফেরত দেওয়া হয়। অনেক কেন্দ্রে ওই কর্মীরা সহজে ঢুকতেও পারেননি।

প্রতিকূলতার মধ্যেও অনিয়মের চিত্র ধারণ করে ইসি সচিবালয়ে জমা দিয়েছেন কয়েকজন। কিন্তু সেসব এখনো দেখার সময় পাননি নির্বাচন কমিশনাররা। জানতে চাইলে ওই কর্মীদলের সদস্য ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের স্টেনো-টাইপিস্ট কাজী নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি ছোট চাকরি করি। আমার কাছে এসব বিষয়ে কিছু জানতে চাইয়েন না। যা দেখেছি, যা ধারণ করেছি তা নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছি।’

এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের আইটি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এসব তথ্য ভবিষ্যতে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য কাজে লাগতে পারে। আগের কমিশন সিসি টিভির মাধ্যমে ভোট পর্যবেক্ষণের পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু ওই ব্যবস্থা ব্যয়বহুল বিবেচনায় পরিত্যাগ করা হয়েছে। এবার ল্যাপটপ দিয়ে পরীক্ষা করতে গিয়ে কমিশন উপলব্ধি করেছে যে এত বড় একটি ডিভাইসে ভালো কাজ হবে না।’

নির্বাচন কমিশন ৪৫ জন থানা/উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছিল। গতকাল পর্যন্ত তাঁরাও কোনো পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন জমা দেননি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, কমিশন যেমন প্রতিবেদন চায়, তেমন প্রতিবেদনই জমা দেওয়া হবে।

যত অভিযোগ : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) কাউন্সিলর পদে সরকারি দলের সমর্থনবঞ্চিত আরেক প্রার্থী গতকাল দুপুরে ইসি সচিবালয়ে অভিযোগ জমা দেন। ওই সময় নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচনে আমার নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

প্রকৃত ফল প্রকাশ না করে ইচ্ছামতো ফল প্রকাশ করে আমার প্রতিপক্ষকে জিতিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার এজেন্টরা ছিলেন সবাই অনার্সের ছাত্রী। তাঁদের কেন্দ্র থেকে অপমানজনকভাবে বের করে দেওয়া হয়।’

ডিএনসিসির সংরক্ষিত ১১ নম্বর আসনের এক প্রার্থীর অভিযোগ, আদাবর এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে সব কেন্দ্র দখল করে নিয়ে ভোট লুট করা হয়।

ডিএসসিসির ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে দলের সমর্থনবঞ্চিত প্রার্থী এবং মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ মনির হোসেন ইসিতে অভিযোগ করেন, তাঁর ওয়ার্ডে ২০টি কেন্দ্রে প্রাপ্ত ভোট দেখানো হয়েছে তিন হাজার ৪৮৯। অথচ তিনি ওই ওয়ার্ডের ১৪টি কেন্দ্রে পেয়েছেন তিন হাজার ৮২৭ ভোট।

মনির হোসেন তাঁর অভিযোগপত্রে বলেছেন, ‘ভোট গণনার অনেক আগেই অনেক কেন্দ্রে আমার পোলিং এজেন্টদের কাছে রেজাল্টশিটে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং তাদের জোর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে মনমতো রেজাল্টশিট তৈরি করা হয়। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের অনেকেই এ দুর্নীতিতে অংশ নেন।’ মনির হোসেন জানান, তিনি রিটার্নিং অফিসারের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি।

ডিএনসিসির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এ এল এম কাওছার আহম্মদের পক্ষে তাঁর প্রস্তাবকারী আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করে বলেন, ‘এলাকায় সৎ, শিক্ষিত ও ভদ্র মানুষ হিসেবে পরিচিত ৬৫ বছর বয়সী কাওছার আহম্মদ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই মিরপুর থানার পুলিশ ও ডিবি পরিচয়ে তাঁর বাসায় গিয়ে এক দল লোখ তাঁকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য কয়েকবার হুমকি দেয়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গত ১৬ এপ্রিল তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়।

এর পরও ভোটগ্রহণের দিন সকাল থেকে কাওছার আহম্মদের রেডিও মার্কায় বিপুলসংখ্যক ভোট পড়ে। কিন্তু দুপুর ১২টার পর কুমড়া প্রতীকের (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রতীক) লোকজন আমাদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে জাল ভোট দিতে থাকে এবং পরে ভোট গণনাও বিলম্বিত করে। আমরা এখনো জানতে পারিনি ওই ওয়ার্ডে কোন প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন।’ কাওছার আহম্মদের পক্ষ থেকে ওই ওয়ার্ডের ১৭টি কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গণনার আবেদন জানানো হয়েছে।

এদিকে ইসি সূত্রে জানা যায়, ঘোষিত ফল অনুসারে ওই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাত্র ১৩৫ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার ভোটগ্রহণের দিন এবং পরদিন বুধবারও তিন সিটি নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, নির্বাচনী ফলে ত্রুটি, জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে ও নির্বাচন কমিশনে অনেকে অভিযোগ করেন। এতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রতিপক্ষ প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরেন প্রার্থীরা।

অভিযোগের সঙ্গে কেউ কেউ অনিয়মের নানা ছবি, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও ছবির ক্লিপিংও সংযুক্ত করেন। অভিযোগকারীদের বেশির ভাগই নির্বাচনী ফলের গেজেট প্রকাশ না করতে ইসির প্রতি অনুরোধ জানান।

ডিএনসিসির মেয়র পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল গত বুধবার ইসিতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে নির্বাচনে কারচুপি, কেন্দ্র দখলসহ বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে গেজেট প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানান। অভিযোগের সঙ্গে ভোটগ্রহণে অনিয়মের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও ছবির ক্লিপিং জমা দেন তিনি। তাঁর অভিযোগপত্রে বলা হয়, ভোটগ্রহণের দিন সকাল ১০টার মধ্যে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সব কেন্দ্র দখলে নেয়।

ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগকর্মীরা অবাধে বিচরণ করে এবং প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের সহযোগিতায় ব্যালট পেপারে টেবিল ঘড়ি মার্কায় সিল মেরে অবাধে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখে। অভিযোগে তিনটি দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনে যেসব অনিয়ম হয়েছে তা সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ব্যালট পেপার সিলগালা করে নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে এবং তদন্ত কমিটির সুপারিশসহ প্রতিবেদন না হওয়া পর্যন্ত মেয়র পদের ভোটের সরকারি ফলসংবলিত গেজেট প্রকাশ বন্ধ রাখতে হবে।

ডিএসসিসির ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিব নির্বাচনী ফল প্রকাশে অনিয়মের অভিযোগ করেন। প্রমাণ হিসেবে তিনি একটি কেন্দ্রের রেজাল্ট শিট উপস্থাপন করে বলেন, খোদেজা খাতুন প্রাইমারি স্কুলের পুরুষ ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার দুই হাজার ৬১৫ জন। কাউন্সিলর পদে এক হাজার ৬৪টি ভোট পড়েছে।

ওই শিটে অনুপস্থিত ভোটার দেখানো হয়েছে এক হাজার ১৫১টি। বাকি ৪০০ ভোট তাহলে কোথায় গেছে সেই প্রশ্ন রাখেন তিনি। অথচ একই কেন্দ্রে মেয়র পদে ফলের শিটে প্রদত্ত ভোট দেখানো হয়েছে এক হাজার ৬৬ এবং অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে এক হাজার ৫৪৯। এ বিষয়ে ইসিতে অভিযোগ করে খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিব ওই কেন্দ্রের ভোট পুনর্গণনা বা পুনঃভোটগ্রহণের দাবি জানান। তিনি আরো বলেন, ‘একটি কেন্দ্রে ৪০০ ভোট কারসাজি করে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ২৬৮ ভোট বেশি দেখিয়ে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।’

ডিএনসিসির ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী রমনা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোক্তার সরদারের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ওই ওয়ার্ডে ১৭টি কেন্দ্রে তিনি তিন হাজার ৪২৪ ভোট পেয়েছেন। অথচ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফয়জুল মুনির চৌধুরীকে ১৭ কেন্দ্রে দুই হাজার ৪৭৩ ভোট পাওয়ার পরও জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।’ মোক্তার সরদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এক প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশেই আমার ওয়ার্ডের ফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে।’

এ ছাড়া ডিএনসিসির সংরক্ষিত ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী পেয়ারা মোস্তাফা জাল ভোটের অভিযোগ এনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী রেজাউল হক ভূঁইয়া কেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে পুনর্নির্বাচনের জন্য আবেদন করেছেন। ডিএসসিসির ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফ মো. আলমগীর নির্বাচনে কারচুপি, কেন্দ্র দখল ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে ইসির কাছে প্রতিকার চেয়েছেন।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close