অন্য পত্রিকা থেকে

ব্রিটেনে বর্ণবাদী হামলায় সিলেটের আলতাব আলীর মৃত্যু বার্ষিকী আজ: ভাইয়ের মৃত্যুতে বোন সিতারা এখনও চিরকুমারি

নিউজ ডেস্ক: ব্রিটেনে বর্ণবাদী হামলায় নিহত সিলেটের যুবক আলতাব আলীর ৩৭ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ (সোমবার)। ১৯৭৮ সালের ৪ মে মাত্র ২৫ বছর বয়সে ব্রিটেনে বর্ণবাদী হামলায় তিনি প্রাণ হারান। এ হত্যাকান্ড নিয়ে সে সময় ব্রিটেনসহ সারা বিশ্বে বিক্ষোভ হয়েছে। উঠেছিল নিন্দার ঝড়।

কে এই আলতাব আলী : সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার সৈয়দরগাঁও ইউনিয়নের মোল্লাআতা গ্রামে মধ্যবিত্ত পরিবারে ১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন আলতাব আলী। তার বাবা হাজী আব্দুস সামাদ ও মা সোনাবান বিবি। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে আলতাব আলী ছিলেন সবার বড়।

সিলেটের মদনমোহন কলেজে পড়াকালে পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা আনতে ১৯৬৯ সালে পাড়ি জমান ব্রিটেনে। সেখানে একটি লেদার ফ্যাক্টরিতে তিনি কাজ করতেন। কিন্তু মাত্র ২৫ বছর বয়সে ১৯৭৮ সালের ৪ মে বর্ণবাদী হামলার শিকার হয়ে আলতাব আলী প্রাণ হারান। বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে এই হত্যাকান্ড নিয়ে।

হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ সে দিন বিক্ষোভ করেন ব্রিটেনে। বর্ণ বৈষম্যের শিকার বাঙালিরাও সে দিন রাস্তায় নেমেছিল নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য। আলতাব আলী নিহত হওয়ার কয়েক দিন পর তার মৃত্যু সংবাদ জানতে পারে তার পরিবার। লাশ আসে প্রায় এক মাস পর। দাফন করা হয় পারিবারিক কবরস্থানে।

দেশে অবহেলিত আলতাব আলী : আলতাব আলী হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে তার পরিবারের স্বপ্নেরও মৃত্যু হয়। আজ পর্যন্ত পরিবারটির আর্থিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। অথচ ব্রিটেনে প্রতি বছর ৪ মে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে ‘শহীদ আলতাব আলী দিবস’। প্রবাসী বাংলাদেশীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে

সরকার শতবর্ষেও পুরনো সেন্টমেরি পার্কের নামকরণ করে শহীদ আলতাব আলীর নামে। সেখানেই গড়ে উঠেছে শহীদ মিনার। এই পার্কটি এখন বাঙালির আন্দোলন সংগ্রামের ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল সাক্ষী। আলতাব আলীর নামে ব্রিটেনে গড়ে উঠেছে একাধিক সংগঠন। বিভিন্ন সংগঠন করে কেউ কেউ নিজেদের

আলতাব প্রেমী হিসেবে পরিচয় দিলেও তারা তার পরিবারের কোনো খোঁজখবর নেয়নি। গত ৩৭ বছরের মধ্যে আলতাব আলীকে নিয়ে তার জন্মভূমিতে কোনো সভা সেমিনারের আয়োজন করা হয়নি। ফলে এলাকার লোকজন জানেন না বিলাতে গিয়ে কিভাবে আলতাব আলীর স্বপ্নের মৃত্যু ঘটে। তবে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের কাছে আলতাব আলীকে পরিচয় করিয়ে দিতে আজ সোমবার ।

সম্প্রতি ছাতকের মোল্লাআতা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ আলতাব আলীর কবরটির চারপাশে বাঁশ বেঁধে রাখা হয়েছে। সুদূর ব্রিটেনে তার এই আত্মত্যাগ প্রবাসী বাঙালিরা গর্বের সাথে স্মরণ করলেও তার গ্রামের নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি অপরিচিত। তার ছোট ভাই আব্বাস আলী জানান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী চাচা আব্দুল

হাসিমের মাধ্যমে আলতাব আলী ১৯৬৯ সালে যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে একটি লেদার ফ্যাক্টরিতে তিনি কাজ করতেন। ফুফাত ভাই আবুল হোসেনের সাথে একই বাসায় থাকতেন। ছয় বছর থাকার পর ১৯৭৫ সালে আলতাব আলী তার মাকে দেখতে দেশে আসেন। ওই বছর ২৭ মার্চ গোবিন্দগঞ্জের বিলপাড়ের মাহমুদুর

রহমানের মেয়ে জাহানারা বেগমের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের ছয় মাস পর তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান।

আব্বাস আলী জানান, তার ভাই ব্রিটেনে বর্ণবাদী হামলায় নিহত হলেও ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে তারা কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। আলতাব আলী বিয়ে করে

ফের ব্রিটেন যাওয়ার সময় তার কিশোরী বোন সিতারা বেগমকে সে দেশে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাই অকালে মারা যাওয়ার দুঃখে সিতারা বেগম আর বিয়ে করেননি। সারা জীবন চিরকুমারী থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close