প্রযুক্তি আকাশ

বাংলাদেশের ব্যান্ডউইথ ইতালিতে

প্রযুক্তি আকাশ ডেস্ক: প্রতিবেশী ভারতের পর এবার বাংলাদেশের ব্যান্ডউইথ যাচ্ছে ইউরোপের দেশ ইতালিতে। বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) এরই মধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চূড়ান্ত অনুমতি পেতে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে বাংলাদেশের ব্যান্ডউইথ সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক ইতালির স্পার্কেলস কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হবে। ব্যান্ডউইথ বলতে একটি নেটওয়ার্ক বা মডেম কানেকশনের মাধ্যমে পাঠানো ডাটার পরিমাণ বোঝায়।

এটি সাধারণত বাইটস পার সেকেন্ড বা বিপিএস দিয়ে পরিমাপ করা হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে দুইশ’ জিবিপিএস ক্ষমতাসম্পন্ন সাবমেরিন ক্যাবল রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩০ জিবিপিএস বাংলাদেশ ব্যবহার করে। বাকি ১৭০ জিবিপিএস অব্যবহৃত। সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি সাবমেরিন ক্যাবল স্থায়ী হয় ২০ থেকে ২৫ বছর। বাংলাদেশের এ ক্যাবলটির যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সাল থেকে। এ হিসেবে ইতালির প্রতিষ্ঠানটি সাবমেরিন ক্যাবলটি ব্যবহার করতে পারবে ১১ থেকে ১৬ বছর।

বিএসসিএল জানিয়েছে, এ জন্য প্রতিবছর ক্যাবল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ইতালির স্পার্কেলস ৪৮ লাখ টাকা পরিশোধ করবে। বিএসসিসিএল আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল কনসোর্টিয়াম সিমিউয়ি-৪ এর সদস্য। ক্যাবলটির সংযোগ ফ্রান্স থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত। এ কারণে যে কোন কোম্পানির পক্ষে এ রুটে ক্যাবল সংযোগ নেয়া সহজ।

এরই ভিত্তিতে ইতালির প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্যাবল নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। বিএসসিসিএল জানিয়েছে, দুই বছর আগে সরকার সক্ষমতার অর্ধেক সাবমেরিন ক্যাবল বিক্রি বা লিজ দেয়ার নির্দেশনা দেয়। তখন কোন প্রতিষ্ঠানকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পরে ভারতে ব্যান্ডউইথ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরই মধ্যে সাবমেরিন ক্যাবলের ইন্টারনেটের অব্যবহৃত ১০ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ রপ্তানির অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এ নিয়ে ভারতের সঙ্গে এগ্রিমেন্ট বিটুইন ভারত সঞ্চার নিগাম লিমিটেড (বিএসএনএল) অ্যান্ড বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) ফর লিজিং অব ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ডউইথ ফর ইন্টারনেট অ্যাট আখাউড়া (জিরো পয়েন্ট)’ শীর্ষক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।

এর মাধ্যমে বছরে ৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা (এক দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার) পাবে বাংলাদেশ। রপ্তানির জন্য ক্যাবল কক্সবাজার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া হয়ে আগরতলা জিরো পয়েন্ট দিয়ে ভারতে যাবে। বাংলাদেশ অংশে সীমান্ত পর্যন্ত ক্যাবল স্থাপনে সরকারই খরচ বহন করবে। ভারতের অংশের জন্য ভারতের প্রতিষ্ঠানই খরচ বহন করবে। বাংলাদেশের এ ব্যান্ডউইথ ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মনিপুর ও অরুণাচল রাজ্যে ব্যবহৃত হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ শিগগিরই সিমিউয়ি-৫ এর সঙ্গে যুক্ত হবে। তখন ব্যান্ডউইথের সক্ষমতা বাড়বে আরও এক হাজার ৩০০ জিবিপিএস। এ নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করে আমরা যে অর্থ পাব তা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যোগ হবে। আয়ের এক চতুর্থাংশ টাকা দিয়ে বিএসসিসিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বছরের বেতন হয়ে যাবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close