অন্য পত্রিকা থেকে

আলী আমজাদের বন্ধ ঘড়ি চালুর দাবি তুললেন বংশধর আলী আব্বাস খান

মারুফ হাসান: সিলেটের ঐতিহ্যের প্রতীক আলী আমজাদের ঘড়িটি দীর্ঘদিন ধরে অচল। আগেও কয়েক দফা বন্ধ হয়েছিলো ঘড়িটি। বিভিন্ন সময় মেরামত করে পুনরায় চালু করা হয়। নগরীর এই ঐতিহ্য রক্ষায় এবার কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠাতা নওয়াব আলী আমজাদের বংশধর নওয়াব আলী আব্বাস ঘড়িটি দ্রুত মেরামতের দাবি তুলেছেন।

ঐতিহ্যবাহী এই ঘড়িটি বর্তমানে বন্ধ। ক্ষুব্ধ নগরবাসী। ঘড়িটি কালের সাক্ষী। ব্রিটিশ আমল পরবর্তী ভারত, পাকিস্তান পেরিয়ে এখন স্বাধীন বাংলাদেশ। ঘড়িটি বারবার নষ্ট হয়ে যায় । মেরামতও হয়। যথাযথ রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে ঘড়িটির এই বেহাল দশা।

জানা যায়, ঘড়িটিকে ২০১০ সালে সচল করেছিলো সিলেট সিটি করপোরেশন। ছয় মাস যেতে না যেতেই এটি আবার অচল হয়ে পড়ে। ২০১১ সালে আবার ঘড়ি মেরামতের লক্ষ্যে ২৮ লাখ টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। মেরামতের ৬ মাসের মাথায় ঘড়িটি অচল হয়ে পড়ে।

এরপর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের উদ্যোগে ঘড়িটি আধুনিকায়ন ও মেরামত করা হয়। যদিও সেই সময় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। হয়েছিলো তদন্ত কমিটি। সঠিক মেরামতের অভাবে আজো অচল হয়ে পড়েছে আছে এই ঐতিহাসিক নিদর্শণ।

ঘড়িটির প্রতিষ্ঠাতা নবাব আলী আমজাদ’র বংশধর মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাস খান ডেইলি সিলেট ডট কমকে বলেন, সিলেটের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে তৎসময় আমার প্রপিতামহ নওয়াব আলী আমজাদ খান ঘড়িটি টাওয়ার সহ নির্মাণ করেছিলেন। আমাদের যতদিন নবাবী ছিল ততদিন আমরা এটা রক্ষনাবেক্ষন করেছি।

পরবর্তিতে বিভিন্ন সময় পৌর প্রশাসন ঘড়িটির সংস্কার করে। সর্বশেষ সিলেট সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের সময়ে সংস্কার করা হয়। আমরা আশা করি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী আলী আমজদের ঘড়িটি পুণরায় সংস্কারের মাধ্যমে সচল করতে সিটি কর্পোরেশন যথাযথ উদ্দ্যোগ গ্রহন করবে।

জানা যায়, ২০০২ সাল থেকে আলী আমজাদের ঘড়িটির দায়িত্বে আছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। এর আগে জেলা পরিষদ এর রক্ষণাবেক্ষণ করেছে। ঘড়িটির দায়িত্বে থাকা সিলেট সিটি কর্পোরেশন বলছে খুব শিঘ্রই ঘড়িটি চালুর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব ডেইলি সিলেট ডট কমকে জানান, বছর দিন হলো ঘড়িটি বন্ধ আছে। আমরা এটি পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছি। আশা করছি মাস দুয়েকের মধ্যে তা চালু করা সম্ভব হবে।

সিলেটে আগত পর্যটকদের একটি অন্যতম আকর্ষণ এই ঘড়ি। বেড়াতে এসে এর সাথে দাঁড়িয়ে একটি ছবি তুলতে কেউ ভুল করেন না। বর্তমানে ঘড়িটি বন্ধ থাকায় বেড়াতে আসা পর্যটকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নোয়াখালী থেকে স্ব-পরিবারে বেড়াতে আসা ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম পাভেল বলেন, সিলেটে এবার আমি দ্বিতীয়বার এসেছি। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী নিদর্শণগুলোর মধ্যে ঘড়িটির ব্যাপারে অনেক শুনেছি। তাই এর সাথে ছবি না তুলে পারলাম না। ঘড়িটি চালু থাকলে হয়তো আরো ভালো লাগতো।

হযরত শাহজালালের মাজার, চা-পাতা, আর আলী আমজাদের ঘড়ির কোন চিত্র চোখে পড়লেই ভেসে ওঠে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমিক সিলেট। এই পুণ্যভূমিতে স্থাপিত প্রায় ১৪০ বছরের ঐতিহ্যবহনকারী ঘড়ির থমকে দাঁড়ানো কাটাটি আবার চলবে এমন প্রত্যাশা সিলেটবাসীর।

 

এক নজরে আলী আমজাদের ঘড়ি :

স্রোতস্বিনী সুরমা নদীর তীর ঘেঁষে সিলেট মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজের পাশে নবাব আলী আমজাদের ঘড়িটি অচল অবস্থায় কালের সাক্ষি হয়ে আজো দাঁড়িয়ে আছে। লোহার খুঁটির ওপর ঢেউটিন দিয়ে সুউচ্চ গম্বুজ আকৃতির এ মনোরম স্থাপত্য শৈলীর পরিচায়ক ঘড়িঘরটি আলী আমজাদের ঘড়িঘর নামে পরিচিতি লাভ করে।

ঘড়ি ঘরটি পরিমাপ: দৈর্ঘ্য : ৯ ফুট ৮ ইঞ্চি ; প্রস্থ : ৮ ফুট ১০ ইঞ্চি; নিচ থেকে ছাদ পর্যন্ত উচ্চতা : ১৩ ফুট; ছাদ থেকে ঘড়ি অংশের উচ্চতা : ৭ ফুট; ঘড়ির উপরের অংশের উচ্চতা : ৬ ফুট ; মোট উচ্চতা : ২৬ ফুট।

অনেকদিন আগের কথা তখন এ অঞ্চলে ঘড়ির অবাধ প্রচলন ছিল না, মানুষ সূর্যের দিকে তাকিয়ে সময় আন্দাজ করতেন । ১৮৭৪ সালে সুরমা নদীর তীরে এই ঐতিহাসিক ঘড়িঘরটি নির্মাণ করেন বৃহত্তর সিলেটের কুলাউড়ার পৃথিম পাশার জমিদার নবাব আলী আমজাদ খান।

আসামের গভর্নর লর্ড নর্থ ব্রুকের সিলেট শুভাগমন উপলক্ষে তার সম্মানে এই ঘড়িঘরটি নির্মাণ করা হয় কলকাতার কারিগর দ্বারা। মুক্তিযুদ্ধের আগে ঘড়িটি মেশিন চাবি দিয়ে চালানো হতো। প্রতিদিন ঘড়ির চাবি দেয়ার জন্য তৎকালীন পৌরসভায় একজন কর্মচারী নিযুক্ত ছিল। বিরাট আকারের ডায়াল ও কাঁটা সংযুক্ত সুবিশাল ঘড়িটির ঘণ্টাধ্বনি শহরের বাইরে অনেকদূর থেকেও শোনা যেত। নির্মাণের পর এই আকর্ষণীয় ঘড়িটি দেখার জন্য প্রতিদিন সিলেটের দূর-দূরান্তের গ্রামাঞ্চল থেকে লোকজনের শহরে আগমন ঘটত। সে আমলে মানুষজন শহরের প্রবেশপথে স্থাপিত ঘড়িঘরের সময় দেখে শহরে আসা-যাওয়া ও কাজকর্ম সম্পাদন করতেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close