অন্য পত্রিকা থেকে

মেয়র প্রার্থী জন বিগসের খোলা চিঠি প্রকাশ

প্রিয় বাসিন্দা,

গেল বছরের ১০ মে টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলাম। সেটি ছিলো সেবারের মেয়র নির্বাচনকে সামনে রেখে। লেবার পার্টির প্রার্থী হিসাবে টাওয়ার হ্যামলেটসের ত্কালীন অবস্থা এবং আমার ভবিষ্য্ পরিকল্পনা এতে তুলে ধরেছিলাম। মাত্র এক বছরের মাথায় প্রার্থী হিসাবে আমাকে আবারো অনুরূপ খোলা চিঠি লিখতে হচ্চেছ।

এক বছরের মাথায় আমাকে কেন আবার প্রার্থী হতে হলো এর কারণ ব্যাখ্যা করার দরকার আছে বলে মনে হয় না। নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচন নিয়ে যেসব অপকর্ম হয়েছে তার চূড়ান্ত পরিণতিই হচ্চেছ আগামী ১১ জুনের পুনচ্ঞনির্বাচন।

লুৎফুুর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতি এবং বেআইনী কার্যকলাপের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে মেয়র পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। তাকে ২শ ৫০ হাজার পাউন্ড জরিমানা এবং ৫ বছরের জন্য নির্বাচনে অযোগ্যও ঘোষণা করা হয়েছে। যথাযথ আইন না মানার কারণে তার প্রতিষ্ঠিত পার্র্টি ষ্ক্রটাওয়ার হ্যামলেটস ফার্স্টম্বকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এসব কারণে টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র পদের পুনচ্ঞনির্বাচনে তিনি অংশ নিতে পারছেন না। এর আগে স্বাধীন তদন্ত সংস্থা প্রাইস ওয়াটার কুপার্স হাউস মেয়র প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতির প্রমাণ পায়। প্রমাণ মিলে বহু ক্ষেত্রে নিয়মনীতি না মানার। বিচারকের ভাষায় তিনি দুর্নীতির ষ্ক্রঘোড়াম্ব আর ষ্ক্রকোচম্ব চালিয়েছেন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মানে যা ইচ্চেছ তা করার সার্টিফিকেট প্রাপ্তি হতে পারে না। কিন্তু ল্ফুুর রহমানের প্রশাসনের আমলে আমরা এমনটিই দেখেছি। প্রিয় বাসিন্দা, আপনি হয়তো ভাবতে পারেন, এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে সাবেক মেয়র সম্পর্কে আমি উপরের কথাগুলো বলতে গেলাম কেন?

তিনিতো আর নির্বাচন করছেন না। ভুল রাজনীতি আর ভুল নীতির কারণে একজন সম্ভাবনাময় রাজনীতিবিদের পরিণতি কী হয় তা ব্যাখ্যার জন্যই আমি একথাগুলো বললাম। বাস্তবতা হচ্চেছ তিনি দৃশ্যপটে না থাকলেও নেপথ্যে রয়েছেন। কারণ তার সমর্থিত একজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। আর আমার সাথে আপনারাও নিশ্চয়ই এক মত হবেন যে, তার সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে এই ভুলের জগ্ থেকে বের হওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। পানি গড়িয়ে অনেক দূরে চলে গেছে। এটাই বাস্তবতা। লুৎফুর রহমান দাবী করেন তিনি বাঙ্গালীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়ছেন।

অন্যদিকে আদালতের বিচারক বলেছেন, ষ্ক্রল্ফুুর রহমানের কারণে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন টাওয়ার হ্যামলেটসের বাঙ্গালী কমিউনিটিম্ব। আমি বিচারকের সাথেই একমত পোষণ করবো। যারা তাকে বিশ্বাস করে ভোট দিয়েছিলেন তাদেরকে তিনি হতাশই শুধু করেননি, অপমানও করেছেন। অন্যের উপর দায় চাপিয়ে তিনি টাওয়ার হ্যামলেটসে বাঙ্গালীর নেতৃত্বের বিকাশকে পিছিয়ে দিয়েছেন। যে ধারাবাহিকতায় তিনি উঠে এসেছিলেন সেই পথও তিনি আগলে ধরেছেন। এটা অনেক ক্ষতির মাঝে একটা বিশেষ ক্ষতি। এটা হচ্চেছ একজন ব্যক্তির উচ্চচাকাঙক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নানামুখি দূর্নীতি, যার কারণে আমাদের সকলেরই ক্ষতি হলো।

আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি, এটি অবশ্যই ত্পার্যপূর্ণ যে, এখানে বাঙালি কমিউনিটি তাদের রাজনৈতিক নেতাদের অর্জন নিয়ে গর্বিত হবেন। উদাহরণ হিসেবে ধরুন রুশনারা আলীর কথা। তিনি একজন সফল এমপি, যিনি উঠে এসেছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশী পরিবার থেকে। তার ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনেক গৌরবের এবং এটি তাকে আলাদাভাবে পরিচিত করেছে। এরপরও তিনি কিন্তু ব্রিটিশ মূলধারারই একজন।

এবার তার সাথে টিউলিপ সিদ্দিক এবং ডচ্ঞ রুপা হক যোগ দিয়েছেন। এটিই ব্রিটেনে বাঙালি কমিউনিটির জন্য ভবিষ্যতের আশার কথা এবং এটিই হওয়া উচ্।ি তারা তাদের ধর্ম, পরিবার, সমাজ-সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য নিয়ে গর্ববোধের পাশাপাশি ব্রিটিশ সমাজের পরিপূর্ণ অংশীদার হবেন।

আপনারা সবাই জানেন যে, গত মেয়র নির্বাচনের সময় আমাকে কীভাবে আঘাত করা হয়েছে। নানা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমার প্রতি চরম অন্যায় করা হয়েছে। চেষ্টা করা হয়েছে আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনকে কলংকিত করার। কিন্তু আদালতে এর কোনটাই প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। উব্বো প্রতিটি মিথ্যা সাবেক মেয়রকে এখন তাড়িয়ে বেড়াচ্চেছ। সাবেক মেয়র এবং তার টিমের কাজের সমালোচকদের বর্ণবাদী এবং ইসলামোফোবিয়া আখ্যায়িত করে বিব্রত করার চেষ্ঠা হয়েছে বারবার। এই চেষ্টা যে এখনো হচ্চেছ না, তা কিন্তু নয়। এটা আক্রমণাত“ক ও বিপজ্জনক রাজনীতি।

এটি অন্যকে বিব্রত করে যে কোন উপায়ে ক্ষমতায় থাকা এবং নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার একটি বেপরোয়া কৌশল। আমি এজন্য গর্ববোধ করি যে, আমি গত কয়েক দশক ধরে এই বারার সব কমিউনিটির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছি। আমি হোমলেস পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছি। স্কুলে ভর্তি হতে না পারা শিশু-কিশোরদের পক্ষে আমি অবস্থান নিয়েছি। নবধ্বইয়ের দশকে আমি বিভক্তি সৃষ্টিকারী লিবারেল প্রশাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়ে লেবার পার্টিকে কাউন্সিলের ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছি।

এই কমিউনিটির ধূলাবালি আমার অঙ্গে জড়ানো। এখানকার বাসিন্দাদের বর্ণ, ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আমি অবগত। আমি অবগত তাদের সেনসিভিটি, ভালোলাগা, চাহিদা সম্পর্কে। তারপরও নির্বাচিত হলে মানুষের আরো কাছে যাবার বিভিন্ন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছি। কমিউনিটির সকল অংশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবার জন্য নির্বাচিত হলে ৩ জন ডেপুটি মেয়র নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছি। ঘোষণা দিয়েছি কাউন্সিল এবং কমিউনিটি সভাগুলোতে জনগণের সরাসরি প্রশ্ন নিব। বাসিন্দাদের চাহিদা জানার জন্য বিবিসি ষ্ক্রকোয়েশ্চন টাইমম্ব এর মতো বারার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করবো। প্রয়োজনে আমার কেবিনেট মিটিং হবে বারার বিভিন্ন ভেন্যুতে। সব অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ আপনাদের আগেই জানিয়ে দেয়া হবে।

এক কথায়, নির্বাচিত হলে আমার প্রথম প্রাধান্য হবে কমিউনিটিতে মিশে জনগণ কী চায় তা শোনা, বাসিন্দাদের প্রশ্ন করার সুযোগ দেয়া এবং সেই আলোকে আমাদের সিদ্ধান্তগুলো যাচাই করা। আমরা স্বচ্চছতা এবং খোলা মনের একটি উদাহরণ সৃষ্টি করতে চাই। টাউন হলের চার দেয়াল থেকে বের হয়ে যাদের প্রতিনিধিত্ব করতে ওয়াদা করেছি তাদের কাছে যেতে চাই। আমি প্রাইভেট ডেভেলপারদের তৈরী করা বিলাশবহুল ফ্ল্যাটকে অতিরঞ্জনের মাধ্যমে নিজের অর্জন বলে চালিয়ে দিব না। সহনীয় ভাড়ার বাড়ী নির্মাণের জন্য আমি কাজ করবো। ৪ অথবা ৫ এর পাশে বসানো প্রতিটি শূন্যের ব্যাখ্যা দিব।

আমি বিশ্বাস করি, এবারের নির্বাচনটি অন্য অনেক কিছুর পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতিতে জনগনের আস্থা পুনরুদ্ধারেরও নির্বাচন। গত ১ বছরে টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক মেয়র প্রশাসনের বিরুদ্ধে আমার মনোভাব যেমন পরিবর্তন হয়নি, তেমনি পরিবর্তন হয়নি টাওয়ার হ্যামলেটস নিয়ে আমার ভবিষ্য্ পরিকল্পনার।

আমি আরো বিশ্বাস করি, লুৎফুর রহমান নানামুখী দূর্নীতির মাধ্যমে আমাদের যেমন ডুবিয়েছেন, তেমনি তার ভুলনীতির আশীর্বাদপুষ্ঠ কোন প্রার্থী অথবা অন্যকারো পক্ষে টাওয়ার হ্যামলেটসকে গর্ত থেকে টেনে তোলা সম্ভব নয়। আমরা দেখতে পাচ্চিছ, ল্ফুুর রহমানের ভুল পরামর্শদাতা এবং তাকে ব্যবহারকারী ব্যক্তিরাই এই প্রার্থীকে ঘিরে আছেন এবং ভবিষ্যতেও যে এরা থাকবেন এই আলামতও স্পষ্ট। এছাড়া সাবেক মেয়র পিছন থেকে যতো কলকাঠি নাড়বেন সমস্যা ততই তীব্র হয়ে উঠবে।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হচ্চেছ, সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে কনজারভেটিভ পার্টি ফ্রি টিকেট পেয়েছে যা ইচ্চেছ তা করার। আগামীতে ব্যয় সংকোচনের অনেক খড়গ নিয়ে তারা হাজির হবে। উদ্দেশ্যহীন, এলোমেলো এবং দূর্বল রাজনীতি আর নেতৃত্ব দিয়ে তাদের মোকাবেলা সম্ভব নয়। টাওয়ার হ্যামলেটসের দূর্বল নেতৃত্বের কারণে সরকার কাউন্সিলে উচ্চচ ক্ষমতাসম্পন্ন ৪ জন কমিশনার নিয়োগ দিয়েছে। তারাই এখন কাউন্সিল পরিচালনা করছেন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো তাদের কাছ থেকেই আসছে। তাদেরকে ফিরিয়ে নেয়াটাও একটা চ্যালেঞ্জ।

নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও অরাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ কতৃক কাউন্সিল পরিচালনা মোটেই সুখকর নয়, অসম্মানজনক। টাওয়ার হ্যামলেটসের জনগণ ভালো নেতৃত্বের অধিকার রাখেন। মুমূর্ষ নেতৃত্ব তাদের প্রাপ্য হতে পারেনা। বারার বার্ষিক ১ বিলিয়ন পাউন্ডের বাজেট নিয়ন্ত্রণে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এই মূহুর্তে আমাদের দরকার আরো পরিণত নেতৃত্ব। আর সেই নেতৃত্বের পিছনে একটি শক্তিশালী দলেরও প্রয়োজন রয়েছে।

রুশনারা আলী এবং জিম ফিটজপ্যাট্রিক – আমার দলের এই দুই এমপিকে সাথে নিয়ে আমি আমার প্রতিশ্রুতিগুলো নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত। এটা কোনভাবেই আমাদের কমিউনিটির এক গ্রুপের বিরুদ্ধে আরেক গ্রুপের অথবা কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া বা হিংসা রেষারেষির কোন বিষয় নয়। ১১ জুনের নির্বাচনটি তাই নানা কারনে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর এ কারণেই আমি লেবার পার্টি থেকে প্রার্থী হয়েছি।

জন বিগস, মেয়র পদপ্রার্থী, টাওয়ার হ্যমলেটস

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close