জাতীয়

ঢাকা ছাড়লেন মোদি: বাংলায় যা বলে সবাইকে চমকে দিলেন

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: দুই দিনের সফর শেষে নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে ভারতের একটি বিশেষ বিমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নরেন্দ্র মোদিকে বিদায় জানান। তার সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদের সিনিয়র সদস্যরাওে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক উন্মুক্ত বক্তৃতা অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি গত ৬ জুন দুইদিনের সফরে ঢাকায় আসেন। তার সফলকালে ১৯টি চুক্তি সই হয়েছে। নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া বিরোধী দলীয় নেতা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে করেন।

মোদির কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ, নোয়াখালি, জীবনানন্দ, সাকিব, সালমা, আড়ং, পদ্মার বন্দনা। এবার অতি অল্প হইলো। এখানে কেউ বলছেন, গ্রামে গেলে ভালো হতো। মোদি বলেন, আমি মনে করি না ৪০ ঘণ্টার সফরে আমি সব কাজ শেষ করে দেশে ফিরতে পারবো। আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে একসঙ্গে চলতে হবে। আমি আবার বাংলাদেশে আসবো। জীবনানন্দ দাশের কবিতা উদ্ধৃত করে বক্তৃতার শেষপর্যায়ে তিনি বলেন, আবার আসিব ফিরে, ধানসিঁড়ির তীরে, এই বাংলায়। কবির ভাষায় মোদির এমন বক্তব্যে সবাই চমকে যান।

বাংলাদেশের আতিথেয়তার কথা উল্লেখ করেন মোদি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মততা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে বলেছেন, বাংলাদেশিদের আতিথেয়তার কথা আপনি ভুলতে পারবেন না। এখানে এসে যে আতিথেয়তা পেয়েছি সত্যি তা ভোলার নয়। আমার তো ইচ্ছা করে বাংলাদেশের বিখ্যাত স্টোর আড়ংয়ে গিয়ে ঘুরে আসি। আমার ইচ্ছা করে, নোয়াখালিতে যাই যেখানে মহাত্মা গান্ধী তার সত্যাগ্রহ আন্দোলন করেছিলেন। আমার ইচ্ছা করে, কুঠিবাড়িতে গিয়ে রবি ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতে ঘুরে আসি। ইচ্ছা করে পদ্মানদীতে বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে নৌকায় ভেসে বেড়াই আর আড্ডা দেই।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত একজনের লেখা এমন উদাহরণ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। তিনি রাস্তায় একটি বিলবোর্ড দেখে আপ্লুত হয়ে যান। কেননা, সেখানে একটি মেয়ে বলছে, আই অ্যাম মেড ইন বাংলাদেশ।

তিনি বাংলাদেশের সালমার উল্লেখ করেন। পর্বত বিজয়ী দুই নারীর কথা উল্লেখ করেন। উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, স্পিকার, বিরোধী দলের নেত্রী নারী সে কথাও। নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে ভারতের অনুপ্রেরণা হতে পারে সেটি তিনি বারবার উল্লেখ করেন।

উল্লেখ করেন সাকিব আল হাসান ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কথাও। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে যে কোনোভাবেই ছোট করা যাবে না সে কথাও তার বক্তৃতায়। নরেন্দ্র মোদির বক্তৃতার বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের সদস্যপদ না পাওয়ার আক্ষেপ। এ বক্তৃতায় তিনি কার্যত নিরাপত্তা পরিষদে সদস্য পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সমর্থন চেয়েছেন।

রোববার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তব্য দেন মোদি। বক্তব্যে মোদি বলেন, আজ একটি কথা আমাকে বলতে হয়, এতদিন যারা মনে করতো আমরা খুব আশপাশে রয়েছি, এখন বিশ্ববাসীকে বিশ্বাস করতে হবে আমরা আশাপাশি রয়েছি, একসাথে রয়েছি।

তিনি বলেন, সত্যি আমি সফল একটা যাত্রা শুরু করতে চলেছি। দুইদিনের সফরে বাংলাদেশের মানুষ, সরকার, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীরা যেভাবে আমাকে সম্মান দেখিয়েছে, তাতে শুধু মোদি একা নয় পুরো ভারতবাসী কৃতজ্ঞ। মোদি বলেন, দু’দিনের সফরের পর শুধু এশিয়া নয় পুরো বিশ্ব বিষয়টির পোস্টমর্টেম করবে। বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে চলব। আমরা তোমার সাথে আছি। আমরা তোমাকে সাথে নিয়ে চলব।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close