ইউরোপ জুড়ে

পর্তুগালে অনুষ্ঠিত হলো বৃহত্তর নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশনের অভিষেক

সাহেদ ইব্রাহীম: পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের কাসা দা কভিলা মিলনায়তনে গত রোববার বৃহত্তর নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশন অব পর্তুগালের নব গঠিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান হয়েছে। ২০১২ সালে বৃহত্তর নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশন অব পর্তুগালের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। গত ২৫শে মে ২০১৫-২০১৬ এর জন্য ৫১ সদস্য বিশিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়, এই উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় এক আলোচনা ও নৈশভোজের।

অনুষ্ঠানে লোকের উপস্থিতি দেখে মনে হচ্ছিল এ যেন বাংলাদেশের এক টুকরো নোয়াখালীর অংশ। মনেই হচ্ছিল না আমরা পর্তুগালে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পর্তুগালে নিযুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ। অতিথি ছিলেন দূতাবাসের প্রথম সচিব মোহাম্মেদ খালেদ, দূতাবাসের সহকারী কনস্যুলার মোহাম্মেদ নুরুদ্দিনসহ দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তারা। লিসবনের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে বাংলাদেশের সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

বৃহত্তর নোয়াখালী অ্যাসোসিয়েশন অব পর্তুগালের সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হুমায়ূন কবির জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মহিন উদ্দিনের সঞ্চালনায় স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে অভিষেক অনুষ্ঠান শুরু। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ, অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা রানা তসলিম উদ্দীন, পর্তুগাল শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল আলম জসিম, পর্তুগাল শাখা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজরুল ইসলাম সিকদার, অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা নুর নবী, শের আলী ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ মামুন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নোয়াখালীর ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন, নোয়াখালী ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি এবং ভাষার দিক দিয়ে প্রাচীন একটি জেলা। নোয়াখালীর প্রাচীন নাম ছিল ভুলুয়া। নোয়াখালী সদর থানার আদি নাম সুধারাম। নোয়াখালী নামের উৎপত্তি নিয়ে নানা জনের নানান মত রয়েছে। সবচেয়ে প্রচলিত মতটি হলো, ত্রিপুরার পাহাড় থেকে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীর পানিতে ভুলুয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভয়াবহ বন্যায় ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসাবমতে ১৬৬০ সালে বিশাল একটি খাল খনন করা হয়, যা পানির প্রবাহকে ডাকাতিয়া নদী হতে রামগঞ্জ, সোনাইমুড়ী ও চৌমুহনী হয়ে মেঘনা এবং ফেনী নদীর দিকে প্রবাহিত করে। এই বিশাল নতুন খালকে নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় নোয়া (নতুন) খাল বলা হতো, এর ফলে ভুলুয়া নামটি একসময়ে পরিবর্তিত হয়ে ১৬৬৮ সালে হয়ে যায় নোয়াখালী। অনুষ্ঠানে লিসবনের বায়তুল মোকাররম মসজিদের সম্মানিত খতিব জনাব আবু সায়েদ মুসলিম উম্মার শান্তি ও সুখ কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন।

এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সহসভাপতি মিজানুর রহমান মাসুদ, সহসাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল করিম মানিক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব সুমন, কাদের বাপ্পিসহ রনি আহমেদ, আমিনুর রহমান, ইমরান হোসেন, আল মাসুদ সুমন, আনিসুল হক রাসেল, মনজুর হোসাইন, রসি, মাহবুব রহমান, তানভীর তুরাজ, তন্ময়, শিশিরসহ সংগঠনের সব সদস্যরা।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close