এশিয়া জুড়ে

হংকংয়ে হোঁচট খেল চীনের সংস্কার প্রস্তাব

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: চীন-সমর্থিত একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক সংস্কার প্যাকেজ প্রত্যাখ্যান করেছেন হংকংয়ের আইনপ্রণেতারা। গণতন্ত্রপন্থী আইনপ্রণেতারা গতকাল বৃহস্পতিবার ওই নির্বাচনী রোডম্যাপের বিরুদ্ধে ভোট দেন। এই রোডম্যাপ নিয়ে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ হচ্ছে খবর এএফপি ও বিবিসির।

ওই সংস্কার প্রস্তাব পাস হলে চীনের পছন্দের লোকজন ছাড়া অন্য কেউ হংকংয়ের আগামী ২০১৭ সালের নির্বাচনে প্রধান নির্বাহী পদপ্রার্থী হতে পারতেন না। এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপন্থী কর্মীরা ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রস্তাবটিকে ‘ভুয়া গণতন্ত্র’ আখ্যা দিয়েছেন তাঁরা।

হংকংয়ের ৭০ সদস্যবিশিষ্ট পার্লামেন্টে প্রস্তাবটি পাসের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ কমপক্ষে ৪৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থনের দরকার ছিল। বেইজিংপন্থী আইনপ্রণেতারা ভোটাভুটি ১৫ মিনিট স্থগিত রাখার অনুরোধ করেন। তবে স্পিকার তা প্রত্যাখ্যান করলে তাঁদের বেশির ভাগই ভোটাভুটি বর্জন করেন। এরপর মাত্র ৩৭ জন আইনপ্রণেতা ভোট দেন। প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে ২৮ ভোট এবং পক্ষে মাত্র আটটি ভোট পড়ে।

এর অর্থ, হংকংয়ের পরবর্তী নেতা নির্বাচিত হবেন অতীতের মতো করেই। আগামী ২০১৭ সালের নির্বাচনেও ১ হাজার ২০০ সদস্যের একটি কমিটির মাধ্যমে প্রধান নির্বাহী নির্বাচিত হবেন। ওই কমিটির বর্তমান সদস্যদের বেশির ভাগই বেইজিংয়ের অনুগত। সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকংকে ১৯৯৭ সালে চীনের হাতে তুলে দেওয়ার পর কয়েক বছর ধরেই সেখানে রাজনৈতিক উত্তেজনা চলে আসছে। হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থীরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে তাঁদের নেতা নির্বাচন করতে চান, যা বর্তমান নিয়মের আওতায় সম্ভব নয়।

এমন প্রেক্ষাপটে হংকংয়ের চীনপন্থী বর্তমান সরকার ২০১৪ সালের শেষের দিকে নির্বাচনব্যবস্থায় একটি সংস্কার পরিকল্পনা প্রকাশ করে। এতে হংকংয়ের সব নাগরিককেই নেতা নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার দেওয়া হয়। তবে তাঁরা কেবল সেই সব প্রার্থীকেই ভোট দিতে পারবেন, যাঁরা একটি বেইজিংপন্থী কমিটির মাধ্যমে প্রার্থী হওয়ার অনুমোদন পাবেন। এমন পরিকল্পনার প্রতিবাদে গত সেপ্টেম্বর মাসে হংকংয়ের কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা টানা দুই মাসের বেশি অবস্থান নেওয়ায় শহরটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close