অন্য পত্রিকা থেকে

অল্পদিনের মধ্যে টিউলিপ-রোশনারা সম্পর্কে ফাঁটল

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: গত ৭ই মে’র ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার পার্টি থেকে তিন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এমপি নির্বাচিত হলে বিশ্ব বাঙালীসহ কমিউনিটিতে আনন্দের বন্যা ভয়ে যায়। নির্বাচিত হওয়ার পর টাওয়ার হ্যামলেটস মেয়র নির্বাচনেও তিন এমপি একত্রে লেবার প্রার্থী জন বিগস এর পক্ষে গত ৬জুন আলতাব আলী পার্কে প্রচারনায় নামেন।

কিন্তু এই সম্পর্কের নাটকীয় মোড় ঘুরে যায় গত ১৪ জুন রবিবার টিউলিপের আপন খালা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রোশনারা আলী ও ড. রূপা হক যোগ না দেওয়ায়। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তিন বাঙালী এমপি উপস্থিত থাকবেন বলে ব্যাপক প্রচারনা চালো হয়। তবে শেষ পর্যন্ত রোশানারা আলী ও ড. রূপা হক সেই সংবর্ধনায় যোগদেননি। আর তাতে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের উপর দারুন ক্ষেপে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর দায়ভার বর্তায় যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ ও টিউলিপের উপর।

সূত্র জানায় এরপর থেকে রোশনারার প্রতি যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ ও টিউলিপ সিদ্দিকী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। আর এর প্রাথমিক প্রতিশোধ হিসেবেই লেবার পার্টির ডেপুটি লিডার পদে দাড়াঁনো রোশনারা আলীকে ভোট না দিয়ে টিউলিপ ভোটদেন অ্যাঞ্জেলা ইগলকে । প্রয়োজনীয় সংখ্যক এমপির সমর্থন না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট আগেই ডেপুটি লিডারের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন রোশনারা আলী।

এদিকে পত্র পত্রিকায় এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। তারা বলছেন, যে টিউলিপের জন্য রোশনারা আলী নির্বাচনের সময় নিজের এলাকা ছেড়ে টিউলিপের জন্য ভোট চেয়ে ক্যাম্পেইন করেছেন সেই টিউলিপই একজন বাঙালী হয়ে আরেক বাঙালীকে ভোট দিলেন না। মাত্র ৬ সাপ্তাহের ব্যবধানে টিউলিপ রোশনারা সম্পর্কের ফাঁটলের খবরে প্রবাসীরা হতাশ।

জানা গেছে, লেবার দলের ডেপুটি লিডারশীপ দৌড়ে একেবারে শেষ মুহুর্তে এসে বাঙালি বংশোদ্ভূত ও একমাত্র এথনিক মাইনোরিটি বা জাতীগত সংখ্যালঘু হিসেবে রোশনারা আলী নিজের নমিনেশন প্রত্যাহারের করার ঘোষণা দেন। বুধবার ছিলো নমিনেশনের শেষ দিন। শেষ সময়ের ৩০ মিনিট আগে রোশনারা আলী নিজের নমিনেশন তুলে নেয়ার ঘোষণা দেন। জানা যায়, রোশনারা আলী শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত ২৫ এমপির সমর্থন লাভ করতে সক্ষম হন। লিডারশীপ দৌড়ের জন্য ৩৫ এমপির সমর্থন লাগে, যদিও ৩৫ এর বেশি এমপি তাকে মৌখিকভাবে আশ্বাসও দিয়েছিলেন।

শেষ মুহুর্তে ভোটাভুটিতে সদ্য নির্বাচিত বাঙালি বংশোদ্ভূত আরেক এমপি টিউলিপ সিদ্দিক রোশনারা আলীকে ভোট না দিয়ে ভোট দেন অ্যাঞ্জেলা ইগলকে। আর পপলার ও লাইম আসন থেকে বাঙালিদের সর্বাধিক ভোটে যিনি ২০ বছর ধরে নির্বাচিত হয়ে আসছেন সেই জিম ফিটজপ্যাট্রিকও রোশনারাকে ভোট না দিয়ে দেন ক্যারোলাইন ফ্লিন্টকে।

শেষ মুহুর্তে লেবার দলের ব্যালট কাউন্টে রোশনারা বুঝে নেন, যারা তাকে কথা দিয়েছিলেন ভোট দিবেন তারা দেননি। ৩৫ ব্যালট থেকে রোশনারার প্রাপ্য ব্যালট এসে দাঁড়ায় ২৫ এ। নিশ্চিত ভরাডুবির আগাম শংকেত বুঝতে পেরেই রোশনারা তাই লিডারশীপ কন্টেস্ট থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন।

ব্যালট কাউন্টিং এ স্বশরীরে উপস্থিত একজন জানালেন, লেবার কখনো এথনিক মাইনোরিটির কাউকেই দলীয় শীর্ষ পদে বসাবেনা। নিজ দলের বাঙালি এমপিও রোশনারার বিপক্ষে সঙ্গত কারণেই। ডেভিড ক্যামেরন যত দুষই দেয়া হোক না কেন, রাজনৈতিক পরিপক্ষতায় ও রাজনৈতিক সততায় লেবারের চাইতে অনেক অনেক এগিয়ে।

তিনি যাকে সমর্থন করেন- শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত তার পেছনে থাকেন। যে কারণে কনজারভেটিভ দলের সকল পর্যায়ের নেতা কর্মীরা ডেভিডের পেছনে একাট্রা। বর্ণ, শ্রেণী এবং জাতীয়তায় এখনো লেবার সেই পর্যায় অতিক্রম করতে না পারার ব্যর্থতা বার বার প্রমাণিত হচ্ছে, তারপরেও অনেকের চোখ কান এখনো বন্ধ করে রেখেছেন- বড় আক্ষেপ করে লেবারের এই নেতা মন্তব্য করলেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close