স্থানীয়

ছিটমহলবাসীদের জন্য জমি কেনাবেচা নিষিদ্ধ

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ভয় দেখিয়ে, প্রভাব খাটিয়ে জমি হস্তান্তর ঠেকাতে ভারত-বাংলাদেশের ১৬২ ছিটমহলে জমি, বাড়ি বিক্রি সাময়িক ভাবে বন্ধ করা হল৷ দু’দেশের ছিটমহলগুলির বাসিন্দারা কে, কোন দেশের নাগরিকত্ব নিতে চান তা জানানোর পর ফের জমি বিক্রি প্রক্রিয়া শুরু হবে৷

১৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে কে কোন দেশের নাগরিকত্ব নিতে চান তার প্রক্রিয়া৷ তার আগে সেখানকার বাসিন্দারা বিশেষ প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের অনুমতি নিয়ে জমি, বাড়ি কেনাবেচা করতে পারবেন৷

ছিটমহল বিনিময় শুরু হওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের এলাকায় থাকা বাংলাদেশের ছিটমহলগুলিতে জমি দখলের উৎপাতের বেশ কিছু অভিযোগ আসে৷ একই অভিযোগ আসতে শুরু করে বাংলাদেশের এলাকায় থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহল থেকেও৷ কুড়িগ্রামের বাঁশকাটা ছিটমহলে জোর করে, ভয় দেখিয়ে জমি হস্তান্তরের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠতে শুরু করে৷ জানা গেছে, আইনের ফাঁক প্রয়োগ করে জমিমাফিয়া ও দালালেরা এই কাজ শুরু করেছে৷

এরপরই বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রক একযোগে সিদ্ধান্ত নেয় নাগরিকত্ব চিহ্নিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের ৫১ এবং ভারতের ১১১টি ছিটমহলে জমি-বাড়ি আপাতত ১৬ জুলাই পর্যন্ত আর কেনাবেচা করা যাবে না৷ ১৬ জুন কলকাতায় হয়ে যাওয়া ভারত-বাংলাদেশ সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে৷ ঠিক হয়েছে পাশাপাশি এই সময়ে চলবে জমির রেকর্ড-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং সংশোধনের কাজ৷

তা নিয়ে আলোচনা করতেই ২৯ জুন ছিটমহলে যাচ্ছেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব বাসুদেব ব্যানার্জি৷

বাংলাদেশ সূত্রে জানা গেছে, ঠিক হয়েছে ভারতীয় ছিটমহল থেকে মূল ভূখণ্ডে যাঁরা চলে আসতে চান, তাঁদের সম্পত্তি স্হানীয় প্রশাসনের কাছে গচ্ছিত রাখা হবে৷ বিনিময় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সেই সম্পত্তির বাজারদর অনুযায়ী অর্থ অথবা সম্পত্তির দলিল প্রশাসনের কাছ থেকে তাঁরা বুঝে পাবেন৷ একই রকম ভাবে

বাংলাদেশের ছিটমহলের বাসিন্দারা মূল ভূখণ্ডে চলে যেতে চাইলে তাঁদের জন্যও একই প্রক্রিয়া কার্যকর হবে৷ বিনিময়ের পর ছিটমহলের বাসিন্দারা যাঁরা যে দেশের নাগরিকত্ব নিয়েছেন তাঁরা নিজেদের দেশে যাতায়াত করবেন হলদিবাড়ি, বুড়িমারি এবং ফুলবাড়ি সীমান্ত দিয়ে৷ বিনিময় পদ্ধতি নিরাপদ করতে সম্পদ রাখা হবে দু’দেশের প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে৷

পাশাপাশি এই সময়ে ছিটমহলবাসীরা যাতে দালালের খপ্পরে না পড়েন তার দিকেও নজর রাখবে দু’দেশের প্রশাসন৷ ৩১ জুলাই মধ্যরাতের পর শুরু হয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে ছিটমহল বিনিময়৷ এই বিনিময়ের ফলে ভারত পাবে ৫১টি ছিটমহলের ৭ হাজার ১১০ একর জমি৷

আর বাংলাদেশ পাবে ১১টি ছিটমহলের ১৭ হাজার ১৬০ একর৷ ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী বাংলাদেশের এলাকায় থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহল এলাকার বাসিন্দা ৩৭ হাজার ১৮৬ জন৷ আর ভারতের এলাকায় থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের নাগরিক ১৪ হাজার ৯০ জন৷ এঁদের মধ্যে কারা নাগরিকত্ব বদল করবেন আর কতজনই বা থেকে যাবেন– তা নির্ধারণ করতে সমীক্ষা হবে ৫ থেকে ১৬ জুলাই৷

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ভূমি ও রাজস্ব দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মানুষের যাতায়াত, নাগরিকত্বের চেয়েও বড় সমস্যা হল জমি৷

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close