ইউরোপ জুড়ে

জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়া হয় যেভাবে

নিউজ ডেস্ক: জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে৷ কিন্তু এ দেশটিতে রাজনৈতিক আশ্রয় পাবার বা প্রদানের প্রক্রিয়াটি কী?

প্রথমত আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে জার্মানিতে এলে সীমান্তে, পুলিশের কাছে, কিংবা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন জমা দিতে হবে৷ নথিভুক্ত হবার পর আবেদনকারীকে পাঠানো হবে প্রাথমিক রেজিস্ট্রেশন ও ট্যানজিট সেন্টারে৷ সেটা কোথায় এবং জার্মানির কোন রাজ্যে, তা নির্ধারিত হয় তথাকথিত ক্যোনিগস্টাইন সূত্র অনুযায়ী৷

জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের ১৬টি রাজ্যে বেঁটে দেয়ার কথা৷ যে রাজ্যের যত বেশি বাসিন্দা, তাকে তত বেশি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী নিতে হবে : যেমন নর্থরাইন ওয়েস্টফালিয়াকে ২১ শতাংশ, কিন্তু ব্রান্ডেনবুর্গকে মাত্র তিন শতাংশ৷ তবে আগন্তুককে যে শিবির বা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হচ্ছে, সেখানে আসন খালি থাকা চাই৷

ট্র্যানজিট সেন্টার

এটা সাধারণত বেড়া দিয়ে ঘেরা একটা জায়গা, যেখানে উদ্বাস্তুদের শোয়ার জন্য বড় বড় ডর্মিটরি, সেই সঙ্গে পুলিশ, ডাক্তার, ক্যানটিন, সবই আছে৷ প্রত্যেক রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীর থাকার জন্য অন্তত সাড়ে ছয় বর্গমিটার জায়গা দিতে হবে৷ খাবার-দাবার, প্রয়োজনে জামা-কাপড়, অসুখ-বিসুখের টিকা এবং অন্যান্য সাহায্যের ব্যবস্থা আছে৷ বাচ্চারা যা-তে স্কুলে যেতে পারে, সেজন্য অতিরিক্ত সাহায্য দেয়া হয়ে থাকে৷

ট্র্যানজিট সেন্টারে উদ্বাস্তুদের ছবি তোলা হয় এবং আঙুলের ছাপ নেয়া হয়– ফেডারাল অপরাধ দপ্তরের জন্য৷ সেখানে সেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট ইউরোপীয় ডাটা ব্যাংকের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অন্য কোনো দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছে কিনা৷

ট্র্যানজিট সেন্টারে ফেডারাল অভিবাসন এবং উদ্বাস্তু দপ্তরের কর্মকর্তারা রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীর স্বদেশত্যাগের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন– অবশ্যই নিভৃতে, প্রকাশ্যভাবে নয়৷ এখানে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীকে মৌখিকভাবে জানাতে হবে, তিনি কেন দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন৷ ভাষান্তরের জন্য দোভাষী উপস্থিত থাকেন৷ আলাপচারিতার পর একটি রিপোর্ট তৈরি করা হয়৷ তারপর নির্দিষ্ট করা হয়, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থনার প্রক্রিয়াটি আদৌ সূচিত করা হবে কিনা৷ বিশেষ করে অন্য কোনো ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ-ভুক্ত দেশ যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রদান– অথবা প্রত্যাখ্যানের দায়িত্বে থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তিকে যথাশীঘ্র সংশ্লিষ্ট দেশটিতে বহিষ্কার করা হয়ে থাকে৷

দ্বিতীয় পর্যায়

ট্র্যানজিট সেন্টারে উদ্বাস্তুরা তিন মাসের বেশি থাকতে পারেন না৷ তারপর একটি বিশেষ ফর্মুলা অনুযায়ী তাদের রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়৷ সেখানেও তারা দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলির পরিচালিত যৌথ শিবিরে বাস করেন৷ কিছু কিছু পৌর এলাকায় উদ্বাস্তুদের ফ্ল্যাটেও বাস করতে দেয়া হয়৷ উদ্বাস্তুরা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গেও বাস করতে পারেন। অবশ্য সেই সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রী কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর মতো ঘনিষ্ঠ হওয়া চাই৷

এখন থেকে উদ্বাস্তুরা জার্মানিতে মুক্তভাবে যাতায়াত করতে পারেন৷ তাদের বাসের স্থানগুলো কিন্তু এখন আর ফেডারাল সরকারের আওতায় নেই, বরং জেলা বা নগর প্রশাসনের দায়িত্বে রয়েছে– ফেডারাল সরকার উদ্বাস্তু পিছু একটা থোক টাকা দিয়ে খালাস হচ্ছেন৷

উদ্বাস্তুরা এবার জার্মানিতে কাজও করতে পারেন, যদিও কাজ পাওয়া খুব সহজ কথা নয়৷ নয়ত কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে প্রতি উদ্বাস্তুকে মাসে ৩৫২ ইউরো দেয়া হয়৷ সেই সঙ্গে বাড়িভাড়া এবং হিটিং এর খরচ৷ তার পরও ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত সাহায্য পাওয়া যেতে পারে৷

হ্যাঁ কিংবা না

রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়া হবে কিনা, তা নির্ধারণের প্রক্রিয়া তিন মাসের মধ্যেই সমাপ্ত হওয়ার কথা– কিন্তু বাস্তবে তা-তে অনেক বেশি সময় লাগে, ক্ষেত্রবিশেষে এক বছরেরও বেশি৷ বর্তমানে সিরিয়া এবং ইরাক থেকে আসা উদ্বাস্তুদেরই স্বল্পসময়ের মধ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় পাবার সম্ভাবনা বেশি৷ অপরদিকে সার্বিয়া কিংবা ম্যাসিডোনিয়ার মতো ‘‘নিরাপদ” দেশ থেকে আগত উদ্বাস্তুদের ক্ষেত্রেও স্বল্পসময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা ভাবছেন জার্মান সরকার৷

রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন গ্রাহ্য হলে তিন বছরের ভিসা দেয়া হয় এবং সেই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক সাহায্য পাবার অধিকার৷ অপরদিকে আবেদন অগ্রাহ্য হলে, আবেদনকারীকে বহিষ্কার করার প্রক্রিয়া শুরু হয় : গত বছর জার্মান থেকে দশ হাজার মানুষকে এভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে, মূলত বিমানযোগে৷ তবে সংশ্লিষ্ট উদ্বাস্তুর কোনো পাসপোর্ট না থাকলে, অথবা সংশ্লিষ্ট দেশের জন্য কোনো ফ্লাইট না থাকলে, তাকে সাময়িকভাবে বসবাসের অধিকার দেয়া যেতে পারে– জার্মানে যাকে বলে ডুল্ডুং বা সহ্য করা৷

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close