জাতীয়

আমি ইসলামবিরোধী নই, আমিই বড় মুসলমান বললেন গাফফার চৌধুরী: পাশে দাড়ালেন ইমরান এইচ সরকার

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: সাংবাদিক, কলামিষ্ট আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী গত ৩ জুলাই নিউইয়র্কে আল্লাহর ৯৯ নাম ও সাহাবীদের নামের অর্থ নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের পর দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় উঠছে। ইতিমধ্যে পত্র পত্রিকায় গাফ্ফার চৌধুরীর ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।

এরই প্রেক্ষিতে জ্যামাইকার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগেই ম্যানহাটনে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধির বাসায় নিউইয়র্ক থেকে সম্প্রচারিত টাইম টেলিভিশনে ৩ জুলাই নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন আব্দুল গাফফার চৌধুরী। তিনি সাক্ষাৎকারে যা বলেন, ৩রা জুলাই নিউয়র্কে আমি যে বক্তব্য দিয়েছি, একটি একাডেমিক আলোচনা সভায়, সেটাকে পুজি করে বাংলাদেশের কিছু মৌলবাদী দল রাজনৈতিক পুজি করেছে এবং মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে।

তারা বলেছে যে আমি ধর্ম বিরোধী, রসূল, ইসলাম, এমনকি আল্লাহ অবমাননা করেছি। কোন সাধারণ মানুষের আল্লাহকে অবমাননার শক্তি আছে? এটা প্রচার করাও ধর্ম দ্রোহিতা। এবং এই তথাকথিত ইসলাম পন্থীরা এটাই প্রচার করেছে। আমি নিজে গত ফেব্রুয়ারী মাসে মাত্র ওমরাহ করেছি। সেই ব্যক্তি নিউয়র্কে এসে ধর্মদ্রোহীতা করবে কি কারনে?

আমার যারা নিন্দা করছেন তাদের কাছে একটাই অনুরোধ তারা আমার সম্পূর্ণ বক্তব্য পড়–ন, তারপর যদি মনে করেন আমি ধর্ম আল্লাহ রসূলের বিরুদ্ধে কিছু বলেছি, তখন তার শাস্তি বিধান করেন। কিন্তু এই বিনা বিচারে কিছু এক শ্রেনীর মোল্লার ওসকানিতে তাও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তারা যা করছে এটা নিন্দা করার ভাষা নেই। তারা আমাকে ছোট করেন নি। তারা ধর্মকে আল্লাহ রসূলকেই ছোট করেছে। আমি আল্লাহর ৯৯ নাম সম্পর্কে দেবতাদের নাম বলিনি। আমি যে টা বলেছি, কালচার কিভাবে প্রত্যোকটি সভ্যতা, এক সভ্যতা থেকে আরেক সভ্যতা উপকরণ গ্রহন করে। বাংলা ভাষাকে হিন্দুদের ভাষা বলা হয়। এটা যে সত্যনা এটা প্রমান করার জন্য বলেছিলাম, আরবী ভাষাও ছিল কাফেরদের ভাষা। এটা বলা কি আরবী ভাষার অবমননা?

তার পর বলেছি যে আল্লাহর নাম। উনার নামত আগে কাফেরদের দেবতাদের নামও ছিল। তা না হলে রাসূল্লার পিতার নাম আব্দুল্লাহ কি করে হল? এটাত মুসলমান নাম নয়। এখানে আল্লাহ আছে, এই আল্লাহ ছিল, কাবা শরিফের কাবার প্রতিষ্ঠিত মুর্তির গুলার মধ্যে প্রধান মুর্তি নাম। অবশ্য কেউ কেউ এটাকে ইলাহ বলে, ইলাহ থেকে আল্লাহ শব্দের উৎপত্তি। এইভাবে আমাদের রসূল আরবের যে সাংস্কৃতি ঐতিহ্য ধর্ম বিরোধী নয় সেগুলাকে তিনি গ্রহন করে ছিলেন।

এমন কি হজও ইসলামের হজ নয়। এটাও ২ হাজার ৩ হাজার বছর আগে কাফেরদের প্রবর্তিত হজ্জ। তিনি সেখানে একশ্বরবাদকে যুক্ত করেছেন। এটি আমি বলেছি যেটা হচ্ছে একাডেমিক আলোচনা। আমি সাহাবাদের সম্পর্কে কটুক্তিই করিনি। আমি বলেছি আমরা আরবি ভাষা না জেনে আরবিতে সন্তানদের যে নামকরণ করি সেটা ভুল। আমাদের নামের অর্থটা জানা উচিত, যেমন আবু হুরায়রা এটা রাসূলউল্লাহর সাহাবাদের প্রকৃত নাম নয়। রাসুল উল্লাহ তাকে ঠাট্টা করে বিড়ালের বাবা ডাকতেন। এখন আমরা যেহেতু আরবি জানিনা। আমরা সেই বিড়ালের বাবা নামটা রাখি। যার কাশেম বলে কোন ছেলে নাই, উনি তার নাম রাখেন আবুল কাশেম। এইভাবে আরবি না জানার জন্য, অনেক বিভ্রান্তি হয়।

আমাদের দেশে, মোজাক্কার মোয়ান্নাস বুঝতে পারিনা আরবে অনেক সময় আমরা স্ত্রী লোকের নাম রাখি। এর উদাহরণ দিয়েছি। রাসূল সম্পর্কে বলেছি, রাসূল বললেই বুঝি রাসূল (সা:)কে অবমাননা করেছি। অথচ পন্ডিত নেহেরো যখন সৌদি আরব যান তখন তাকে বলা হয়েছিল মার হাবা ইয়া রসূলে সালাম, হে শান্তির দূত তোমাকে স্বাগত। অথচ বাংলাদেশে গিয়ে যদি কেউ বলে, ওমুক একজন রসূল (এ্যাম্বসেডর) তাকে মুরতাদ বলা হবে।

এই যারা আজকে মুরতাদ বলছে। তারা প্রত্যেকটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলছেন। এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আজকে তারা ধর্মকে ব্যবহার করে ধর্মের অবমাননা করছে। আমি এদের শাস্তি চাই, যারা যুদ্ধাপরাধ করেছে বাংলাদেশে ৩০ লাখ মানুষের মৃতুর জন্য দায়ী যারা পরবর্তী কালে সমস্থ রকম মুক্ত বুদ্ধি, মুক্ত চিন্তার ধার বন্ধ করে দিয়ে ইসলামের নাম করে ব্যবসা করতেছে, ব্যাংক করতেছে, ইনস্যুরেন্স কোম্পানী করতেছে এবং আজকে যারা ধর্মকে রাজনৈতিক পুজি করেছে তারাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, আমি তাদের চাইতে অনেক বড় মুসলমান।

[youtube id=”xqJ_UVzjH0U” width=”600″ height=”350″]

গাফফার চৌধুরীর পাশে দাড়ালেন ইমরান এইচ সরকার

সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ’র ৯৯ নাম নিয়ে আবদুল গাফফার চৌধুরীর দেয়া বক্তব্যে সমর্থন দিয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। সোমবার ৬ জুলাই নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি এই সমর্থন জানান। এদিকে ফেসবুকের পোস্টটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে তিনি একে ‘বুস্ট’ (ফেসবুককে টাকা দিয়ে প্রচারণা) করেন তিনি।

ডা. ইমরানের পোস্টটি পাঠকদের জন্য তুলে দেয়া হলো:

আমি আবদুল গাফফার চৌধুরীর নিউইয়র্কে দেয়া পুরো বক্তব্যটি শুনলাম। এক বার দুই বার না, বার বার শুনলাম। তিনি ধর্মের অবমাননা করলেন কোথায় আমার ঠিক বোধগম্য নয়। হ্যাঁ, তবে পাকিস্তানী মওদুদিবাদী আর সৌদি ওয়াহাবি ধর্মব্যবসায়ী মোল্লাদের মুখোশ উন্মোচন করায় তারা কিছুটা ঘেউঘেউ করবে এটা অস্বাভাবিক নয়। নয়াদিগন্তের মতো একটা গোয়েবলসীয় পত্রিকার খবরে যারা চিলের পিছে দৌঁড়াচ্ছেন, তাদের কাণ্ডজ্ঞানহীন ছাড়া আর কিছু বলার নাই।

আমি ব্যক্তিগত সখ্যতা থেকে যতটুকু জানি, তিনি মাদ্রাসায় পড়ার সুবাদে ধর্ম সম্বন্ধে খুব পরিষ্কার জ্ঞান রাখেন, যা ভণ্ড মওদুদীবাদীদের চেয়ে অনেকগুণ বেশি। আগামী ১০ বছরে পাকিস্তান বিলুপ্ত হবে, চৌধুরী সাহেবের এই ভবিষ্যদ্বাণীই আমার ধারণা এই ঘেউঘেউয়ের প্রধান কারণ। এখানে ধর্ম একটা উপলক্ষ মাত্র।

তার সাথে সম্পূর্ণ একমত হয়ে বলতে চাই, যতোদিন আমাদের সাথে বাংলা ভাষা, রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্গবন্ধু থাকবে ততোদিন কেউ আমাদের পাকিস্তান, আফগানিস্তান কিংবা সৌদি আরব বানাতে পারবে না। এই বাংলাদেশ, বাঙালিত্ব, বাংলা ভাষাকে কেউ মুছে দিতে পারবে না ইনশাআল্লাহ্।

সবাই বলুন ‘জয় বাংলা’। শান্তির ধর্ম ইসলামের আসল শত্রু মওদুদিবাদ, ওয়াহাবিবাদ নিপাত যাক। এদিকে আল্লাহর ৯৯ গুণবাচক নাম, রাসুল (স.) ও সাহাবীদের নিয়ে কটূক্তি করায় আওয়ামীপন্থী কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে তওবা করে আবার মুসলমান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী।

দশম সংসদের দ্বিতীয় বাজেট অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে স্পীকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ আহ্বান জানান তিনি।

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close