অন্য পত্রিকা থেকে

সিলেটে রাজন হত্যাকান্ড: প্রতিবাদে তারকারাও সোচ্চার

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: সামিউল আলম রাজন। সিলেট মহানগরীর কুমারগাঁওয়ে ১৩ বছরের কিশোর। ৮ জুলাই বুধবার তাকে হত্যা করে গুম করার সময় পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। রাজনকে হত্যার আগে একটি দোকানের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে প্রায় দেড় ঘণ্টা নির্যাতন করা হয়।

এ সময় পানির জন্য আকুতি জানালেও রাজনকে এক ফোটা পানি দেয়নি নির্যাতনকারীরা। লাশ উদ্ধারের পর এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ছড়িয়ে পরে বিভিন্ন মাধ্যমে। আর প্রতিবাদের ঝড় উঠে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকেও। এমন হৃদয় বিদারক ঘটনায় মর্মাহত হয়ে প্রতিবাদে ফেসবুকে ফুসে উঠেছেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও।

এ সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন- ‘রাজন ভাইয়াটা আমার..। বারো আউলিয়া যেই মাটিতে শুয়ে আছে সেই মাটিতে কিভাবে ওই মানুষরূপি জানোয়ারগুলো দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে, আমি জানি না … সারা সিলেটবাসী এবং আমরা সবাই হয়ত অন্ধ হয়ে গেছি…। ভাইয়া আমার, তুমি প্রচন্ড কষ্ট পেয়ে , তীব্র পিপাসা নিয়ে চলে গেছ ঠিকই কিন্তু আমাদের দিয়ে গেছ প্রিয়জনের কবর খোড়ার মতো কষ্ট (কারণ তোমাকে বাঁচাতে পারিনি) আর বানিয়ে গেছ চরম পিপাসার্ত (কারণ তোমাকে যারা মৃত্যুর সময় একটু পানি খেতে দেয়নি তাদের মৃত্যু না দেখে আমাদের তৃষ্ণা যাবে না)। তুমি যেখানেই থাক ভালো থেক। আর এটা মনে করে শান্তি পেয় যে, এই দুনিয়াটা তোমার যোগ্য ছিল না। ফি আমানিল্লাহ।’

জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী আক্ষেপ করে লিখেছেন- ‘কেন আমি আজকে ফেসবুকে ঢুকতে গেলাম? আর কেনই বা এই বিভৎস ঘটনা জানলাম ? হয়তো এই ঘটনার বিচার হবে, অপরাধীর শাস্তিও হবে । কিন্তু যে কালি মনে লেগেছে, এটা মুছবে কেমনে?’

জনপ্রিয় উপস্থাপক আবদুন নূর তুষার লিখেছেন- ‘রাজন এর বয়স মাত্র ১৩ । তার পক্ষে কি একটা আস্ত রিকশা ভ্যান চুরি করা সম্ভব? এই বয়সে এমন নিষ্পাপ চেহারার ফোলা ফোলা গাল এর একটি শিশুর হয়তো ঘুড়ি ওড়ানোর কথা, রিকশার টায়ার কাঠি দিয়ে ঘোরানোর কথা , লাফ দেবার কথা পুকুরে, অন্যের গাছ থেকে একটা দুটো আম বা পেয়ারা পাড়ার কথা। স্কুলে যাবার কথা, মাত্র বড় হচ্ছে, তাই গলাটা ভেঙ্গে পুরুষ হবার মাঝপথে লাজুক সময় পার করার কথা।

একদল পাষন্ড, নরাধম, বিকৃত মস্তিষ্ক নরকের কীট তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। মোবাইল ফোন দিয়ে এই নির্মম, অমানবিক বিভৎস অত্যাচার এর দৃশ্য ভিডিও করে ফেসবুক সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে। এই নির্মমতা আমি চোখে দেখার শক্তি অর্জন করি নাই। আমি কেবল স্থির দৃশ্য গুলি দেখে আতংকিত, ভীত এবং অপরাধীদের প্রতি ঘৃণায় নিমজ্জিত হয়েছি, চোখ ভাসিয়ে কেঁদেছি। যখন এই পশুরও অধম, বেজন্মাগুলি রাজনকে অত্যাচার করছিল, কি ভেবেছিল সে?

তার মায়াভরা চোখ দুটি দেখেও সামান্য দয়া হয়নি এই নরকের জ্বালানীগুলির। খবরে পড়লাম, সামান্য পানি চেয়েছিল রাজন। তাকে নিজের ঘাম খেতে বলেছে এই অত্যাচারী কীটানুকীটগুলি। এই রমজান মাসে, সংযমের মাসে নাকি শয়তানেরও লজ্জা হয় অন্যায়ে। আর এই নির্দয়, নিষ্ঠুর, বিকৃতমস্তিষ্ক সাইকোপ্যাথদের হাতে ঠান্ডা মাথায় নিহত হয়েছে রাজন। রাজন গরীবের ছেলে, রাজন এর জীবন তাই বলে মূল্যহীন হতে পারে না।

রাজন তো আমার সন্তান, আমার পুত্র, আমার আত্মীয়। বাংলাদেশের ক্রিকেট জয়ে উদ্বেল আনন্দের একটি দিনে আমি কেবলি কেঁদেছি। এই কান্না অপারগতার, অক্ষমতার, অসহায়ত্বের। এই কান্না নিজের দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি অবিশ্বাসের। রাজনের হত্যার বিচার না হলে, কেবল চুপ করে থাকার জন্য আমাদের সবার শাস্তি হওয়া দরকার।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার কাছে সবিনয় অনুরোধ জানাই। দেশে কত অপরাধীর কত রকম শাস্তিই না হয়। নাহয় দেশ থেকে কয়েকটি নরাধম এর বিচার হোক দ্রুততম সময়ে। আপনি নির্দেশ দিন। প্রতিটি অপরাধী বন্দী হোক।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close