সিলেট থেকে

রাজন হত্যার আসামী কামরুল সৌদি আরবে আটক: ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পুলিশ ছেড়ে দেয় কামরুলকে

শীর্ষবিন্দু নিউজ: সিলেটের কুমারগাঁওয়ে শিশু সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যার আসামি কামরুল ইসলাম ধরা পড়েছেন সৌদি আরবে। গত বুধবার ১৩ বছরের রাজনকে পিটিয়ে হত্যা এবং নির্যাতনের ভিডিও ইন্টারনেটে দেওয়ার পর ভাই মুহিত আলম ধরা পড়লেও সৌদি প্রবাসী কামরুল (২৪) দেশ ছেড়েছিলেন। সৌদি আরবে তাকে ধরা হয়েছে বলে দেশটিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ সোমবার রাতে বিডিনিউজ নিশ্চিত করেছেন।

হত্যাকান্ড ধামাচাপা দিতে রফা হয়েছিল ১২ লক্ষ টাকায় । ৬ লক্ষ টাকা সাথে সাথে দেওয়া হয়। বাকী টাকা সৌদি আরব পৌছে দেওয়ার কথা ছিল। এ কারণে কামরুল ইসলামকে মামলার প্রধান আসামী করেননি এস আই আমিনুল ইসলাম। প্রধান আসামী করা হয় অন্য জনকে। প্রথমে দুই জনকেই ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিল। অর্থের লেনদেনের মাধ্যমে কামরুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত হিসেবে মামলা দায়ের করে।

ভিডিওতে শিশু রাজন হত্যার সঙ্গে জড়িত লাঠি হাতে কালো টি-শার্ট পরা যার ছবি দেখা যায় সেই কামরুল। প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে পুলিশ বাদী হয়ে করা মামলার অভিযোগকারী জালালাবাদ থানার এসআই আমিনুল ইসলাম প্রধান আসামী করেন মুহিত আলমকে। যে পেশায় একজন মাইক্রোবাসের চালক এবং রাজনের লাশ তার গাড়িতে করে নদীতে ফেলে দেয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, স্থানীয় জনগণ দুপুর ১২টায় রাজনের লাশ এবং মুহিত-কামরুলকে ধরে এসআই আমিনুলের কাছে হস্তান্তর করে। গাড়ির চালক মুহিত আলম সবকিছু তাদের খুলে বলে নাই এটা বিশ্বাস করি না। এমনকি মুহিত আলম রাজনকে চিনতো। ভালো করে চিনত তার বাবাকেও। কিন্তু এসআই আমিনুল জনগণের সাহায্য পাওয়ার পরও রাজনের লাশ বেওয়ারীশ হিসেবে মর্গে পাঠিয়ে দেয়। পাপলু আরও জানান, রাজনের বাবা ছেলেকে সারাদিন খুঁজতে খুঁজতে রাত ১০টায় থানায় জিডি করতে গেলে খবর পান ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশের কাছে মুহিত-কামরুল আটক থাকার পরও কামরুলকে ছেড়ে দেওয়া এবং বেওয়ারীশ হিসেবে রাজনকে মর্গে দেয়া একটা বিষয়কেই ইঙ্গিত করে। তা হলো অনৈতিক লেনদেন।

রাজন হত্যার ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশ জুড়ে তোলপাড়ের মধ্যে সৌদি আরব সফররত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের নির্দেশনা পেয়ে দূতাবাস তৎপর হয় বলে রাষ্ট্রদূত জানান। গোলাম মসীহ বলেন, শাহরিয়ার সাহেব আসার পর আমাদের নির্দেশনা দেন, সে (কামরুল) যদি এসে থাকে, তবে তাকে যে করেই হোক, যেন দূতাবাসের অধীনে আনা হয়।

সে নির্দেশনা মোতাবেক আমরা তা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিই। যে এলাকায় সে থাকত, সেই ঠিকানা নিই। সে এসেছে বলে ইমিগ্রেশনের সহায়তায় নিশ্চিত হওয়ার পর তার এলাকায় গিয়ে তাকে ধরে স্থানীয় পুলিশ সেন্টারে আনা হয়েছে। সেখানে আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে সে। কামরুলকে বাংলাদেশে ফেরাতে কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে, যা স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করতে হবে বলে জানান তিনি। এখন এখানে (সৌদি আরব) অলরেডি ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে, আমরা চেষ্টা করছি, তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। তবে মনে হয় না, ঈদের আগে সম্ভবপর হবে বলেন গোলাম মসীহ।

রাজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড়ের মধ্যে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সোমবারই বলেন, এই ঘটনায় জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গত বুধবার রাজনকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ গুম করার সময় মুহিতকে পুলিশে দেয় জনতা। সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

সোমবার সন্ধ্যায় শেখপাড়া এলাকায় মুহিতের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী লিপি বেগমকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এদিন সকালে সন্দেহভাজন হিসেবে ইসমাইল হোসেন আবলুছ (২২) নামে একজনকে আটক করে পুলিশ।

গত বুধবার সকালে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয় ১৩ বছরের রাজনকে। নির্যাতনের ভিডিও নির্যাতনকারীরা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিলে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এরপর জালালাবাদ থানা পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করে। ওই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন মামলাটির তদন্ত করছেন।

আসামিদের মধ্যে শেখপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মালিকের ছেলে মুহিত (৩৫) ও কামরুল (২৪) ছাড়াও রয়েছেন তাদের সহযোগী আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়না (৪৫)। আলী হায়দার ও ময়না এখনও পলাতক হলেও তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রহমত উল্লাহ জানিয়েছেন।

রাজনকে নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তারে বিশেষ দল গঠন করেছে পুলিশ, রহমত উল্লাহ নিজেই ওই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গত রাত থেকেই কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে বলেছেন তিনি।

জালালাবাদ থানার ওসি আক্তার হোসেন এ বিষয়ে বলেন, সেদিন আমি স্টেশনে ছিলাম না। যার ফলে কি হয়েছে পুরো বলতে পারব না। তবে এরকম একটি অভিযোগ শুনতে পাচ্ছি। কেউ যদি এ বিষয়ে কোন অভিযোগ করেন তবে আমরা তদন্ত করব। তিন আরো জানান, মামলাটি এখন তদন্ত করছেন ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close