অন্য পত্রিকা থেকে

সৈয়দ আশরাফের বাসা থেকে আলোতে এলো সাড়ে তিনশ’ ফাইল

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বাসায় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আটকে থাকা প্রায় সাড়ে তিনশ ফাইল এখন আলোর মুখ দেখতে পারে।

নতুন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ইঞ্জিনয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এরইমধ্যে মিন্টুরোডের আশরাফের বাসা থেকে গাড়ি ভর্তি করে ফাইলগুলো সচিবালয়ে আনিয়েছেন। মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সম্মতির জন্য অপেক্ষায় থাকা ফাইলগুলো শিগগির নিষ্পত্তি হবে বলে এখন আশা করা যাচ্ছে।

কারণ, এই ফাইলগুলোর মধ্যে অন্যান্য অনেক বিষয়ের মধ্যে ঢাকা জেলা প্রশাসনের উন্নয়নের অনিয়মের একটি ফাইলও রয়েছে, যেখানে আশরাফের এপিএস (রাজনৈতিক নিয়োগ)’র দুর্নীতির ফাইলও রয়েছে।

গত বছরের ৫ জানুয়ারি মন্ত্রী হওয়ার পর একদিনও সচিবালয়ে বসে দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নেননি সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তার এপিএস সেলিম খান ও পিএসের দায়িত্বে থাকা অশোক মাধব রায় সচিবালয় থেকে ফাইলগুলো নিয়ে যেতেন তার বাসায়। সেখান থেকে প্রয়োজন মনে হলে পিএস বা এপিএস ফাইল আশরাফের সামনে মেলে ধরতেন এবং সই করা হতো। এভাবেই চলছিল!

ঢাকা জেলা পরিষদে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে যারা সীমাহীন দুর্নীতি করেছেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নথি আড়াই মাসেও সৈয়দ আশরাফের অনুমোদন পায়নি। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেক গত এপ্রিলে এ সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদন করে মন্ত্রীর সম্মতির জন্য উত্থাপন করেন। কিন্তু মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ফাইলটি নিষ্পত্তি না করে ধরে রাখেন। এর ফলে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্তদের পার পেয়ে যাওয়ার এক ধরনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, গুরুত্বপূর্ণ এ ফাইলটি আদৌ মন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেননি তার এপিএস সেলিম খান। মূলত সেলিম খানই মন্ত্রণালয় চালাতেন। কেননা, তিনি ছাড়া মন্ত্রীর কাছে কারও ফাইল উপস্থাপন করার ক্ষমতা ছিল না। এ দুর্বলতার সুযোগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের স্তূপ জমেছিল মন্ত্রীর দফতর ও বাসায়। কিছু বিশেষ ফাইল থাকত একেবারে এপিএস সেলিম খানের কব্জায়। অভিযোগ রয়েছে, যারা এপিএসকে খুশি করতে পারতেন তাদের ফাইল দ্রুত মুক্তি পেত।

প্রসঙ্গত, এলজিআরডি মন্ত্রণালয় থেকে ৯ জুলাই সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে অব্যাহতি দিয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

জানা গেছে, ঢাকা জেলা পরিষদের ২০১২-১৩ এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১ হাজার ১৫৬টি ভুয়া প্রকল্পের প্রায় শত কোটি টাকার বিল পরিশোধ করেছেন বর্তমান প্রশাসক হাসিনা দৌলা। দুর্নীতি দমন কমিশন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং অডিট বিভাগের একাধিক তদন্তে ভুয়া প্রকল্পের নামে টাকা উঠিয়ে নেয়ার প্রমাণও মিলেছে। যুগান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব সংবাদ প্রকাশ হলে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদন্ত করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি একাধিক প্রকল্প পরিদর্শন করে রিপোর্ট প্রদান করে। এতে জেলা পরিষদের প্রশাসক হাসিনা দৌলাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তাকে দায়ী করে রিপোর্ট দেয়া হয়। কিন্তু সচিব অনুমোদন করলেও নথিটি মন্ত্রীর কাছে গিয়ে আটকে যায়। এ কারণে ওই তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তবে এ বিষয়ে নাম প্রকাশ করে মন্ত্রণালয়ের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাগজপত্রে অসংখ্য ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়া হয়েছে। এমনকি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মন্দির, গির্জা, কবরস্থানসহ নানা প্রকল্পের নামেও অর্থ লুট করার অভিযোগ রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১ থেকে ২ লাখ টাকার প্রকল্প রয়েছে প্রায় ৪ শতাধিক। এসব প্রকল্পে টাকার পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি। এগুলোর মধ্যে অধিকাংশেরই কোনো কাজ না করে বিল তুলে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতির বাস্তব চিত্র যাচাই করতে যুগান্তরের পক্ষ থেকে নমুনা হিসেবে সম্প্রতি কয়েকটি প্রকল্পের বিষয়ে সরেজমিন অনুসন্ধান করা হয়।

দেখা গেছে, এলাকার যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকল্প বরাদ্দ হয়েছে তা স্থানীয়রা জানেন না। এমনকি ওইসব প্রতিষ্ঠানের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছেও এ বিষয়ে কোনো তথ্যই নেই। অথচ তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দ তুলে নেয়া হয়েছে। এ রকম তথ্য শুনে তারা অনেকে যুগান্তরের কাছে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

ঢাকার মিরপুরে এক সংসদ সদস্যের এলাকায় ৩২টি প্রকল্প দেখিয়ে একইভাবে ৬৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। মিরপুর মাজার রোড, মণিপুর ও কল্যাণপুরের কয়েকটি মসজিদ, মাদ্রাসা ও ক্লাব উন্নয়নের নামে ভুয়া প্রকল্প দাখিল করে এ টাকা উত্তোলন করা হয়।

এদিকে এমন ভয়াবহ দুর্নীতির জানতে পেরে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আসলামুল হক লিখিতভাবে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘তার অগোচরে ২২টি প্রতিষ্ঠানকে কাজ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অথচ এসব বিষয়ে তিনি কোনো ডিও (আধা-সরকারিপত্র) দেননি।’

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close