সিলেট থেকে

রাজন হত্যা: চৌকিদার ময়না রিমান্ডে, আরেকজন গ্রেপ্তার, ৫ লাখ টাকায় আপসের চেষ্টা

শীর্ষবিন্দু নিউজ: পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনের ঘাতকদের পালানোর জট খুলতে শুরু করেছে। বেরিয়ে আসছে একের পর এক অজানা তথ্য। মোটা অঙ্কের বিনিময়ে খুনীদের পালাতে ও দেশত্যাগের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও এখন বহুল আলোচিত। এসব অভিযোগ তুলছেন রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান নিজেই। তার দাবি, ছেলের লাশ পাওয়ার পর পুলিশ মামলা না নিয়ে তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে থানা থেকে বের করে দেয়। এসব অভিযোগ তদন্ত করতে সিলেট মহানগর পুলিশ ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

সিলেটে কিশোর শেখ মো. সামিউল আলমকে (রাজন) হত্যার ঘটনা পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে আপসের প্রস্তাব দিয়ে দেশ ছাড়ে অন্যতম অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম (২৮)। সৌদি আরবের জেদ্দায় আটক ওই কামরুলকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক।

শেখ আজিজুর রহমানের অভিযোগ, থানা পুলিশ মিলে কামরুলকে সৌদিতে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে। এরজন্যে ১২ লাখ টাকার চুক্তি হয় তাদের মধ্যে। চুক্তির অর্ধেকটাকা পুলিশকে হস্তানতর করার পর কামরুলকে পালাতে সহায়তা করে পুলিশ। তার ভাই মুহিতকে ছেড়ে দেবার জন্যে সৌদিতে পৌঁছার পর বাকি ৬ লাখ টাকা দেবার অঙ্গীকার করে কামরুল।

মামলার এজাহারে এসআই আমিনুল উল্লেখ করেন, ৮ জুলাই ভোর ৬টায় ভ্যান গাড়ী চুরিকালে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে মারপিট করলে গুরুতর আহত ও পরবর্তীতে মৃত্যু হয়। সকাল ১১টায় লাশ উদ্ধারের পর এসআই আমিনুল স্ব প্রণোদিত হয়ে থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ কর্তৃক থানায় মামলা দায়েরের পর রাতে নিহতের লাশ শনাক্ত করেন স্বজনরা। এরপর ময়না তদন্ত শেষে পরদিন লাশ দাফন করা হয়। লাশ দাফনের আগেই নিহতের স্বজনরা জানতে পারেন এ ঘটনায় পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে।

এদিকে প্রধান আসামি মুহিত আলমের শ্যালক সন্দেহভাজন ইসমাইল হোসেন আবলুচকে (৩২) গতকাল মঙ্গলবার পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। আর প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া আজমত উল্লা ও ফিরোজ আলী আদালতে জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে সামিউলের বাবা শেখ আজিজুর রহমানের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ৮ জুলাই সারাদিন ছেলে রাজনের কোনো খোজ না পেয়ে, শেখ আজিজুর রহমান কয়েকজন লোক নিয়ে রাত ১১টার দিকে জালালাবাদ থানায় জিডি করতে যান। তারা যাবার আগেই অতি উৎসাহী হয়ে পুলিশের এসআই আমিনুল ইসলাম রাজনকে ‘অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি’ ও ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে একটি হত্যা মামলা (নং ৪) দায়ের করেন। সেখানে সৌদিতে পলাতক কামরুলসহ জড়িত অনেকের নামই ছিল না। লাশ শনাক্তের পর আজিজুর রহমান কামরুলসহ জড়িত সকলের নাম উল্লেখ করে মামলা করতে চাইলে জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন ও এসআই আমিনুল ইসলাম মামলা নেননি। গ্রহণ করা হয়নি তাদের এজহারও। উপরন্তু আজিজুর রহমানকে ‘চোরের বাপ’ বলে অপমান করেন। তারপর ঘাড় ধাক্কা দিয়ে থানা থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাকে বের করে দেওয়ার পর থানার একটি কক্ষে গোপন বৈঠক করেন আলমগীর ও আমিনুল। থানায় তার সাথে ছিলেন রাজনের চাচা শেখ শফিকুর রহমান ও আল-আমিন, মইয়ারচর গ্রামের মুরুব্বী মোহাম্মদ আলী দুদু মিয়া ও মামাতো ভাই আব্দুল মালিক।

সামিউলের বাবা আজিজুর রহমান ও তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে বাদেয়ালি গ্রামে গিয়ে কামরুলের আত্মীয় পরিচয় দেওয়া তিনজন লোক পাঁচ লাখ টাকা আজিজুরকে দেওয়ার প্রস্তাব করে। এতে আজিজুর সম্মত না হওয়ায় ওই তিনজন ফিরে যায়। পরে সামিউলের পরিবারের পক্ষ থেকে কামরুলের প্রস্তাবের বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়। বিভিন্ন সূত্র জানায়, ঘটনার পরপরই গা-ঢাকা দিলেও কামরুল পুলিশের হাতে আটক বড় ভাইকে ছাড়ানোর চেষ্টা শুরু করে। এ চেষ্টার শুরুতে প্রথম দফা পরিচিত আওয়ামী লীগের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে লোক মাধ্যমে যোগাযোগ করে। এতে ব্যর্থ হয়ে শেষে সামিউলের পরিবারের সঙ্গে আপসের প্রস্তাব পাঠায়। পরে সৌদি আরব পালিয়ে যায়।

হত্যার কারণ সম্পর্কে সামিউলের বাবা আজিজুর যৌন নির্যাতনকে একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। গতকাল প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সামিউলকে যৌন নির্যাতন করতে চেয়েছিল চৌকিদার ময়না ওরফে বড় ময়না। রাজি না হওয়ায় চৌকিদার চুরির অভিযোগ তুলে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য গিয়াসউদ্দিনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কামরুল পালানোর ক্ষেত্রে পুলিশের সঙ্গে ইউপি সদস্য মধ্যস্থতার অভিযোগও করেন তিনি।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানায়, কামরুল গত শুক্রবার বেলা আড়াইটায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি ৪০৪ ফ্লাইটে দেশ ছাড়ে। ইমিগ্রেশনের একজন কর্মকর্তা জানান, কামরুলের সৌদি আরবের রি-এন্ট্রি ভিসা থাকায় শুধু টিকিট করে সহজে চলে যেতে সক্ষম হয়। সামিউলকে নির্যাতনের ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে দেখে সৌদি আরবের জেদ্দায় গত সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় কামরুলকে আটক করেন স্থানীয় বাংলাদেশিরা।

আইজিপি শহীদুল হক গতকাল গাজীপুরে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা মোড় এলাকায় মহাসড়ক পরিদর্শনে গিয়ে বলেন, সামিউল হত্যায় অভিযুক্ত কামরুলকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। সামিউলের বাবা আজিজুর শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিলেন, তিনি ঘটনার দিন বুধবার রাতে থানায় মামলা করতে গেলে সিলেট মহানগরের জালালাবাদ থানার পুলিশ তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। মামলা নিতেও অপারগতা প্রকাশের পাশাপাশি প্রকৃত খুনিদের আড়ালের চেষ্টা চালিয়েছেন। এ ছাড়া মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মামলার অন্যতম আসামি কামরুলকে সৌদি আরবে পালিয়ে যেতেও পুলিশ সাহায্য করেছে।

তদন্ত কমিটি গঠন: সামিউলের বাবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল পুলিশের তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এম রুকন উদ্দিনকে তদন্ত কমিটির প্রধান করে এ কমিটি গতকাল থেকে কাজ শুরু করেছে।

এ ব্যাপারে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. রহমত উল্লাহ বলেন, ‘শিশু সামিউলের বাবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের গাফিলতি এবং ত্রুটিবিচ্যুতি রয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখার জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

মুহিতের শ্যালকও রিমান্ডে: মুহিত আলমের শ্যালক সন্দেহভাজন ইসমাইল হোসেন আবলুচকেও (৩২) রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ইসমাইলকে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেটের জালালাবাদ থানার পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন সাত দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করলে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতে জবানবন্দি : ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া আজমত উল্লা ও ফিরোজ আলী আদালতে জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. সাহেদুল করিম তাঁদের জবানবন্দি ১৬১ ধারায় রেকর্ড করেন। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। গত সোমবার গ্রেপ্তার হওয়া মুহিতের স্ত্রী লিপি বেগমকেও গতকাল কারাগারে পাঠানো হয়।

সামিউলের বাড়িতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনার: শিশু সামিউলের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীন ও সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার মো. কামরুল আহসান। গতকাল বেলা ১১টায় তাঁরা সামিউলের বাড়িতে গিয়ে খুনিদের যথাযথ বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে আশ্বাস দেন। এ সময় জেলা প্রশাসক সামিউলের পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সোলাইমান রুবেল এবং ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পক্ষ থেকেও সামিউলের পরিবারকে অর্থসহায়তা দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, সামিউল হত্যার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে। তিনি জানান, শিশু সামিউলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আজ বুধবার মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি সিলেট আসছেন।

সিলেটের কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গত বুধবার খুঁটির সঙ্গে সামিউলকে (১৪) বেঁধে রোলার দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নির্যাতনকারীরাই সামিউলকে নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ধারণ করে। সামিউলের লাশ ফেলতে গিয়ে ধরা পড়ে কামরুলের বড় ভাই মুহিত আলম (৩৫)। এ ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। মামলায় মুহিত ও কামরুল ছাড়াও হায়দার আলী ওরফে আলী নামে তাদের আরও এক ভাই ও কুমারগাঁওয়ের চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়নাকে আসামি করা হয়।

নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, রাজনের খুনীদের রক্ষার জন্যেই পুলিশ তড়িগড়ি করে মামলা দায়ের করে। অথচ দেখা গেছে, অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হলে জিডি করেই পুলিশ দায়দায়িত্ব শেষ করে। কখনো করা হয় অপমৃত্যু মামলা। কিন্তু রাজনকে চোর ও অজ্ঞাত আখ্যা দেওয়া হলেও এসআই নিজে উদ্যোগী হয়ে করেছেন হত্যা মামলা। তাদের এই অতি উৎসাহই এবং প্রকৃত খুনিদের আড়াল ও পালাতে সহায়তা করার অভিযোগ নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

নিহতের পিতার এজাহার প্রথমে ফিরিয়ে দেয়া হলেও পরবর্তীতে ৯ জুলাই থানায় এএসআই জবা এজাহারটি ‘গৃহিত’ বলে গ্রহণ করলেও রাজনের পিতার এজাহার এখনো মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি।

এসআই আমিনুলের করা মামলায় বাদী করা হয়েছে রাজনের পিতা আজিজুর রহমানকে। আর সেই মামলার তদন্ত করছেন আসামিদের পালাতে সহায়তায় অভিযুক্ত জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন। মামলাটি তারা শেষ পর্যন্ত কোন পরিণতির দিকে নিয়ে যান, এই নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে রাজনের স্বজনদের মধ্যে।

পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগ তদন্তে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এম রোকন উদ্দিনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। অবশ্য, এরই মধ্যে মঙ্গলবার রাতে আলোচিত এস আই আমিনুলকে প্রত্যাহার করে উপ-পুলিশ কমিশনার সদর(উত্তর) কার্যালয়ে ক্লোজড করা হয়েছে।

এডিসি রহমত উল্লাহ জানিয়েছেন, পুলিশের উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করতেই কমিটি করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিলেটের কুমারগাঁওয়ে শিশু সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরেকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ; আগের রাতে গ্রেপ্তার চৌকিদার ময়না মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রোকনউদ্দিন জানিয়েছেন, ডিবির পরিদর্শক সুরঞ্জিত তরফদার এ মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন। গত ৮ জুলাই সকালে চোর সন্দেহে ১৩ বছর বয়সী রাজনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নির্যাতনকারীরাই শিশুটিকে পেটানোর ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ২৮ মিনিটের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবদের ঝড় ওঠে।

ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার দুপুরে কুমারগাঁওয়ের শেখপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় দুলাল মিয়া নামে ৩০ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। জালালাবাদ থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার দুলাল শেখপাড়া গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে। নির্যাতনের সময় দুলালও রাজনকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মারধরের ভিডিওতেও তাকে দেখা গেছে। এদিকে মঙ্গলবার রাতে টুকেরবাজার থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার ৪৫ বছর বয়সী ময়না মিয়াকে বুধবার আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

জালালাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন দশ দিনের হেফাজতে নিয়ে ময়নাকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করলে সিলেটের মহানগর হাকিম শাহেদুল করিম সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাজন হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

গত ৮ জুলাই রাজনের লাশসহ গ্রেপ্তার মুহিত আলমকে (৩৫) সোমবার পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠায় আদালত। মঙ্গলবার মুহিতের শ্যালক ইসমাইল হোসেন আবলুছকেও (৩২) পাঁচ দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ। ত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও তথ্য উদঘাটন করতে মুহিতের স্ত্রী লিপি বেগমকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

এছাড়া নির্যাতনের প্রত্যক্ষদর্শী আজমত উল্লাহ ও ফিরোজ আলী মঙ্গলবার আদালতে স্বীকরোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মুহিতের ভাই কামরুল ইসলাম সৌদি আরবে পালিয়ে গেলেও সেখানে ধরা পড়ছেন। তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় জালালাবাদ থানা পুলিশ যে হত্যা মামলা দায়ের করেছে, তার আসামিদের মধ্যে আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) এখনও পলাতক।

কিশোর রাজন হত্যার প্রতিবাদে গতকাল দিনভর সিলেটে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টায় নগরের চৌহাট্টা এলাকার সিলেটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সিলেটের বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে সামিউল হত্যায় জড়িতদের বিচার ও চিহ্নিতদের ফাঁসির দাবি জানানো হয়।

কর্মসূচিতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্লাস্ট, এথনিক কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (একডো), সিএসআইডি, সচেতন নাগরিক কমিটি, ইয়েস, টিআইবি, সিলেট যুব একাডেমি, মহিলা পরিষদ, দুর্বার নেটওয়ার্ক, মেলা সমাজকল্যাণ সংস্থাসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন অংশ নেয়। বেলা দুইটার দিকে নগরের সুবিদবাজার এলাকায় সিলেট প্রেসক্লাবের সামনে সিলেট ব্লগারস অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্টের উদ্যোগে সামিউল হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বেলা আড়াইটায় ঘটনাস্থল কুমারগাঁও-সংলগ্ন তেমুখী পয়েন্টে সামিউল হত্যার প্রতিবাদে সিলেট সদর উপজেলাবাসীর ব্যানারে একটি প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close