অন্য পত্রিকা থেকে

ওমান থেকে ফিরতে চান ২০ হাজার বাংলাদেশি

জেসমিন পাপড়ি: বিনাশ্রমে নিজ দেশে ফিরতে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য ওমান সরকারের দেওয়া সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়ে দেশে ফিরছেন অবৈধ বাংলাদেশিরা। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজারের মতো বাংলাদেশি দেশে ফেরত আসার আগ্রহে নাম নিবন্ধন করিয়েছেন। তাদের মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজারের মতো শ্রমিক দেশে ফিরেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে এসব কথা জানা গেছে।

এ সাধারণ ক্ষমার আওতায় অবৈধ শ্রমিকরা জেল এবং জরিমানা ছাড়াই দেশে ফিরতে পারবেন। কিন্তু সেখানে বৈধ অভিবাসী হতে পারবেন না। তবে ফেরত আসা শ্রমিকদের দুই-তিনবছর পর বৈধভাবে আবার ওমানে ফেরার সুযোগ রয়েছে। এদিকে ওমান সরকার সাধারণ ক্ষমার এই সময়সীমা বাড়াতে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, ওমান সরকারের দেওয়া সুবিধা নিয়ে দেশে ফেরত আসতে এ পর্যন্ত ১৯ হাজার পাঁচশ ৬৬ জন বাংলাদেশি নাম নিবন্ধন করিয়েছেন। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত এ সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে।

জানা গেছে, গত ৯ জুলাই পর্যন্ত নিবন্ধিতদের মধ্যে দেশে ফিরেছেন ৫ হাজার চারশ’ ৯৫ জন। এছাড়া আগামী ১৬-২৩ জুলাইয়ে মধ্যে ফিরবেন আরও প্রায় ৭শ’ বাংলাদেশি।

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, অবৈধ সব অভিবাসী যাতে সাধারণ ক্ষমার এই সুযোগ নিতে পারেন, এজন্য ওমান সরকারকে সময়সীমা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া তারা নিজেরাও এই চাপ সামলে উঠতে হিমশিম খাচ্ছেন।

সাধারণ ক্ষমা নিয়ে দেশে ফিরতে আগ্রহী অবৈধ শ্রমিকরা নিজ নিজ দেশের দূতাবাস থেকে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করে ওমানের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলেই দেশে ফেরার অনুমতি পাবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ওমানের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ প্রতিদিনি পাঁচশ করে অবৈধ শ্রমিককে দেশে ফেরার পাস দেয়। কিন্তু সাধারণ ক্ষমাপ্রার্থীদের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। এ কারণে চাপ সামলাতে হয়ত সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো হতে পারে।

প্রায় পাঁচ বছর পর সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা সুযোগ দিয়েছে ওমান। এর আগে ২০০৯-১০ সালে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিল দেশটি। তখন প্রায় ৬০ হাজার অবৈধ অভিবাসী এ সুযোগ গ্রহণ করেছিলেন। এবার বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কমপক্ষে পঞ্চাশ হাজার নাগরিক এ সুযোগ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, ওমানে ২০-২৫ হাজারের মতো অবৈধ বাংলাদেশি আছেন। যাদের অধিকাংশই দেশে ফেরার জন্য নাম নিবন্ধন করেছেন। বাকি যারা আছেন তাদের অধিকাংশই দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকেন। সেখানে ধরা পড়ার ভয় কম বলে তারা ফিরতে চান না।

ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর (শ্রম) এ কে এম রবিউল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, বরাবরের চেয়ে এবার সাধারণ ক্ষমার সুযোগে দেশে ফিরতে আগ্রহীদের সংখ্যা অনেক বেশি। যারা দীর্ঘদিন ধরে এদেশে অবৈধভাবে আছেন, তারা এই সুযোগে দেশে ফিরতে পেরে ভীষণ খুশি।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বলছে, ওমানে এখন বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য বিরাট শ্রম বাজার। দেশটি থেকে অবৈধ শ্রমিক ফিরে এলে বৈধভাবে আরও শ্রমিক যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এমনিতেই দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুনাম ও চাহিদা আছে। ফলে সেখানে অবৈধ শ্রমিকের সংখ্যা যতো কম হবে, ততোই দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

সাধারণত উপসাগরীয় দেশগুলো অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে কোনো জরিমানা ছাড়াই দেশ ত্যাগের অনুমতি দেয়। কিছুদিন আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতও দেশটিতে থাকা অবৈধ শ্রমিকদের সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দেয়।

ওমানে বিদেশি শ্রমিকদের সংখ্যার অনুপাতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিক পাঠানোর দিক থেকে ওমান বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক শ্রমবাজার।

গত এপ্রিল মাসে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের ওমান সফরে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নিয়মিত পরামর্শ বৈঠক (এফওসি) অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এ সময় ওমানে বাংলাদেশ থেকে আরও শ্রমিক পাঠানোর ব্যাপারে আলোচনা হয়।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close