আরববিশ্ব জুড়ে

সৌদিতে গৃহকর্মীদের দিয়ে করানো হয় অশ্লীল কাজ

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: সুন্দরী গৃহকর্মীদের ঘরে আনতে জোর আপত্তি খোদ সৌদি আরবের নারীদের। তাদের অভিমত, বিভিন্ন দেশ থেকে সুন্দরী এবং কমবয়সী নারি গৃহকর্মীরা এসে সংসারের অশান্তি বাড়ায়। তাই সৌদি নারীরা সুন্দরী ও কমবয়সী মেয়েদের গৃহকর্মী করতে চান না। গত কয়েকদিন ধরে ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৌদি আরবে গৃহকর্মীদের যৌন নিপীড়নের বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক টুইটারসহ অন্যান্য মাধ্যমে সৌদি নারীরা সরাসরি এসব বিষয় প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ বলেছেন, গৃহকর্মীর কথা বলে এসব মেয়েদের এনে ঘরের পুরুষরা শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালান। নিজের স্ত্রীদের সামনেই তারা এসব কুকর্ম করে থাকেন।

একজন সৌদি নারী লিখেছেন, তার বাসায় প্রায় প্রতি বছরই নতুন একজন করে গৃহকর্মী আনা হয় ফিলিপাইন থেকে। এটা শুধু তার বাসাতেই নয়। সৌদি আরবের ঘরে ঘরে এই সমস্যা। এসব গৃহকর্মীর জন্য প্রতিটি পরিবারে অশান্তি লেগেই আছে। আরব নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে স্পষ্টই বলা হয়েছে, সৌদিতে গৃহকর্মীদের সুরক্ষা নেই।

এক্ষেত্রে দুই ধরণের সমস্যা হচ্ছে। একটি হলো গৃহকর্মীরা মর্যাদা পাচ্ছেন না এবং তারা অতি মাত্রায় যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরে যাচ্ছেন। কোনো কোনো মেয়ে আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন না। দেশে গিয়ে তারা কাজ করার শক্তি হারিয়ে ফেলছেন।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব গৃহকর্মীদের কারণে সৌদি নারীদের পারিবারিক অশান্তি বেড়েই চলেছে। তাই সৌদি নারীরা এখন সরব যেন কোনোভাবেই সুন্দরী তরুণী গৃহকর্মী না ঢোকে তাদের ঘরে। এদিকে দীর্ঘ ৮ বছর পরে সৌদিতে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়া শুরু হয়েছে। নারী গৃহকর্মীরও তালিকা বেশ বড়। ইতিপূর্বে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া নারী গৃহকর্মীরা শারীরিক ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার কারণে এসব মেয়েরা বাংলাদেশে এসে সেসব নৃশংসতা প্রকাশ করেননি।

ফলে সৌদি আরবে বাংলাদেশ থেকে নারী গৃহকর্মী পাঠাতে আরো সরকারকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, সৌদি নারীদের বক্তব্যেই সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে, গৃহকর্মীদের শারীরিক ও যৌন নিপীড়নের যে অভিযোগ আছে তা সত্য। তাই মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে গৃহকর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তারা বলেন, ইউটিউবের কল্যাণে এখন এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনা হরহামেশাই ভাসছে চোখের সামনে।

মানবাধিকার নেত্রী অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, মেয়েদের পাঠিয়ে দিলেই হবে না। সরকারকে এ ব্যাপারে কঠোর মনিটরিং করতে হবে। আর গৃহকর্মী হিসেবে না পাঠাতে পারলে ভালো হয়। অনেক মেয়ে আছে যে টাকা খরচ করে মধ্যপ্রাচ্যে গিয়েছে সেই টাকা তো তুলতেই পারেনি। আবার মৃত্যু পথযাত্রী হয়ে ঘরে ফিরে এসেছে।

মানবাধিকার নেত্রী এলিনা খান বলেন, গৃহকর্মী হিসেবে বাংলাদেশের মেয়েদের পাঠাতে না পারলে ভালো হয়। অন্য কোন কাজ নিয়ে পাঠানো যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই বর্বরতার কথা আমরা সবাই কমবেশি জানি। একারনেই তুলনামুলক বেশী বেতনেও সৌদিতে নারী শ্রমিক পাঠানো কমিয়ে দিয়েছে শ্রীলংকা, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপিন এর মতো অনেক দেশই। তাই দৃষ্টি এখন বাংলাদেশের দিকে।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেছেন, নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

জানা গেছে, মুনিব দ্বারা গৃহকর্মী নির্যাতনে প্রতিকারমূলক আইন নেই সৌদি আরবে। তাই সৌদিতে শ্রমবাজার পূনরায় খোলার স্বস্তি আর খুশিতে একমাত্র দুশ্চিন্তা গৃহকর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে। শ্রমিকরা যেন বিদেশ বিভূঁইয়ে কোন ভাবেই নির্যাতিত না হয় এজন্য সরকারকে জোরালো পদক্ষেপ নেয়ার দাবি মানবাধিকার নেতাকর্মীদের। প্রায় আটবছর পর আবারো বাংলাদেশের শ্রমবাজার উম্মুক্ত করেছে সৌদি আরব। যার শুরুটা হবে নারী শ্রমিকদের যাত্রা দিয়ে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close