যুক্তরাজ্য জুড়ে

নাৎসি ভিডিও নিয়ে ব্রিটিশ রাজপরিবারের তদন্তের দাবি

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ঘটনা আশি বছর আগের। কিন্তু ছাইয়ের গাদা থেকে ফের এভাবে আগুনের ফুলকির মতো পুরনো অতীত সামনে এসে দাঁড়াবে, ভাবতে পারেনি বাকিংহাম প্যালেস। নাৎসিদের প্রতি সহানুভূতি আছে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের চাচা অষ্টম এডওয়ার্ডের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ সুবিদিত।

ইতিহাসের পাতা থেকে প্রায় আশি বছর পুরনো সেই অতীত শনিবার ফের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে ব্রিটিশ রাজপরিবারের। ব্রিটেনের একটি সংবাদপত্রে প্রকাশ করা কয়েকটি ছবি ও তার ইন্টারনেট সংস্কারণে দেওয়া ১৭ সেকেন্ডের একটি সাদা-কালো ভিডিওতে দেখা গেছে স্কটল্যান্ডের বালমোরাল প্রাসাদের লনে ৭ বছরের রানি এলিজাবেথ তার বছর তিনেকের বোন মার্গারেট, মা ও চাচা অস্টম এডওয়ার্ডের সঙ্গে নাৎসি স্যালুট দিচ্ছেন। যে সময়ের ওই ভিডিও, সেই ১৯৩৩ এ চ্যান্সেলর হিসেবে জার্মানিতে রাজত্ব করছেন অ্যাডলফ হিটলার।

সেই সময়কার বাকিংহাম প্যালেসের এমন চিত্র সামনে আসায় স্বাভাবিক ভাবেই নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। রানির মা ১০১ বছর বয়সে ২০০২ সালে প্রয়াত হন। ভিডিওতে উপস্থিত ছিলেন তিনিও। এ নিয়ে রোববার দুঃখপ্রকাশ করলেও পুরো ঘটনায় ক্ষুব্ধ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

বাকিংহাম প্যালেস সূত্রের খবর, ইংল্যান্ডের উইন্ডসর প্রাসাদে পরিবারের ব্যক্তিগত সংগ্রহশালার অতি সংরক্ষিত বিভাগে রাখা আছে ওই ভিডিও। ফলে, তা যে কারও হাতে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। এই অবস্থায় ব্রিটেনের ওই সংবাদপত্র কিভাবে ভিডিওটি হাতে পেল, তা নিয়ে তদন্তের দাবি করেছে রাজপরিবার।

এই ঘটনার তদন্তভার পুলিশের হাতে তুলে দিতে ইতিমধ্যেই সব রকম ব্যবস্থা নিয়ে ফেলেছে বাকিংহাম প্যালেস। তদন্ত করে এও দেখা হচ্ছে, ছবি বানানোর জন্য তথ্যচিত্র নির্মাতাদের রাজপরিবারের ভিডিও দিতে গিয়ে ভুলবশত ওই বিতর্কিত ভিডিওটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না।

রাজপরিবারের আসল ভিডিওটি সংরক্ষিতই রয়েছে দাবি করে সোমবার সংবাদপত্রের তরফে জানানো হয়, ১৯৩৩ সালে তোলা ওই ভিডিওটির বেশ কয়েকটি নকল বাইরে ছড়িয়ে রয়েছে। তারই একটি সম্প্রতি হাতে পেয়েছে তারা। তবে এ কথা মানতে নারাজ রাজপরিবার। তাদের সন্দেহ এ ব্যাপারে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই তারা আইনের সাহায্যে জানার চেষ্টা করছেন, ওই আশি বছর আগের পুরনো ভিডিও প্রকাশের সঙ্গে কোনও অপরাধমূলক কাজের যোগসূত্র রয়েছে কি না।

এদিকে সংবাদপত্রটির বিরুদ্ধে সকাল থেকে টুইটারে নানা বিরূপ মন্তব্য উপচে পড়েছে। কারও অভিযোগ, সংবাদপত্রটি নিজের সীমা ভুলে গিয়েছে, আবার কারও মন্তব্য ওই সংবাদপত্রের মালিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে ভিডিও সামনে এনে ভুল করেছে স্বীকার করতে নারাজ সংবাদপত্রের বক্তব্য, নাৎসি ভাবাবেগ নিয়ে নরম মনোভাবাপন্ন অষ্টম এডওয়ার্ড ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। এই ভিডিওটি অষ্টম এডওয়ার্ডের ব্যক্তিগত মুহূর্ত হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেই তাঁরা তা প্রকাশ করেছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close