অন্য পত্রিকা থেকে

অচল ভারতের পার্লামেন্ট: মুখোমুখি বিজেপি-কংগ্রেস

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি আর প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস পার্লামেন্টে মুখোমুখি অবস্থানে। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় আর একে অপরের বিরোধিতায় রীতিমতো অকার্যকর হয়ে উঠেছে পার্লামেন্ট। পর পর তিন দিন মুলতবি হয়েছে পার্লামেন্টের অধিবেশন।

একদিকে লোলিত মোদি ইস্যু নিয়ে কংগ্রেস পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজের পদত্যাগ দাবি করছে কংগ্রেসসহ বিরোধীরা। এ ছাড়া ভাইপাম কেলেঙ্কারি নিয়ে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানেরও পদত্যাগ দাবি করেছে তারা।

অপরদিকে সোনিয়া গান্ধীর জামাতা রবার্ট ভদ্রের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে কংগ্রেসের ওপর চড়াও হয়েছে বিজেপি। এ নিয়ে গতকাল বিজেপির দুই এমপি পার্লামেন্টে রবার্ট ভদ্রের বিরুদ্ধে বিশেষ সুবিধা লঙ্ঘনের নোটিশ উপস্থাপন করে। অধিবেশন শুরু হবার পর এ নিয়ে টানা তিন দিন পণ্ড হলো পার্লামেন্টের কার্যক্রম।

সংসদ সদস্যদের তুমুল হট্টগোলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ। গতকাল আগেভাগেই সারাদিনের জন্য লোকসভার অধিবেশন মুলতবি করে দেয়া হয়। আর রাজ্যসভায় অধিবেশন মুলতবি রাখা হয় দুপুর দুটো পর্যন্ত। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই। লোকসভায় রবার্ট ভদ্রের বিরুদ্ধে সুবিধা লঙ্ঘনের নোটিশ উপস্থাপন করেন বিজেপি চিফ হুইপ অর্জুন রাম মেঘওয়াল এবং ধরবাদ এলাকার এমপি প্রহ্লাদ যোশি।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিজেপির শীর্ষ তিন নেতা সুষমা স্বরাজ, বসুন্ধরা রাজে, শিবরাজ সিং চৌহানের বিরুদ্ধে বিরোধীদের দুর্নীতি অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতেই এটা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বলা হয়েছে, রবার্ট ভদ্রের মন্তব্য এমপিদের জন্য অবমাননাকর। আর এ ইস্যুটি সংসদের প্রিভিলেজ কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হোক। রবার্ট ভদ্রের বিরুদ্ধে বিশেষ সুবিধা লঙ্ঘনের নোটিশ উপস্থাপনকারীদের এখন প্রমাণ করতে হবে যে, রবার্ট ভদ্রের ফেসবুক মন্তব্য আসলেই সংসদের সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

পর্যবেক্ষকরা অবশ্য বলছেন, এমনটা প্রমাণ করা দুরূহ হবে। ২১শে জুলাই পার্লামেন্টের চলমান অধিবেশন শুরু হওয়ার পূর্বে রবার্ট ভদ্র ফেসবুকে মন্তব্য করেছিলেন যে, সংসদ শুরু হতে যাচ্ছে আর একইসঙ্গে শুরু হতে চলেছে মনোযোগ বিচ্যুতি করতে তাদের সব তুচ্ছ রাজনৈতিক কৌশল। ভারতের জনগণ বোকা নয়। ভারতকে তথাকথিত এমন নেতাদের দ্বারা নেতৃত্ব দিতে দেখাটা হতাশাজনক !! গতকাল লোকসভার অধিবেশনের শুরু থেকেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, বসুন্ধরা রাজে ও শিবরাজ সিং চৌহানের পদত্যাগ দাবি করতে থাকে কংগ্রেস।

এর মধ্যে রবার্ট ভদ্রের ইস্যুটি টেনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলেন বিজেপি এমপি যোশি। সুষমা স্বরাজ ও বসুন্ধরা রাজে সাবেক আইপিএল প্রধান লোলিত মোদিকে সহায়তা করা নিয়ে কংগ্রেসের তোপের মুখে রয়েছেন। আর শিবরাজ সিং চাপের মুখে রয়েছেন ভাইপাম নিয়োগ কেলেঙ্কারি নিয়ে। যোশির মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে জোরালো প্রতিবাদ জানান সোনিয়া গান্ধী। এরপরই তার দলের অন্য সদস্যরা সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন।

সংসদে কংগ্রেস নেতা মাল্লিকার্জুন খার্গে স্পিকার সুমিত্রা মহাজনের কাছে যোশির মন্তব্যকে অবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানান, যেহেতু রবার্ট ভদ্র সংসদ সদস্য নন। কংগ্রেস স্পিকারের কাছে আরও জানতে চায়, বিজেপিকে কেন পার্লামেন্টে রবার্ট ভদ্র বিরোধী প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করার সুযোগ দেয়া হলো। অথচ আগের কংগ্রেস এমপিদের পার্লামেন্টে প্ল্যাকার্ড আনার জন্য কঠোর সমালোচনা করেছিলেন স্পিকার। এসবের জবাবে, স্পিকার কংগ্রেসকে আশ্বস্ত করে বলেন, সংসদে অসংসদীয় কোন কিছু চলতে দেয়া হবে না।

এদিকে কংগ্রেস ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী গতকাল সংসদ অকার্যকর করে রাখতে তার দলের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেছেন, আমরা বলেছি কোন আলোচনার আগে সুষমা স্বরাজ, বসুন্ধরা রাজে ও শিবরাজ সিং চৌহানের পদত্যাগের ঘোষণা আসতে হবে। রাহুল আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমাদের পরামর্শ হলো, আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষের উদ্বেগের কথা শুনুন। এসব বিতর্ক নিয়ে কথা বলার মাধ্যমে তাদের জবাব দিন।

বিরোধীদের দাবির জবাবে সরকার বিতর্ক করতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও শীর্ষ তিন নেতার পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। পার্লামেন্টে বামপন্থি দলগুলোসহ কয়েকটি বিরোধী দল সুষমা স্বরাজ ও দুই মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে কংগ্রেসকে সমর্থন দিয়েছে। দলগুলো এসব দুর্নীতিকে জাতীয় কেলেঙ্কারি বলে আখ্যা দিয়েছে। এদিকে সমাজবাদী পার্টি বলছে তারা শুধু দুই মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চায়।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close