ফিচার

নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ ও সামাজিক বৈষম্য

মোহাম্মদ নজাবত আলী: একটি স্বল্পোন্নত উন্নয়নশীল রাষ্ট্র থেকে ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া একেবারে সহজ কথা নয়। কারণ যে দেশে এখনো ২২শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করছে, দুর্নীতির ভয়াল থাবা, দক্ষ মানব সম্পদের অভাব, রাজনৈতিক বিরোধ, সামাজিক বৈষম্য, চরম বেকারত্ব, সে দেশ কিভাবে আগামী ৩৫বছরের মধ্যে ধনী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হবে বিষয়টি নিঃসন্দেহে বিষ্ময়করও বটে। তাছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা, হানাহানি, ঘুষ, দুর্নীতি সহ নানা কারণে বাংলাদেশে দেশি, বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে।

কয়েকদিন আগে বেশ কয়েকজনের মধ্যে একজন পাঠক ফোন করে বলেন, স্যার আপনার লেখা ইদানিং নিয়মিত বের হচ্ছে না। লেখা প্রকাশ পেলে আপনার অনুভূতি কেমন হয় ? লেখালেখি এক ধরনের শখ, লেখা ছাপানো হলে একজন লেখকের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এক কথায় বলা যায় খুব ভালো লাগে। আমি মূলত লিখি আত্মতৃপ্তির জন্য। আপনারা পাঠক আমাদের প্রেরণার উৎস।

বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক নেতিবাচক সংবাদের মাঝে মধ্যে কিছু সুসংবাদ আমাদের আশান্বিত করে। বাংলাদেশকে ইতিমধ্যে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ হিসাবে বিশ্বব্যাংক স্বীকৃতি প্রদান করেছে। নিঃসন্দেহে এ খবর আমাদের জন্য সুখের। যে বাংলাদেশকে এক সময় তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে বিশ্বে নিন্দিত হয় সে বাংলাদেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে বিশ্বে পরিচিত অর্জন করলো। এক সময় বাংলাদেশকে যারা তলাবিহীন ঝুড়ি বলতো কালের পরিক্রমায় তারাই এখন বাংলাদেশকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছে।

প্রকৃত পক্ষে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আয় বেড়েছে জীবন যাত্রার মান ক্রমশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে গেলেও সব শ্রেণীর মানুষের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হয়নি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিল্প, কৃষি সহ অন্যান্য দিক থেকে দেশ বিগত কয়েক দশকের চেয়ে অনেকটা এগিয়েছে। কৃষিতে বিপ্লব ঘটেছে। খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুন হয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্নতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। কৃষি ক্ষেত্রে এ পরিবর্তন এবং এ কৃতিত্বের অংশীদার এ দেশের কৃষক সমাজ।

খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্নতা অর্জনের কারণেই বাংলাদেশ এই প্রথম ৫০হাজার মেঃটন চাল শ্রীলঙ্কায় রপ্তানীর মাধ্যমে খাদ্য শস্য রপ্তানীকারক দেশের তালিকায় নাম লিখিছে বাংলাদেশ যা আমাদের জন্য বড় সুখবর। তাছাড়া অতিসমপ্রতি নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাংলাদেশ খাদ্য সহায়তাও দিয়েছে।

তবে শুধু খাদ্যে নয়, আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রেও বিপ্লব ঘটেছে। সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা নারী- পুরুষের সমতা অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। নারী শিক্ষার প্রসার নারীর ক্ষমতায়ন এ বিষয়গুলো এখন সারা পৃথিবীতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একটি যুগোপযোগী বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পথে শিক্ষা ক্ষেত্রে পরির্তন এসেছে। যদিও বর্তমান পাশকৃত শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

আমাদের স্মরণ রাখতে হবে শুধু মাথা পিছু আয় বিবেচনায় বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ঠাঁই দিলেও এটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করবে জাতি সংঘ। তার আগেই জাতিসংঘের বোর্ড সভায় এটি অনুমোদিত হতে হবে। জাতিসংঘের বেঁেধ দেওয়া ৩টি সূচকের মধ্যে একটিতে নির্দিষ্ট মান অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ। অন্য দু’টিও মোটামুটিভাবে কাছাকাছি। মাথাপিছু আয় বাড়িয়ে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ানো ও মানব সম্পদ উন্নয়নের সূচকে সামান্য অগ্রগতি হলেই জাতিসংঘের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে স্বীকৃতি পাবে বাংলাদেশ। তবে তার জন্য ৩/৪ বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমনস্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী।

তবে মানব সম্পদ উন্নয়ন সূচকে আমরা তিন-চার বছরে এগোতে পারবো কি না সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। মানব সম্পদ সূচকে নূ্যনতম ৬৬ বা তার বেশি অর্জন করতে হবে বাংলাদেশকে। মূলত পুষ্টি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়নকে মূল্যায়ন করে জাতি সংঘ। জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাবে বর্তমানে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ৬৩.৮-এ অর্থাৎ মধ্যম আয়ের দেশ হতে হলে মানব সম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশকে আরও ২.২-এ যেতে হবে।

তৃতীয় শর্ত অর্থনৈতিক সংকট সূচক এটি মূলত কৃষি, শিল্প, পণ্য ও সেবা রপ্তানী, প্রচলিত অথনৈতিক কর্মকান্ড ছাড়াও জিডিপিতে সম্পূর্ণ পণ্য উৎপাদন ও সেবার অংশীদারিত্ব ও ছোট অর্থনীতির প্রতিবন্ধকতা দূর করা। জাতিসংঘের শর্তানুযায়ী এক্ষত্রে ৩২ বা তার চেয়েও কম অবস্থানে থাকতে হবে। বর্তমান বাংলাদেশের অবস্থান ২৫.১-এ। নিম্ন আয় থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় রয়েছে ৫১টি দেশ। বিশ্ব ব্যাংকের মানদন্ড অনুযায়ী জাতীয় মাথা পিছু আয় ১ হাজার ৪৫ ডলার বা তার নিচে থাকলে সে দেশকে নিম্ন আয়ের দেশ হিসাবে ধরা হয়।

বাংলাদেশ তা থেকে উপরে ১হাজার ৮০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। আমাদের সামনের দিকে এগোতে হলে সততা, দক্ষতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দুর্নীতি দমন, সুশাসন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ধনী দরিদ্রের বৈষম্য কমানোর কোনো বিকল্প নেই। বাস্তবমূখী ও সঠিক পরিকল্পনার বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা অসম্ভব কিছু নয়।

এদিকে আগামী ৩৫বছরে অর্থাৎ ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ধনী রাষ্ট্রের তালিকায় নাম উঠবে। ইংল্যান্ড ভিত্তিক আন্তর্জাতিক কনসালটিং প্রতিষ্ঠান পিডবিস্নউসি তাদের সামপ্রতিক প্রতিবেদনে বলেছে, আগামী ২০৫০সালে অর্থাৎ আজ থেকে ৩৫বছর পর বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান হবে ২৩তম।

অর্থাৎ উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশের তালিকা থেকে ধনী রাষ্ট্রের তালিকায় লেখা হবে বাংলাদেশের নাম। অর্থনীতির বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত, গতি, প্রকৃতি, বিশ্লেষণ করে ইংল্যান্ড ভিত্তিক উক্ত প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য আমাদেরকে অবশ্যই আশাবাদী করে তোলে।

বর্তমান অর্থনীতির ধারা অব্যাহত থেকে ৩৫বছর পর বাংলাদেশ যে, একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক দেশে পরিণত হলে তা হবে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। দেশে তথা মানুষের জীবনযাত্রা উন্নত দেশগুলোর মতো হোক এটা সবাই চায়। কিন্তু চাইলেই বা প্রত্যাশা করলেই সব কিছু হয় না। একটি স্বল্পোন্নত উন্নয়নশীল রাষ্ট্র থেকে ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া একেবারে সহজ কথা নয়।

কারণ যে দেশে এখনো ২২শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করছে, দুর্নীতির ভয়াল থাবা, দক্ষ মানব সম্পদের অভাব, রাজনৈতিক বিরোধ, সামাজিক বৈষম্য, চরম বেকারত্ব, সে দেশ কিভাবে আগামী ৩৫বছরের মধ্যে ধনী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হবে বিষয়টি নিঃসন্দেহে বিষ্ময়করও বটে। তাছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা, হানাহানি, ঘুষ, দুর্নীতি সহ নানা কারণে বাংলাদেশে দেশি, বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। অথচ পৃথিবীর যে কোনো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে অগ্রগতি নির্ভর করে অনেকাংশে বিনিয়োগের ওপর।

সুতরাং উন্নত রাষ্ট্রে উন্নীত হওয়ার নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা দূর করতে না পারলে পিডবিস্নউসির প্রতিবেদনটি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন হবে বলে বিশিষ্টজনরা মনে করেন। তবে পৃথিবীতে কোনো লক্ষ্যপূরণ কঠিন হলেও অসম্ভব কিছু নয়। তাই সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও লক্ষ্য অর্জনে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধ দূরিকরণ, দুর্নীতি রোধ, মানব সম্পদ উন্নয়ন সহ উন্নত রাষ্ট্রে পৌছার ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা দূর করতে পারলে বাংলাদেশ আগামীতে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে এমন আশা অযৌক্তিক নয়।

বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশ করেছে। বিশ্ব ব্যাংকের এ প্রতিবেদনটি আমাদের জন্য গর্ব ও আনন্দের। এ প্রতিবেদনটি প্রমাণ করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এটা সম্ভব হয়েছে ধনী, দরিদ্র, সবার প্রচেষ্টায়। জনগোষ্ঠির পুষ্টি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বয়স্ক শিক্ষা ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন তারাই এ স্বীকৃতি। এতে দেশের ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে উজ্জ্বল হয়েছে। কিন্তু পাশাপাশি এটাও আমাদের মনে রাখতে হবে দেশের সব মানুষই যেন এর সুফল পায়। কারণ রাষ্ট্র উন্নত হলেই সমাজে বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মানুষের উন্নতি সমতাভিত্তিক হয় না। ফলে সমাজে বেড়ে যায় শ্রেণী বৈষম্য।

সমাজের নানা ঘাত প্রতিঘাতের সৃষ্টি হয়। ধনীরা দ্রুত এগিয়ে যায়, আর গরীবরা পেছনে পড়ে থাকে। এর ফলে সমাজে উঁচু, নিচু ভেদাভেদ বাড়ে। তাছাড়া দেশের সব শ্রেণী পেশার মানুষের উন্নতি ঘটছে কি না সেটাও দেখার বিষয়। এখনো বস্তিবাসীদের সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। সারা দেশে প্রায় সাড়ে ২২লাখ মানুষ বস্তিতে বাস করে। এ সমস্ত হতদরিদ্র মানুষরা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত। অশিক্ষা, কুশিক্ষা, পুষ্ঠির অভাবে তাদের সন্তানরা বিভিন্ন রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। দেশের কিছু সংখ্যক লোকের হাতে সম্পদ কুক্ষিগত থাকার কারণে সুবিধাভোগীরা ক্রমশ এগিয়ে যায় সামনের দিকে।

ফলে সমাজে নানা উপদ্রব দেখা যায়। সমাজের সব মানুষের মধ্যে সুষম উন্নয়ন না হলে তাকে প্রকৃত উন্নয়ন বলা যায় না। সমাজে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। অতিসম্প্রতি চাকরির আশায় অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া সহ কয়েকটি দেশে পাড়ি জমাতে গিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়ে কেউ কেউ মৃত্যু বরণ করেছে যা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশকে বলা হয় তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্রতম দেশ। আসলে কি বাংলাদেশ কোনো কালে দরিদ্র ছিল ? এক সময় বাংলাদেশে গোলাভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ ছিল। বলা হতো মাছে ভাতে বাঙালি। আবার বাংলাদেশকে বলা হয় অপার সম্ভাবনার দেশ। কৃষির অপার সম্ভাবনা, শিল্প, প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপূর, ঐহিত্য সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বহুবার উচ্চারিত হয়েছে সম্ভাবনার দেশ হিসাবে। আমাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানব সম্পদ উন্নয়ন, দুর্নীতি রোধ, মানব সম্পদ উন্নয়ন ঘটিয়ে এ দেশ অনেক আগেই নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ নয় বরং একটি উন্নত রাষ্ট্রের সারিতে বাংলাদেশ পেঁৗছিয়ে যেত।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ পরিতাপের বিষয় যে, এ সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে এদেশের বিভিন্ন শাসক দল। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয় করণ, আত্মীয় করণ, সুশাসনের অভাবে বাংলাদেশের প্রত্যাশিত উন্নয়ন ঘটেনি। এদেশের রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াইয়ে ঘুষ দুর্নীতি সহ বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকায় তারা দেশকে তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্রতম দেশের খাতায় নাম লিখিয়েছে। এজন্য দায়ী এদেশের বিভিন্ন শাসকদল যারা দীর্ঘদিন বাংলাদেশকে শাসন করেছে ও করছে।

তবে এক্ষেত্রে বড় দু’টি দল কিছুতেই দায় এড়াতে পারে না। তাদের শাসনামলে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। দুর্নীতি, ন্যায় বিচার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে দেশের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হবে না। আর এ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এদেশের রাজনীতিবিদরা। কৃষক শ্রমিক তো দুর্নীতি করে না বরং কৃষি উৎপাদনে তারা দেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবদান রাখছে। অথচ তারা কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান না। অন্যদিকে শ্রমিকরা কলে কারখানায় উৎপাদন কাজে নিয়োজিত।

অথচ তারাও যথোপযুক্ত বেতন ভাতাদি পান না। সুতরাং একাটি সমাজ, রাষ্ট্র উন্নতির দিকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ঘুষ, দুর্নীতি সহ যে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা কাটিয়ে সক্ষমতা অর্জন করতে পারলে স্বাধীনতার ৪৪বছর পর নয় অনেক আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের সিঁড়িতে পা রাখতো এতে কোনো সন্দেহ নেই। এক তথ্যমতে বর্তমানে দেশে ৩কোটির অধিক বেকার রয়েছে। যোগ্যতা থাকা সত্বেও ঘুষ না দিলে চাকুরী হয় না।

বেকারত্ব একটি অভিশাপ, এ অভিশপ্ত জীবন থেকে তারা মুক্তি পাচ্ছে না। শিক্ষিত, অশিক্ষিত, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় তাদের জীবনে চরম হতাশা নেমে আসে। তাই আমরা বলতে চাই একদিকে চরম সামাজিক বৈষম্য, বেকারত্ব, অন্যদিকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে স্বীকৃতি লাভ বিষয়টি অনেকটা গোলক ধাঁধার মতো। দেশের সর্বশ্রেণীর মানুষের আয় বৃদ্ধি, জীবন যাত্রার সমতা ভিত্তিক উন্নয়ন না হলে তাকে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন বলা যায় কি ?

তবে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। প্রয়োজন দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি, সততা, দক্ষতা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুষ্ঠু পরিকল্পনা, ন্যায় বিচার, সুশাসন। সর্বব্যাপী দুর্নীতিরোধ, স্বচ্ছতা, জবাব দীহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশ এগিয়ে যাবে। পরিশেষে শ্রদ্ধেয় সম্পাদক সহ পাঠক শুভানুধ্যায়ী ও করতোয়া পরিবারকে জানাই পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা।

লেখকঃ শিক্ষক ও কলামিস্ট

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close